| বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৩ | প্রিন্ট
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা, ২০ নভেম্বর: সর্বদলীয় সরকারকে মহাজোট সরকারের পূনর্গঠিত রুপ বলে আখ্যায়িত করেছেন বিএনপির অবপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, ‘এ সরকারে মহাজোটের শরিকরা ছাড়া আর কেউই নেই। সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী অর্ধেক দলই এর মধ্যে নেই।’
বুধবার দুপুরে প্রেসক্লাবে বিএনপির নিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানে ৪৯তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, মানুষকে বোকা বানিয়ে, বিভ্রান্তি করে দেশের ভয়ংকর অবস্থা তৈরী করে নির্বাচন করা যাবে না। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড সৃষ্টি করে আগে পরিবেশ তৈরী করার জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানান তিনি।
গণতন্ত্র রক্ষার জন্য ছাত্র সমাজকে জেগে ওঠার আহ্বান জানিয়ে ফখরুল তিনি বলেন, ‘সময় বেশি নেই। যুদ্ধের মাঝামাঝি অবস্থানে আছি। জয়ী হলে স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষা হবে, না হলে গণতন্ত্র বিপন্ন হবে। সব অর্জন ধ্বংস হয়ে যাবে। এ জন্য ছাত্র সমাজকে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে। কারন সকল যুদ্ধেই ছাত্র সমাজ সবচেয়ে বেশী ভূমিকা রেখেছে।’
সরকার রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করে দানবীয়ভাবে বিরোধীদলে ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে অভিযোগ করে ফখরুল বলেন, ‘অগণতান্ত্রিকভাবে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় অবরুদ্ধ করে রেখেছে। জনগনের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে।’
সরকারকে গণতন্ত্র ধ্বংসকারি উল্লেখ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আজ দু:সময়ের মধ্যে দিয়ে দেশ অতিবাহিত হচ্ছে। এই দু:সময়ে স্বৈরাচারী সরকার সকল প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে দিচ্ছে এবং গণতন্ত্রকে ধ্বংসের চক্রান্ত করছে।’
সরকারকে প্রশ্ন রেখে বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘কি কারনে, কেন বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে তথাকথিত সর্বদলীয় সরকারের অধীনে আপনারা নির্বাচন করতে চাচ্ছেন। কে আপনাদের এই ম্যান্ডেড দিয়েছে।’
এ সময় তিনি বিএনপির সকল নেতা-কর্মীদের মুক্তির দাবি জানান। অন্যথায় রাজপথে সরকার পতনে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তাদেরকে মুক্তি করে আনা হবে বলেও হুশিয়ারি দেন।
তারেক রহমানের ওপর একটি বিদেশী সংস্থার জরিপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘স্বৈরাচারী সরকার তারেক রহমানের চরিত্রকে নষ্ট করার জন্য তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছে।’
সভায় চেয়াপার্সনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘বিএনপির নেতা-কর্মীদের হত্যা করতে পারেন কিন্তু ক্ষমতায় থাকতে পারবেন না। সরকার যদি মনে করে নেতাদের গ্রেপ্তার ও হত্যা করে ক্ষমতায় থাকবেন, তাহলে বোকার সঙ্গে বসবাস করছে।’
প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি আরো বলেন, ‘সর্বদলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিয়ে আপনি আর মানুষের কষ্ট, দু:খ ও হতাশা বাড়াবেন না। মানুষকে যদি আপনি কষ্ট দিতে না চান। তাহলে অবিলম্বে সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সম্পৃক্ত করে নির্বাচন দিন।’
আয়োজক সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি বজলুর করিম চৌধুরী আলমের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন ঢাকাবিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক ড. আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, মহিলা দলের সাধারন সম্পাদক শিরিন সুলতানা, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন একাংশের সভাপতি রুহুল আমীন গাজী, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি কামাল উদ্দিন সবুজ, বিশিষ্ট চলচ্চিত্রকার গাজী মাযহারুল আনোয়ার প্রমুখ।
Posted ১৪:১৭ | বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৩
Swadhindesh -স্বাধীনদেশ | admin