| রবিবার, ২৬ জানুয়ারি ২০১৪ | প্রিন্ট
বহুল আলোচিত ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় পাকিস্তানি নাগরিক আবদুল মাজেদ ভাটের সাবেক স্ত্রী নাহিদ লাইলার সাক্ষ্য বাতিল চেয়ে মাজেদ ভাটের করা আবেদন কিছু পর্যবেক্ষণ দিয়ে নিষ্পত্তি করেছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথোপকথন সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়। রোবাবার হাইকোর্টের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, সাক্ষ্য আইনের ১২২ ধারার বিধান অনুসারে সাক্ষীর (নাহিদ) সঙ্গে আবেদনকারীর (মাজেদ ভাট) বৈবাহিক সর্ম্পক বিদ্যমান অবস্থায় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে যোগাযোগ (কথোপকথন ও বার্তা বিনিময়) পরবর্তীতে বিবাহ বিচ্ছেদ হলেও তা সাক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হবে না। তবে আসামিদের বিষয়ে অন্যান্য তথ্যাদি যা অপরাধের সঙ্গে সর্ম্পকিত, তা সাক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হবে। এক্ষেত্রে সাক্ষ্য আইনের ১২২ ধারা অনুসারে সাক্ষ্য বিবেচনা করতে হবে। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউ-এ শেখ হাসিনার জনসভায় গ্রেনেড হামলা ঘটনায় দায়ের করা মামলা ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এ বিচারাধীন। এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে।
গত বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর নাহিদ লাইলা বিচারিক আদালতে ৭৩তম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন। তাঁর সাক্ষ্য প্রত্যাহার চেয়ে সাবেক স্বামী মাজেদ ভাট বিচারিক আদালতে আবেদন করেন। কিন্তু আদালত এ আবেদন খারিজ করে দেন। এ আদেশের কয়েকদিন পর হাইকোর্টে আবেদন করেন মাজেদ ভাট। এ আবেদনের ওপর গত ২৩ জানুয়ারি হাইকোর্টে শুনানি হয়। এরপর রোববার আদালত আদেশ দেন। আদালতে মাজেদ ভাটের পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ জে মোহাম্মদ আলী ও অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল গাজী মো. মামুনুর রশীদ।
আদেশের পর অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেন, বৈবাহিক সর্ম্পক থাকাবস্থায় আসামি মাজেদ তাঁর তৎকালীন স্ত্রী নাহিদের কাছে যেসব কথা বলেছেন তা প্রকাশ করে আদালতে সাক্ষী দেওয়া যাবে না ও তা গ্রহণযোগ্য হবে না। তবে নাহিদের অন্যান্য সাক্ষ্য বিবেচনায় নেওয়া যাবে বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন আদালত। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীতে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলায় আইভী রহমানসহ ২২ জন নিহত এবং শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের শতাধিক নেতা-কর্মী আহত হন।
এ ঘটনায় বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে এ মামলায় সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু ও জঙ্গিনেতা মুফতি হান্নানসহ ২২ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেয় সিআইডি। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর অধিকতর তদন্ত করে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নেতা তারেক রহমান, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী আলী আহসান মুজাহিদ, সাবেক গোয়েন্দা ও পুলিশ কর্মকর্তাসহ ৩০ জনকে আসামি করে সম্পূরক অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। তবে মামলায় অভিযুক্ত তারেক রহমান, তাজউদ্দিনসহ ১৯ জন বর্তমানে পলাতক।
Posted ১১:২৪ | রবিবার, ২৬ জানুয়ারি ২০১৪
Swadhindesh -স্বাধীনদেশ | admin