| বৃহস্পতিবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০১৩ | প্রিন্ট
রাজশাহী : রাজশাহীতে ককটেল বিস্ফোরণে ৯ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। মহানগরে টহলরত পুলিশের একটি ভ্যান লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ করলে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ সময় ৯ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে।পুলিশ ঘটনাস্থলের আশপাশ এলাকা থেকে ৩৪ শিবিরকর্মীকে আটক করে। পুলিশের গাড়িতে অবস্থানকারী আহত ৯ সদস্য হলেন, কনস্টেবল সীদ্ধার্থ, শাহরিয়ার, আনন্দ, তৌহিদ, রাফি, সোহেল রানা, আসাদ, মাজেদুর ও রায়হান।
হাসপাতাল পুলিশ বক্সের ইনচার্জ এসআই উত্তম কুমার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, আহতদের মধ্যে সীদ্ধার্থ বুকে, আনন্দ ও শাহরিয়ার মাথায় স্প্রিন্টারবিদ্ধ হয়েছেন। তাদের অবস্থাও গুরুতর। বর্তমানে ওই তিনজনকে হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া বাকিদের অবস্থা তেমন গুরুতর না হওয়ায় আট নম্বর ও ২৫ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কেন্দ্র ঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচি শেষে বাড়ি ফিরছিলেন জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরা। তাদের ধরতে নগরীর বোয়ালিয়া থানা পুলিশের একটি দল লোকনাথ স্কুল এলাকায় অভিযান চালালে জামায়াত-শিবির কর্মীরা পুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করে একটি ককটেল নিক্ষেপ করে। এ সময় গাড়িটিতে অবস্থানকারী ওই ৯ পুলিশ কনস্টেবল আহত হন। পরে তাদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। খবর পেয়ে বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউর রহমান জিয়াসহ অতিরিক্ত পুলিশ এসে এলোপাতাড়ি রাবার বুলেট ও ফাঁকাগুলি ছুঁড়ে। এতে ওই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তে সড়কে বন্ধ হয়ে যায় সব ধরনের যানচলাচল। এ সময় পুলিশ দোকানদারকে বেধড়ক লাঠিচার্জ করে দোকান বন্ধ করে দেয়। একইসঙ্গে বিভিন্ন দোকানে তল্লাশি চালিয়ে শিবির কর্মী সন্দেহে ছয়জনকে আটক করে। এর আগে ও পরে নগরজুড়ে পৃথক অভিযানে ১৮ দল কর্মী সন্দেহে নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানা পুলিশ ২০ জন এবং রাজপাড়া থানা পুলিশ আটজনকে আটক করে।
এ বিষয়ে নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, পুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করে জামায়াত-শিবিরকর্মীরা হামলা চালালে ৯ পুলিশ সদস্য আহত হন। তাদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এর আগে বেশ কয়েক রাউন্ড রাবার বুলেট ছুঁড়ে পুলিশ হামলাকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় ওই এলাকা থেকে হামলাকারী সন্দেহে ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। বাকিদের আটকের চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি। এর আগে ১৮ দলের সমাবেশ চলাকালে নগরীর সোনাদাঘী ও মনিচত্বর এলাকা থেকে আটক ২০ জনকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। এরপর থেকে নগরীর নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে বলে জানান ওসি।
অন্যদিকে নগরীর রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবিএম রেজাউল ইসলাম জানান, রাজপাড়া থানা পুলিশের অভিযানে আটক আটজনকেও থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পরে এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Posted ২১:১৩ | বৃহস্পতিবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০১৩
Swadhindesh -স্বাধীনদেশ | admin