| মঙ্গলবার, ১৮ মার্চ ২০১৪ | প্রিন্ট
ঢাকা, ১৮ মার্চ : বাংলাদেশ ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, বর্তমান জাতীয় সংসদে বাস্তব অর্থে কোনো বিরোধী দল নেই। যে বিরোধী দল আছে তা কেবলই আক্ষরিক। বিরোধীদল বিহীন সংসদ কোনদিনই দীর্ঘস্থায়ী হবে না। মঙ্গলবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে টিআইবি’র গবেষণা প্রতিবেদন ‘পার্লামেন্ট ওয়াচ’ প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, শিগগিরই সব দলের অংশগ্রহণে একটি নির্বাচনের মাধ্যমে সংসদীয় গণতন্ত্রে যে ধরনের সংসদ থাকা উচিত সে ধরনের সংসদ বহাল হবে। এই সময়টা হচ্ছে আজ থেকে ৫ বছরের মধ্যে যেকোনো দিন। তবে যতো শিগগিরই এটা কার্যকর হবে ততো দ্রুত জনগণের কাছে সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হবে।
প্রতিবেদনের সারাংশ উপস্থাপন করেন টিআইবি’র গবেষণা ও পলিসি বিভাগের প্রোগ্রাম ম্যানেজার জুলিয়েট রোজেটি এবং ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার মোরশেদা আক্তার।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন টিআইবি ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য এম. হাফিজউদ্দিন খান, নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, উপ-নির্বাহী পরিচালক ড. সুমাইয়া খায়ের এবং গবেষণা ও পলিসি বিভাগের পরিচালক রফিকুল হাসান।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এম. হাফিজউদ্দিন খান বলেন, শুধুমাত্র রাজনৈতিক সদিচ্ছার কারণে জাতীয় সংসদ কার্যকর হচ্ছে না। সংসদকে কার্যকর করতে হলে একটি শক্তিশালী বিরোধী দলের কোন বিকল্প নেই। সংসদ সদস্যদের নিয়মিত উপস্থিতি ও সংসদকে সকল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু করার মাধ্যমেই দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।
টিআইবির প্রতিবেদনে বলা হয়, কোরাম সংকটের কারণে গড়ে ৩৬ মিনিট হিসেবে ২২২ ঘণ্টা ৩৬ মিনিট অপচয় হয়। সংসদ অধিবেশন পরিচালনায় প্রতি মিনিটে গড় ব্যয় প্রায় ৭৮ হাজার টাকা হিসাবে প্রতি কার্যদিবসের গড় কোরাম সংকটের সময়ের অর্থমূল্য প্রায় ২৪ লক্ষ ৯৬ হাজার টাকা এবং সংসদের পূর্ণ-মেয়াদে কোরাম সংকটের মোট অর্থমূল্য প্রায় ১০৪ কোটি ১৮ লক্ষ টাকা।
প্রতিবেদনে বলা হয়, নবম জাতীয় সংসদে ব্যবসায়ী সমপ্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব ক্রমাগত ভাবে বৃদ্ধি পেয়ে ৫৭ ভাগে দাঁড়িয়েছে যা প্রথম সংসদে ছিল মাত্র ১৭.৫ ভাগ, পক্ষান্তরে প্রথম সংসদে আইনজীবীদের শতকরা হার বেশি থাকলেও ক্রমাগত তা হ্রাস পেয়ে নবম সংসদে ১৪ শতাংশে পৌঁছেছে। নবম সংসদে ১৯টি অধিবেশনে বিভিন্ন বিষয়ে ব্যয়িত মোট সময় ছিল ১৩৩১ ঘণ্টা ৫৪ মিনিট। প্রতি কার্যদিবসে গড় বৈঠক-কাল ছিল প্রায় ৩ ঘণ্টা ১১ মিনিট। ২১.৮% সময় বাজেট আলোচনায়, ১৮.১% সময় প্রতিনিধিত্ব ও তদারকি সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের মধ্যে মন্ত্রীদের প্রশ্নোত্তর পর্বে এবং মাত্র ৮.২% সময় আইন প্রণয়নে ব্যয়িত হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকারি দলের সংসদ সদস্যের মধ্যে শতকরা ৪৬.৯ ভাগ সদস্য অধিবেশনের তিন-চতুর্থাংশের বেশি অর্থাৎ মোট কার্যদিবসের ৭৫ শতাংশের বেশি কার্যদিবসে সংসদে উপস্থিত ছিলেন। প্রধান বিরোধী দলের সদস্যদের সকলেই ১৯টি অধিবেশনের মোট কার্যদিবসের এক-চতুর্থাংশ অর্থাৎ ২৫ শতাংশ বা তার কম কার্যদিবস উপস্থিত ছিলেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রধান বিরোধী দলের সংসদ বর্জনের ক্ষেত্রে পঞ্চম সংসদে এই হার ছিল প্রায় ৩৪%, অষ্টম সংসদে তা বেড়ে হয় ৬০% এবং নবম সংসদের তা পূর্বের সকল রেকর্ডকে অতিক্রম করে ৮২%-এ দাঁড়ায়।
প্রতিবেদনে সংসদীয় গণতন্ত্র সুদৃঢ় করা, সংসদের কার্যকর করা ও সর্বোপরি সংসদকে জবাবদিহিতার কেন্দ্রবিন্দু করতে সদস্যদের উপস্থিতি, তাদের গণতান্ত্রিক আচরণ ও অংগ্রহণ, সংসদের কার্যদিবস ও কার্যসময়, তথ্য প্রকাশ, সংসদীয় কার্যক্রমে জনগণের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং সংসদীয় কমিটির কার্যকরতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত ২১ দফা সুপারিশ করা হয়।
Posted ১১:৪৬ | মঙ্গলবার, ১৮ মার্চ ২০১৪
Swadhindesh -স্বাধীনদেশ | admin