| শুক্রবার, ১০ জানুয়ারি ২০১৪ | প্রিন্ট
ঢাকা : দেশের বিভিন্নস্থানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনায় আওয়ামী লীগ জড়িত বলে দাবি করেছেন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে ১৮ দলের নেতা-কর্মীদের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়েরর নির্যাতিত এসব মানুষের পাশে থেকে যথাযথ সাহায্য সহযোগিতা করার আহবান জানিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার দলের সহ-দফতর সম্পাদক আবদুল লতিফ জনি স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে তিনি এই আহ্বান জানান।
মির্জা ফখরুল বিবৃতিতে বলেন, গত ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত পাতানো, প্রহসনমূলক ও দেশ-বিদেশে সবার কাছে অগ্রহণযোগ্য দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে হত্যা এবং দেশব্যাপী যৌথবাহিনী দিয়ে বিরোধী দলীয় নেতা-কর্মীদেরকে গ্রেফতার, বাড়িঘর লুটপাট ও নির্যাতন নিপীড়ণের করছে।” তিনি এসব ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
তিনি বলেন, “প্রহসনের নির্বাচনে নিজেদেরকে বিজয়ী ঘোষণা করে বর্তমান অবৈধ আওয়ামী লীগ সরকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দিয়ে ফ্যাসিবাদী কায়দায় বিরোধী দল নিধনের মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দেশকে ক্রমান্বয়ে এক চরম নৈরাজ্য ও অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। শুধু তাই নয়, সরকার দলীয় গুন্ডারা সংখ্যালঘুদের ওপর বর্বর হামলা চালিয়ে তার দায়ভার বিরোধী দলের ওপর চাপানোর অপচেষ্টা করা হচ্ছে যা আওয়ামী লীগের চিরাচরিত মিথ্যাচারেরই অংশ।”
তিনি আরো বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ অত্যন্ত সচেতন, তাছাড়া হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনই এখন হিন্দুদের ওপর হামলার জন্য আওয়ামী লীগকেই দায়ী করে সংবাদপত্রে তাদের ক্ষোভ প্রকাশের মাধ্যমে হামলাকারী কারা তা চিহ্নিত করে শাস্তির দাবি জানাচ্ছেন।”
মির্জা আলমগীর ১৮ দলীয় জোট নেতা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে সংখ্যালঘুদের ওপর অমানবিক ও বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে ১৮ দলীয় জোটের সকল পর্যায়ের নেতা-কর্মীকে নির্যাতিত সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশে থেকে যথাযথ সাহায্য সহযোগিতা করার আহবান জানান।
তিনি বলেন, “৫ জানুয়ারির পাতানো নির্বাচনে ভোটারদের অনুপস্থিতি ও দেশবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত বর্জন এবং দেশ-বিদেশে বিভিন্ন রাষ্ট্র ও সংস্থার প্রবল সমালোচনার মুখে মরিয়া হয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সহিংসতা সৃষ্টির অভিযোগ এনে ১৮ দলীয় জোটের নেতা-কর্মীদেরকে গ্রেফতার এবং যৌথবাহিনী ও তাদের সহায়তায় আওয়ামী সন্ত্রাসীদের দিয়ে নেতা-কর্মীদের বাড়িঘরে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হচ্ছে।”
ফখরুল সরকারের উদ্দেশে বলেন, ৫ জানুয়ারির অগ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা আঁকড়ে রেখে ষড়যন্ত্র, অপপ্রচার ও অপকৌশল দ্বারা চলমান গণআন্দোলনকে কোনোভাবেই কলুষিত করে স্তব্ধ করা যাবে না।”
আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার এবং বিরোধী দলীয় নেতা-কর্মীদের ওপর নির্যাতন নিপীড়ন ও গ্রেফতার অভিযান বন্ধ না করলে অতীতের স্বৈরাচারদের মতোই ভাগ্য বরণ করতে হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি।
একই সঙ্গে নির্দলীয় সরকারের যৌক্তিক দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে জনগণকে সাথে নিয়ে ১৮ দলীয় জোটের সকল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদেরকে কেন্দ্র ঘোষিত সকল কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে চালিয়ে যেতে বিএনপি চেয়ারপার্সন ও ১৮ দলীয় জোট নেতা বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে আহবান জানান ফখরুল।
Posted ১০:২০ | শুক্রবার, ১০ জানুয়ারি ২০১৪
Swadhindesh -স্বাধীনদেশ | admin