| বুধবার, ১৯ মার্চ ২০১৪ | প্রিন্ট
সিলেট, বৃহস্পতিবার, ২০ মার্চ ২০১৪ :: সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলায় ১৯ দলের পক্ষ থেকে সমর্থন দেয়া হয়েছিল বর্তমান চেয়ারম্যান জামায়াত নেতা মাওলানা লোকমানকে। কিন্তু লোকমানের পক্ষে মাঠে নামেনি বিএনপি। উল্টো বিদ্রোহী হিসেবে মাঠে ছিলেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আলী আহমদ ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট এটিএম ফয়েজ।
গত ১৫ মার্চ অনুষ্ঠিত নির্বাচনে এ উপজেলায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত আবু জাহিদের কাছে প্রায় ৪ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন জামায়াতের লোকমান আহমদ। আর বিএনপির বিদ্রোহী দুইপ্রার্থী মিলে পান প্রায় সাড়ে ২২ হাজার ভোট। ফলে নিজ দলীয় প্রার্থীর পরাজয়ের জন্য বিএনপিকেই দায়ি করছে জামায়াত।
দক্ষিণ সুরমায় পরাজয়ের পর থেকে বিএনপির সঙ্গ ত্যাগ করে ‘একলা চল নীতি’তে চলছে জামায়াত। সিলেট সদরে দলীয় প্রার্থী প্রত্যাহার ও কানাইঘাটে বিদ্রোহী প্রার্থীকে দল থেকে বহিস্কার করা হলেও এখন বেকে বসেছে জামায়াত। দুই উপজেলায় এখনো তারা ১৯ দলীয় জোট সমর্থিত বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে মাঠে নামেনি। উল্টো কানাইঘাটে বহিস্কৃত প্রার্থীর পক্ষে তারা মাঠে নেমেছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
এছাড়া বিয়ানীবাজার উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তারা বিএনপির পক্ষে কাজ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ওই উপজেলায় দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করতে গত সোমবার রাতে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে সিদ্ধান্ত নিয়েছে জামায়াত।
দলীয় সূত্র জানায়- দক্ষিণ সুরমায় নিজেদের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে সিলেট সদর ও কানাইঘাটে বিএনপিকে ছাড় দেয় জামায়াত। প্রতীক বরাদ্দের পর সদরের প্রার্থী জামায়াত নেতা জালাল আহমদ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। অন্যদিকে দলীয় সিদ্ধান্ত না মানায় কানাইঘাটে জামায়াত নেতা এমএ রহিমকে বহিস্কার করা হয়। কিন্তু দুই উপজেলায় ছাড় দিয়েও দক্ষিণ সুরমায় বিএনপির আনুকুল্য পায়নি জামায়াত। উল্টো বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে নির্বাচনে পরাজিত হন জামায়াতের লোকমান আহমদ। এতে বিএনপির উপর চরমভাবে ক্ষুব্ধ হন জামায়াত নেতাকর্মীরা। এই ক্ষোভ থেকে তারা অনুষ্ঠিতব্য বাকি উপজেলাগুলোতে বিএনপি প্রার্থীদের কোন সহযোগিতা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জামায়াত নেতা বলেন- ‘বিএনপির বিশ্বাসঘাতকতার কারণে দক্ষিণ সুরমায় আমরা চেয়ারম্যান হারিয়েছি। আর কোন উপজেলায় আমরা বিএনপিকে ছাড় দিতে রাজি নই। এখন থেকে বিএনপিকে বাদ দিয়েই আমরা আমাদের সিদ্ধান্ত নেব।’
এ ব্যাপারে সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুল গফ্ফার বলেন- দক্ষিণ সুরমায় বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীর জন্য ১৯ দল সমর্থিত জামায়াত প্রার্থী পরাজিত হয়েছেন এটা সত্য। তাই জামায়াত নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভ থাকাটাই স্বাভাবিক। এখন পর্যন্ত তারা সদর ও কানাইঘাটে বিএনপির পক্ষে মাঠে নামেনি। তবে সকল দু:খ-কষ্ট ভুলে তারা জোটের সিদ্ধান্ত মেনে মাঠে নামবেন বলে আশাপ্রকাশ করেন তিনি।
Posted ১২:২৭ | বুধবার, ১৯ মার্চ ২০১৪
Swadhindesh -স্বাধীনদেশ | admin