| বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৩ | প্রিন্ট
সংসদ ভবন থেকে: নবম জাতীয় সংসদের শেষ অধিবেশনে উন্নয়নের ফিরিস্তি তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সংসদ সদস্যদের প্রশ্নের উত্তরে মহাজোট সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন তিনি। বুধবার ১৯তম অধিবেশনের শেষ কার্যদিবসে এসব প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পরে এখন পর্যন্ত আন্তঃনগর ও মেইলট্রেনসহ মোট ৮৪ টি নতুন ট্রেন বিভিন্ন রুটে চালু হয়েছে এবং ২৪ টি ট্রেনের রূপ বর্ধিত করা হয়েছে।’
রেল সেক্টরকে সরকার অধিক গুরুত্ব দিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ রেলওয়েকে আধুনিক ও যুগোপযোগী সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন করতে সরকার এই সেক্টরকে অধিক গুরুত্ব দিয়েছে। রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আলাদাভাবে রেল মন্ত্রনালয় গঠন করা হয়েছে। একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় রেলওয়েকে ঢেলে সাজানোসহ বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, উন্নয়ণ প্রকল্প গ্রহণ, রেলওয়ের লাইন ক্যাপাসিটি বৃদ্ধিকরণ, রেলপথ সম্প্রসারণ, নতুন রেলপথ তৈরি, রেললাইন পূর্নবাসন, রোলিং স্টক সঙ্কট নিরসনে পদক্ষেপ, রেলওয়ের ক্রেন ও মেশিন সংগ্রহ, সিগন্যালিং ও ইন্টাররকিং ব্যবস্থার উন্নয়ন, নতুন ট্রেন চালুকরণ ইত্যাদি।’
যোগাযোগখাতের উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু সেতুতে ২০০৬ সালের চিহ্নিত ফাটল মেরামতের জন্য বর্তমান সরকার উদ্যোগ নেয়। আন্তর্জাতিক দর পত্রের মাধ্যমে একটি চীনা প্রতিষ্ঠান এ ফাটল মেরামত করে। এ কাজে ব্যায় হয় ২৭৮ কোটি ৭১ লক্ষ টাকা।’
বিআরটিসিতে ২৭৫ টি চায়না সিএনজি, ২৫৫ টি (১৫০ টিপ এসি ও ১০৫ টি নন এসি) কোরিয়ান সিএনজি, ২৯০ টি অশোক লিল্যান্ড দ্বিতল, ৫০ টি আর্টিকুলেটেড ও ৮৮ টি এক তলা এসি বাসসহ মোট ৯৫৮ টি নতুন বাস বিআরটিসি বহরে যুক্ত হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত পদ্মা সেতু বাস্তবায়নের কাজ চলমান আছে বলেও সংসদে প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন।
২০২১ সালের মধ্যে ২৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদী প্রকল্পের আওতায় প্রায় ২৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ২০২১ সালের মধ্যে এটি বাস্তবায়ন করা হবে।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘২০০৯ সাল হতে অক্টোবর ২০১৩ সাল পর্যন্ত ৫৭টি নতুন উৎপাদন কেন্দ্রের মাধ্যমে চার হাজার ৪৩২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছে। এসব কেন্দ্রের মধ্যে দুই হাজার ২৮৫ মেগাওয়াট গ্যাস ভিত্তিক এবং দুই হাজার ১৪৭ মেগাওয়াট তেল ভিত্তিক। এছাড়া ভারত থেকে আমদানিকৃত ৫শ’ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে।’
‘ক্ষমতাগ্রহণের পর প্রাপ্ত বিদ্যুতের স্থাপিত উৎপাদন ক্ষমতা পাঁচ হাজার ৪৫৩ মেগাওয়াট হতে ১০ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে’ বলেও দাবি করেন শেখ হাসিনা।
রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী চুক্তির আওতায় খুলনার রামপালে এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তিনটি চুক্তি হয়েছে।
আশা করা যায়, বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি ২০১৮ সালের মধ্যে চালু হবে। এছাড়া চট্টগ্রাম এবং বরিশালে মোট দুই হাজার ৮৭ মেগাওয়াট ক্ষমতার আমদানি নির্ভর কয়লাভিত্তিক পাঁচটি কেন্দ্র নিমার্ণে নিমিত্ত গৃহীত প্রকল্প সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছে।’
কৃষিতে ভর্তুকি দেয়া হয়েছে দাবি করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর জানুয়ারি ২০০৯ সাল হতে ২০১৩ সালের নভেম্বর পর্যন্ত মোট ৩৩ হাজার ৫২৫ কোটি ২৯ লাখ টাকা কৃষিতে ভর্তুকি প্রদান করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর সারাদেশে প্রথমবারের মত কৃষকের মাঝে কৃষি উপকরণ সহায়তা কার্ড বিতরণ করেছে। এ পর্যন্ত মোট এক কোটি ৪৪ লাখ ৫৯ হাজার ৮৫৬ জন কৃষকে কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। মাত্র ১০ টাকা ব্যয়ে ৯৮ লাখ ৫৪ হাজার ৬০৬ জন কৃষক ব্যাংক হিসাব খোলার সুযোগ পেয়েছেন।’
Posted ১৪:২০ | বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৩
Swadhindesh -স্বাধীনদেশ | admin