শনিবার ৭ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সমালোচনায় আশরাফ

  |   রবিবার, ২২ ডিসেম্বর ২০১৩ | প্রিন্ট

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সমালোচনায় আশরাফ

asraf

ঢাকা, ২১ ডিসেম্বর  : মানবতা বিরোধী অপরাধে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় কার্যকরে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।
তিনি এ দই দেশের সমালোচনা করে বলেন, তাদের দেশে মৃত্যুদন্ড দেয়া হলে কোনো সমস্যা নেই। শুধু আমাদের এখানে করলেই দোষ।
শনিবার বিকালে রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিজয় দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় সৈয়দ আশরাফ এ সমালোচনা করেন।
কাদের মোল্লার মৃত্যুদন্ড কার্যকর নিয়ে বিদেশিদের অবস্থানের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আপনার দেশে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হলে দোষ নেই। আর বাংলাদেশে কাদের মোল্লার রায় কার্যকর হলে সাতখন্ড রামায়ন অশুদ্ধ হয়ে যায়।
তিনি বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়। সমীক্ষায় দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে এর পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। চীন তাদের বিশ্ব বিবেক বলে দাবি করে। তাদের দেশের মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়। শুধু আমাদের এখানে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হলেই দোষ।
সৈয়দ আশরাফ বলেন, ড্রোন হামলা করে মানুষ হত্যা করা হচেছ- অথচ জুডিশিয়াললি না গিয়ে তাদের হত্যা করা হচ্ছে। এ যে সাদ্দাম হোসেনকে ফাঁসি দিয়ে হত্যা করা হলো। সাদ্দামকে এমন রশি দিয়ে এমনভাবে ফাঁসি দেয়া হলো- যে তার শরীর থেকে মাথা আলাদা হয়ে গিয়েছিলো।
খুব তো সবাই মুসলমান মুসলমান বলে কান্নাকাটি করি। বিচার ছাড়াই লাদেনকে কিভাবে হত্যা করা হলো। ঠান্ডা মাথায় তাকে হত্যা করা হলো। তার লাশ পর্যন্ত দাফন করা হলো না। সাগরে ভাসিয়ে দেয়া হলো। এগুলো কি ধরনের জুডিশিয়াল কিলিং, কি ধরনের সিভিলাইজড কিলিং বলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি প্রশ্ন ছোড়ে দেন আশরাফ।
তিনি বলেন, গাদ্দাফীকে ড্রেনের ভেতর থেকে বের করে হত্যা করা হয়েছে; এগুলো কিছুই না। আমরা কিছু করলেই দোষ। এগুলো নিয়ে তারা কথা বলে। আমরা যদি কিছু বলি তাহলেই উনারা নাখোশ হন। আর আমাদের এখানে তাদের কিছু দালাল আরো বেশি নাখোশ।
মুক্তিযুদ্ধ সময়কার কথা তুলে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ না হওয়ার জন্য ভারত মহাসাগরে সপ্তম নৌ-বহর পাঠিয়েছিলো। সিকিউরিটি কাউন্সিলে প্রস্তাব উত্থাপণ করেছিলো। তারা যদি যুদ্ধ থামাতে পারতো, তবে এ দেশ অর্জন করা কঠিন ছিলো। তখন আমাদের পাশে ছিলো সোভিয়াত ইউনিয়ন ও ইন্ডিয়া। আমেরিকার পাশে ছিলো চীন।
তিনি বলেন, আমাদের কেউ দয়া করে স্বাধীনতা দেয়নি। পাকিস্তানি সৈন্যরা দয়া করে পরাজিত হয়নি। আমাদের যুদ্ধ করে বিজয়ী হতে হয়েছিল। আমাদের ভয় পেলে চলবে না। আমরা দেশের কোনো শত্রুকে ভয় পাই না। বিদেশি শত্রুদেরও ভয় পাই না।
মিডিয়ার সমালোচনা করে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেন, নিউজ হবে বস্তুনিষ্ঠ। আন্তাজ করে কোনো নিউজ হতে পারে না। অথচ পত্রিকায় চাপা হয়- চাপাইনবাবগঞ্জে আম গাছে কাঁচামরিচ ধরেছে। এখন ময়মনসিংহের লোকজন জানে না চাপাইনবাবগঞ্জে কি হয়েছে। আবার সেই পত্রিকাই কিছুদিন পর নিউজ করে চাপাইনবাবগঞ্জে ছাগলের পেটে বাঘের বাচ্চা হয়েছে।
তিনি বলেন, আন্দাজের উপর নিউজ হয় না। নিউজ হ্যাজ টু বি বেইজড অন ফ্যাক্ট।
টকশো’র সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের এ নেতা বলেন, টকশো মানে ইংরেজি টক না, এটি তেতুলের টক। এখানে যারা আসেন সবাই সর্ব বিষয়ে অভিজ্ঞ।
তিনি বলেন, ঘুরে ফিরে একই মুখগুলো সব জায়গায় দেখা যায়। রাতে যাকে রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে দেখা যায়, সকালে তাকে রান্নার অনুষ্ঠানে দেখা যায়। বিকালে দেখা যায়- শিশু পরিচর্যার অনুষ্ঠানে।
গণতন্ত্রের আরেকটি স্তম্ভ গণমাধ্যম উল্লেখ করে তিনি বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য স্বাধীন, বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশন করতে হবে। তবেই গণতন্ত্র স্থায়ী রূপ লাভ করবে।
আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আমির হোসেন আমু বলেন, আন্দোলনের নামে যা হচ্ছে তা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বোঝায় না। চুরি, ডাকাতি, হত্যা এগুলোকে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বলে। যা নিয়ন্ত্রণে ছিলো, আছে।
তিনি বলেন, আজকে ১ দলীয় নির্বাচন হচেছ না। নির্বাচনে ১২টি দল অংশ নিচেছ।
আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, খালেদা জিয়া বহুত গ্যাড়া কলে আছেন। তিনি গিলতেও পারছেন না ওগলাতেও পারছেন না। একদিকে জামায়াতের কথায় তিনি নির্বাচনে আসছেন না, অন্যদিকে তার দলের নেতারা নির্বাচন করতে চান।
আওয়ামী লীগ সভাপতিমন্ডলীর সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি বক্তব্যে রাখেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

advertisement

Posted ০৯:০৬ | রবিবার, ২২ ডিসেম্বর ২০১৩

Swadhindesh -স্বাধীনদেশ |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

Advisory Editor
Professor Abdul Quadir Saleh
Editor
Advocate Md Obaydul Kabir
This newspaper (Swadhindesh) run by Kabir Immigration Ltd
যোগাযোগ

Bangladesh Address : Moghbazar, Ramna, Dhaka -1217, Europe Office: 552A Coventry Road ( Rear Side Office), Small Heath, Birmingham, B10 0UN,

ফোন : 01798-669945, 07960656124

E-mail: news@swadhindesh.com, swadhindesh24@gmail.com