| রবিবার, ২২ ডিসেম্বর ২০১৩ | প্রিন্ট
ঢাকা, ২১ ডিসেম্বর : খালি মাঠে গোল হতে দেখে বিরোধী দল কপাল চাপড়াচ্ছে বলে মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, খালি মাঠ, শূন্য মাঠ, গোল তো হবেই। মাঠে খেলোয়াড় নেই, আমি কী করবো? খেলা হচ্ছে মাঠে, কিন্তু গোলকিপার নেই, গোলতো হবেই!
শনিবার বিকালে রাজধানীর খামারবাড়িতে বিজয় দিবসের আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, আমরা ধরেই নিয়েছিলাম যে, বিএনপি নির্বাচনে আসবে। সে হিসেবেই আমরা দলের প্রার্থীদের মনোনয়ন দিয়েছিলাম। আওয়ামী লীগ সুশৃঙ্খল দল। দলের শৃঙ্খলা মেনে মনোনয়ন নিয়েছেন নেতারা। যেহেতু বিরোধী দল নির্বাচনে আসেনি এবং কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছিল না, সেহেতু ১৫৪ আসনে প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্িবতায় নির্বাচিত হয়েছেন।
শেখ হাসিনা বলেন, আমার ক্ষমতার কোন লোভ বা মোহ নেই। আমি জনগণের কল্যাণে কাজ করছি। ক্ষমতাকে জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দেবার জন্য কাজে লাগাতে চাই।
তিনি বলেন, সব যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবেই। অনেক বাধা, অনেক টেলিফোন এসেছে, তারপরেও বিচার হবে। যারা আপনজন হারিয়েছেন তাদের তো বিচার পাবার অধিকার আছে, এটা দেশের আইন।
খালেদা জিয়ার সমাালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, যুদ্ধাপরাধীর যখন ফাঁসি দিলাম দরদ বেড়ে গেল পাকিস্তানের। কাদের মোল্লা তাদের অনুগত ছিল। আর খালেদা জিয়া তাদের রক্ষায় হত্যাকান্ড চালাচ্ছেন। পাকিস্তান যে পার্লামেন্টে প্রস্তাব নিল, তিনি তো তার বিরুদ্ধে কথা বললেন না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমিতো বলেই দিয়েছি, আসুন আলোচনায় বসি। সমঝোতায় পৌঁছাতে পারলে এ নির্বাচনের পর আমরা সংসদ ভেঙে দিয়ে নতুন নির্বাচন করবো। তবে এজন্য আপনাদের মুক্তিযুদ্ধবিরোধী জামায়াতের সঙ্গ ছাড়তে হবে।
পাকিস্তানের যেসব দল নিন্দা প্রস্তাবে সমর্থন করেনি তাদের ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। কাদের মোল্লার পক্ষে বিবৃতি দেওয়ায় এ কে খান নিয়াজির ভাতিজা সাবেক তারকা ক্রিকেটার ইমরান খান নিয়াজির কঠোর সমালোচনা করেন শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলের নেতার উদ্দেশে আরও বলেন, আলোচনার জন্য ডাকলেই উনি আলটিমেটাম দেন। কত আলটিমেটামই উনি দিয়ে গেলেন। আসলে আমাকে মারতে না পারায় ওনার দুঃখ। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা আমাকে মারতে চেয়েছিলেন, পারেননি।
শেখ হাসিনা বলেন, উনি জামায়াত ছাড়া নির্বাচনে আসবেন না। জামায়াতে ইসলামীকে তো হাইকোর্ট জঙ্গি সংগঠন বলেছেন, নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করেছে। তারা নির্বাচনে না আসতে পারলে, আমাদের করার কী আছে। জামায়াত না আসায় খালেদা জিয়া নির্বাচন বর্জন করেছেন।
তিনি বলেন, কোথা থেকে কে ঘোষণা দিয়ে কর্মসূচি ঘোষণা করেন। শুনছি উনি (খালেদা জিয়া) মাঠে নামবেন। মাঠে মানুষ উনার কাছে জবাব চাইবে কেন তিনি পাকিস্তানে পার্লামেন্টের নিন্দা প্রস্তাবের বিষয়ে টুঁ শব্দ করলেন না। সেই জবাব দিয়ে যেন মাঠে নামা হয়।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা বক্তব্য দেন।
Posted ০৮:৫৯ | রবিবার, ২২ ডিসেম্বর ২০১৩
Swadhindesh -স্বাধীনদেশ | admin