ঢাকা: চলতি সপ্তাহে হরতালের মতো কঠোর কর্মসূচি থেকে বিরত থাকলেও আগামী সপ্তাহ থেকে আবারো কঠোর কর্মসূচি দিতে যাচ্ছে বিএনপি নেতৃত্বধীন ১৮ দলীয় জোট।
আগামী রোববার বিএনপির পাঁচ নেতার রিমান্ড বাতিলের শুনানি হবে। মঙ্গলবার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করার কথা রয়েছে। তাই আগামী সোমবার থেকে আবারো টানা হরতাল কর্মসূচি পালন করা হবে-এমনটাই আভাস দিয়েছেন ১৮ দলের একাধিক শীর্ষ নেতা।
তবে রোববার থেকেও হরতাল হতে পারে বলে জানিয়েছে অপর একটি সূত্র।
নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে ২৫ অক্টোবর থেকে চূড়ান্ত আন্দোলনের ঘোষণা দেয় বিরোধী জোট। সে অনুযায়ী প্রতি সপ্তাহে তিন দিন করে হরতাল পালন করে তারা। সর্বশেষ চার দিনে ৮৪ ঘণ্টা হরতাল পালন করলেও চলতি সপ্তাহে হরতাল কর্মসূচি থেকে বিরত ছিলো ১৮ দলীয় জোট।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠক করে আলোচনার মাধ্যমে চলমান রাজনৈতিক সঙ্কট নিরসনে উদ্যোগ নেয়ার অনুরোধ জানায় বিরোধী দল। রাষ্ট্রপতিও আশ্বাষ দেন। সে অনুযায়ী কয়েকদিন অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেয় তারা।
তবে বুধবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রপতি তাকে নির্বাচনকালীন সরকারের দায়িত্ব পালন করতে অনুমতি দিয়েছেন। নবম সংসদের অধিবেশনের সমাপ্তিও টানেন তিনি।
এছাড়া আগামী সপ্তাহে নির্বাচন কমিশন ১০ম জাতীয় সংসদের তফসিল ঘোষণা করবে বলে জানিয়েছে।
এ সব ঘটনায় আশাহত হয়েছে বিএনপি।
বিএনপি মনে করছে, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য, সংসদ অধিবেশনের সমাপ্তি ও নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার খবরে সরকার সঙ্কট সমাধানে আলোচনা বা সমঝোতার সব দরজা বন্ধ করে দিয়েছে। রাষ্ট্রপতির তরফ থেকে কোনো সুখবর আসবে না, তাই রাজপথে চূড়ান্ত আন্দোলনের মাধ্যমেই দাবি আদায় করতে হবে। এ ছাড়া বিকল্প পথ নেই।
আলাপকালে বিএনপি ও জোটের একাধিক শীর্ষ নেতা বাংলামেইলকে বলেন, তারা জানতেন রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে সঙ্কটের সমাধান হওয়ার আশা নেই। তারপরও তারা রাষ্ট্রপতির কাছে গিয়েছিলেন যেন জনগণ বলতে না পারে বিরোধী দল সমাধানের বিষয়ে আন্তরিক নয়। জনগণ তাদের সঙ্গে রয়েছে, এখন তাদের সর্বাত্মক আন্দোলনে যাওয়া ছাড়া পথ নেই।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান বাংলামেইলকে বলেন, ‘আমরা এখনো আলোচনার মাধ্যমে সঙ্কটের সমাধান চাই। তবে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে অনেক আগেই ঘোষণা দেয়া হয়েছে, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হলে, সেই দিন থেকেই লাগাতার হরতাল অবরোধের মতো কর্মসূচি দেয়া হবে। এখন সেই সময় এসেছে। সোমবার থেকে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আবারও তিন বা চার দিনের টানা হরতাল বা অবরোধের মতো কর্মসূচিতে যাওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। দু’ একদিনের মধ্যেই তা চূড়ান্ত করে ঘোষণা করা হবে।’
জোটের শরিক দল জাগপা’র সভাপিত শফিউল আলম প্রধান বাংলামেইলকে বলেন, ‘এ স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটাতে আন্দোলন ছাড়া বিকল্প নেই। শেখ হাসিনা সরকারের অধীনে যেকোন নির্বাচন প্রতিহত করার জন্য ১৮ দল প্রস্তুত। আগামী সপ্তাহ থেকে সর্বাত্মক আন্দোলনে যাবে ১৮ দল।’
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করার পর সোমবার রাতে খালেদা জিয়া ১৮ দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। তখন পরর্বর্তী কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠক সূত্র জানায়, নেতারা রোববার থেকে লাগাতার কঠোর কর্মসূচি দেয়ার পরামর্শ দেন। কেউ কেউ এবার হরতাল না দিয়ে অবরোধ দেয়ার পক্ষে মত দেন। তফসিল ঘোষণা করা হলে লাগাতার অবরোধ দিয়ে ঢাকাসহ সারাদেশ অচল করার পক্ষেও মত দেন অনেকে। খালেদা জিয়া সবার পরামর্শ শুনেছেন। সবাই খালেদা জিয়ার উপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার ভার দিয়েছেন। তিনি কর্মসূচি চূড়ান্ত করে ঘোষণা করবেন। তবে এর মধ্যে জোটের বৈঠক নাও হতে পারে।