| বৃহস্পতিবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৩ | প্রিন্ট
নিউ ইয়র্ক, ১৯ ডিসেম্বর : নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রেখে রাজনৈতিক অচলাবস্থার প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক সংস্কারের জরুরি প্রয়োজনীয়তা বিষয়ে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে একটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র বিষয়ক সিনেট কমিটি। কমিটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক অচলাবস্থা দূরীকরণে রাজনৈতিক সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।
ইলিনয়ে অঙ্গরাজ্য থেকে নির্বাচিত ডেমোক্রেটিক সিনেটর রিচার্ড ডার্বিন কর্তৃক উত্থাপিত এ বিলটির ওপর বুধবার কংগ্রেসের সিনেট কমিটি অন ফরেন রিলেশন্সের চেয়ারম্যান সিনেটর রবার্ট ফার্নান্দেজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সিনেট কমিটির বিজনেস মিটিংয়ে প্রস্তাবটি নিয়ে আলোচনা হয়।
সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির টেলিফোনের পরও বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির দৃশ্যমান কোনো উন্নতি না হওয়ায় সিনেট কমিটির বৈঠকে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
আলোচিত প্রস্তাবে বাংলাদেশ বিষয়ে ৬টি পদক্ষেপ গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। এগুলো হলো- (১) বাংলাদেশের রাজনৈতিক সহিংসতায় উদ্বেগ প্রকাশ করে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য ফলপ্রসূ আলোচনায় বসতে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানাতে হবে। (২) বাংলাদেশের রাজনৈতিক অচলাবস্থা ও জনগণের চাহিদা পূরণে রাজনৈতিক দলগুলোর ব্যর্থতায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করতে হবে। (৩) বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোকে এখনই সহিংসতা বন্ধের উদ্যোগ নিতে এবং শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচির পথ তৈরি করতে আহ্বান জানাতে হবে। (৪) আসন্ন নির্বাচন পর্যবেক্ষণে পর্যবেক্ষকদের সুযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের নিরাপত্তা দিতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতাদের প্রতি আহ্বান জানাতে হবে। (৫) বাংলাদেশের রাজনৈতিক মতবিরোধ দূর করতে জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব ফারনান্দেজ-তারানকো যে আলোচনার প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছেন, তা এগিয়ে নিতে যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন দিতে হবে। এবং (৬) বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতে, মানবাধিকার কর্মীদের হেনস্তা বন্ধে এবং গ্রামীণ ব্যাংকের ‘স্বাধীনতা’ ফিরিয়ে দিতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানাতে হবে।
সিনেট কমিটি অন ফরেন রিলেশনসের বুধবারের বৈঠকে বাংলাদেশ ছাড়াও ইরান, মিশরসহ ৭টি বিষয়ের ওপর উত্থাপিত পৃথক পৃথক বিল নিয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশ বিষয়ক সিনেট রেজ্যুলেশন ৩১৮ গত ১১ ডিসেম্বর সিনেটে উত্থাপন করেন ডেমোক্রেটিক সিনেটর রিচার্ড ডার্বিন। বিলটি সিনেটে উত্থাপনের দিন এ বিলে তার সঙ্গে কো-স্পন্সর হিসেবে ছিলেন উইমিং অঙ্গরাজ্য থেকে নির্বাচিত রিপাবলিকান সিনেটর মাইকেল এঞ্জি ও কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্য থেকে নির্বাচিত ডেমোক্রেটিক সিনেটর ক্রিস্টোফার মারফি। পরবর্তীতে ১৭ই ডিসেম্বর এ বিলটিতে কো-স্পন্সর হিসেবে আরও স্বাক্ষর করেন ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্রেটিক সিনেটর বারবারা বঙার ও আরিজোনা অঙ্গরাজ্যের রিপাবলিকান সিনেটর জন বুজম্যান। বাংলাদেশ বিষয়ক সিনেট রেজ্যুলেশন ৩১৮ গত ১১ ডিসেম্বর ২০১৩ সিনেটে উত্থাপনের দিনই বিলটি বিবেচনার জন্য সিনেট কমিটি অন ফরেন রিলেশনসে পাঠানো হয়।
Posted ১৬:৩৬ | বৃহস্পতিবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৩
Swadhindesh -স্বাধীনদেশ | admin