| শনিবার, ২৫ জানুয়ারি ২০১৪ | প্রিন্ট
স্টাফ রিপোর্টার : দেশের বিভিন্ন স্থানে নির্বাচন পূর্ব ও পরবর্তী সময়ে সহিংসতা, সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন, বিচারবহির্ভ–ত হত্যা, গুম, আইনশৃঙখলা বাহিনীর হাতে মানবাধিকার লঙঘন এবং বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা তদন্তে বিএনপির গঠন করা নাগরিক তদন্ত কমিটির কাজ শুরু হয়েছে। গত ২২ জানুয়ারি পেশাজীবী নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর পেশাজীবীদের সমন¦য়ে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকাগুলোর জন্য পৃথক চারটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। ঘটনাগুলো কীভাবে ঘটেছে, কারা দোষী- তা চিহ্নিত করে এসব কমিটি সুপারিশ আকারে তদন্ত প্রতিবেদন দেবে।
ইতিমধ্যে তিনটি কমিটির সদস্যরা ক্ষতিগ্রস্থ এলাকগুলেতে পৌছে ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও ভিকটিমদের সাক্ষাতকার নেওয়া শুরু করেছেন। আজ রোববার বৈঠকের মাধ্যমে কর্মপদ্ধতি ঠিক করে অবশিষ্ট কমিটির সদস্যরা সংশ্লিষ্ট এলাকার উদ্দেশে রওয়ানা হবেন বলে সংশ্লিষ্ট কমিটির সদস্যরা জানিয়েছেন।
গতকাল শনিবার বিকেলে নীলফামারী, দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁও-এর উদ্দেশে রওয়ানা হন সংশ্লিষ্ট এলাকার ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিটির সদস্যরা। কমিটির আহ্বায়ক সাবেক মন্ত্রীপরিষদ সচিব ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এ এস এম আবদুল হালিম ও সদস্য সচিব জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদের নেতৃত্বে এ কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন, হিন্দু ব্রৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট গৌতম চক্রবর্তী, সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের সদস্য সচিব অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশনের সাবেক সহ-সভাপতি প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম রিজু।
এরআগে শুক্রবার সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও গাইবান্ধা জেলার ঘটনাগুলো তদন্তে দায়িত্ব পাওয়া কমিটির সদস্যরা সংশ্লিষ্ট এলাকার উদ্দেশে রওয়ানা হন। কমিটির আহ্বায়ক বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ও সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া ছাড়াও সদস্য হিসেবে ওই কমিটিতে রয়েছেন, বঙ্গবন্ধু মেডিকেলের সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল মান্নান মিয়া, ঢাকা বি¤¦বিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সহ-সভাপতি অধ্যাপক আখতার হোসেন খান, অবসরপ্রাপ্ত যুগ্ম সচিব হারুন-অর রশীদ, ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট খোরশেদ মিয়া আলম ও কৃষি বিশ¡বিদ্যালয়ের অধ্যাপক গোলাম হাফিজ কেনেডি।
একই দিন কুমিল্লা, চাঁদপুর, লক্ষীপুর ও চট্টগ্রাম জেলার ঘটনগুলো তদন্তে গঠিত কমিটির সদস্যরাও ওইসব এলাকার উদ্দেশে রওয়ানা হন। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শওকত মাহমুদ আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব হিসেবে বিএনপির ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদারের নেতৃত্বে ওই কমিটিতে রয়েছেন, ঢাকা বিশ¡বিদ্যালয়ের অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোসলেম উদ্দিন জসিম, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম মহাসচিব ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু।
এছাড়া আজজ সোমবার বিকেলে আনুষ্ঠানিক এক বৈঠকের মাধ্যমে নিজেদের কর্মপদ্ধতি নির্ধারণ শেষে সাতক্ষীরা, যশোর, কুষ্টিয়া ও মেহেরপুর জেলার ক্ষতিগ্রস্থ এলাকাগুলো পরিদর্শনে রওয়ানা হবেন অপর কমিটির সদস্যরা। সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক রুহুল আমিন গাজী ও সদস্য সচিব জাতীয় প্রেস ক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাদের গণি চৌধুরীর নেতৃত্বে এই কমিটিতে রয়েছেন, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট অলিউর রহমান, বঙ্গবন্ধ শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ¡বিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডা. সিরাজ উদ্দিন আহমেদ, ঢাকা বিশ¡বিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক এ বি এম ওবায়েদুল ইসলাম, বিএনপির ধর্ম বিষয়ক সহ সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুণ্ডু। পৃথক এই চারটি নাগরিক তদন্ত কমিটির সদস্যরা তাদের সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলো পরিদর্শন শেষে হত্যা, গুম, খুন, সংখ্যালঘু হামলার ওই ঘটনাগুলো কীভাবে ঘটেছে, কারা দোষী- তা চিহ্নিত করে সুপারিশ আকারে প্রতিবেদন তৈরী করবে বলে জানান, সাতক্ষীরা, যশোর, কুষ্টিয়া ও মেহেরপুর জেলার ঘটনা তদন্তে গঠিত নাগরিক তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব ও জাতীয় প্রেস ক্রাবের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক কাদের গণি চৌধুরী।
Posted ১১:২৭ | শনিবার, ২৫ জানুয়ারি ২০১৪
Swadhindesh -স্বাধীনদেশ | admin