স্টাফ রিপোর্টার : জনগণের ভোট ছাড়াই ১৫৪টি আসনে নির্বাচিতদের অবৈধ ও জারস সংসদ সদস্য উল্লেখ করে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে আপনি যে সরকার গঠন করবেন সেটা হবে অবৈধ জারজ সরকার। আর সেই জারস সরকারের প্রধানমন্ত্রী হবেন আপনি। তিনি বলেন, বৈধ বাবা ছাড়া সন্তান জন্ম নিলে যেমন ওই সন্তান সমাজে, দেশে-বিদেশেসহ সবক্ষেত্রেই ঘৃণিত ও অবহেলিত হয়, এই জারজ সরকারও ঠিক তেমনি সমাজ, জনগণ, দেশে-বিদেশে ঘৃণিত ও অবহেলিত হবে।
গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে ‘কারারুদ্ধ মাহমুদুর রহমান : অবরুদ্ধ বাংলাদেশ! কোন পথে উত্তরণ?’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (এ্যাব) এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।
শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে দুদু বলেন, আমরা স্বপরিবারে আপনার ধ্বংস চাই না। সঠিক পথে আসুন। ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বন্ধ করুন। তা না হলে গণআন্দোলনের মুখে নতুন বছরের সুর্য দেখতে পারবেন না। তিনি বলেন, শুধুমাত্র একজন ব্যক্তির কারণে আজ গোটা দেশ জ্বলছে। পাখির মতো গুলি করে মানুষ হত্যা করা হচ্ছে। এই একটি মাত্র ব্যক্তি পদত্যাগ করলে ম–হ–র্তের মধ্যে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে, সারা দেশ শান্ত হয়ে যাবে।
বিএনপির দুর্দিনের এই মুখপাত্র প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে আরও বলেন, আপনি কোন পরিবারের সদস্য তা আমরা জানি। আপনার পিতা মাত্র ৩ বছর ৩৫দিনের মাথায় দেশে গণতন্ত্রের কবর রচনা করেছিলেন। দেশে গণতন্ত্র না থাকলে, একটি মাত্র দল থাকলে কি সমস্যা হয় তা আপনি জানেন। দেশকে আর সহিংসতার দিকে ঠেলে দিবেন না, প্রহসনের নির্বাচন বন্ধ করুন।
আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান সম্পর্কে তিনি বলেন, আর মাত্র কয়েকদিন পরেই শেখ হাসিনা এবং যারা মাহমুদুর রহমানকে সাংবাদিক হিসেবে স্বীকার করতে চান না তারাও স্বীকার করবেন, মাহমুদুর রহমান একজন ন্যায় নিষ্ঠাবান লোক, তিনি সত্যের পক্ষের সাংবাদিক। তখন তারা মাহমুদুর রহমানকে সম্মান করবেন। তাকে নির্যাতন করলেও বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী চিন্তিত রয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, সত্যের পক্ষে থাকায় এবং মিথ্যাকে প্রতিষ্ঠা করেননি বলেই মাহমুদুর রহমান আজ বিনাবিচারে কারারুদ্ধ রয়েছেন। দেশে ভারত অথবা মার্কিনপন্থী অনেক সাংবাদিক রয়েছেন, কিন্তু মাহমুদুর রহমান হচ্ছেন বাংলাদেশপন্থী সাংবাদিক।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিব উদ্দিনের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, তফসিল ঘোষণার পর সারা দেশে দেড়’শর বেশি মানুষ মারা গেছে। অথচ আপনি বলছেন এ হত্যার সঙ্গে নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই। মনে রাখবেন, এ হত্যার জন্য আপনারও বিচার করা হবে। মরার পর চুয়াডাঙ্গায়ও আপনার জায়গা হবে না। ৭১-এ গণতন্ত্র ও ভোটারাধিকারের জন্য যুদ্ধ করেছি উল্লেখ করে তিনি বলেন, কিন্তু এখন দেশে গণতন্ত্র ও মানুষের ভোটের সাংবিধানিক অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে। প্রধান বিরোধী দল বিএনপির অফিস বন্ধ, রাস্তায় কোন সভা-সমাবেশ করতে পারে না।
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি রুহুল আমিন গাজী বলেন, একতরফা প্রহসনের নির্বাচনের কারণে বিদেশীরা শেখ হাসিনাকে বয়কট করেছে। এখন আর তার টিকে থাকার সুযোগ নেই। ১৬ কোটি মানুষ এ অবৈধ সরকারকে বিচারের মুখোমুখি করবে। সরকারের পালানোর সুযোগ নেই। এসময় তিনি ঢাকার নেতাদের রাজপথে না নামায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মুনাফেক হয়ে ঘরের মধ্যে এসিতে আর বসে থাকবেন না।
সভাপতির বক্তৃতায় এসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (এ্যাব) ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক প্রকৌশলী আ ন হ আখতার হোসেন পিইঞ্জ বলেন, শুধুমাত্র সরকারের দূর্নীতি-অনিয়ম তুলে ধরা ও সত্য প্রকাশের কারণেই সরকার মাহমুদুর রহমানকে দীর্ঘদিন ধরে কারারুদ্ধ রাখা রেখেছে। দেশ আজ কঠিন সঙ্কটের সম্মুখিন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ অবস্থা থেকে উত্তরণে সরকার পতনের বিকল্প নেই।
হাসিনার পতনই বর্তমান অবরুদ্ধ দেশের উত্তরণের একমাত্র পথ মন্তব্য করে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, দেশ আজ চরম হুমকির সম্মুখিন। এই দেশকে আমরা সিকিম-ভুটানের পরিণতি হতে দেবো না। চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব চাষী নজরুল ইসলাম বলেন, মানুষের পীঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে, সময় ফুরিয়ে গেছে। মানুষ আর এই দু:শাসন ও শেখ হাসিনাকে দেখতে চায় না।
দেশ বর্তমানে ভারতের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে মন্তব্য করে শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মো.সেলিম ভুইয়া বলেন, ৫ জানুয়ারির পাতানো নির্বাচন ভারতের পরিচালনায়ই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বর্তমান কঠিন এই সময়ে তিনি মিডিয়াকে নিরপেক্ষ ভুমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অন্যথায় মানুষ মিডিয়াকে বয়কট করবে।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ বলেন, দেশ বর্তমানে কঠিন সময় পার করছে। এক ব্যক্তির গোয়ার্তোমীর কারণে ১৬ কোটি মানুষ কষ্ট ভোগ করছে। শেখ হাসিনার আজীবন ক্ষমতায় থাকতেই ৫ জানুয়ারি প্রহসনের নির্বাচনের আয়োজন করেছে যা ইতিহাসে নজীরবিহীন।
এ্যাবের ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব প্রকৌশলী হারুন-অর-রশিদ বলেন, দেশী-বিদেশী সব মহলের এতো সমালোচনার পরেও প্রধানমন্ত্রীর কানে তা পৌছে নি। তিনি এখন কৌলশী ভুমিকা নিয়ে বলছেন, ৫ জানুয়ারির পর সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে নির্বাচন দেয়া হবে।
এ্যাবের সাবেক সহ-সভাপতি প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম রিজুর পরিচালনায় আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের (আইইবি) সম্মানী সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মিয়া মো. কাইয়ুম, শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের অতিরিক্ত মহাসচিব জাকির হোসেন, এ্যাব নেতা প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান মানিক, প্রকৌশলী মহিউদ্দিন আহমে সেলিম, প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান চুনু, প্রকৌশলী মোতাহার হোসেন, প্রকৌশলী এ কে এম জহিরুল হক প্রমুখ।