| শুক্রবার, ১০ জানুয়ারি ২০১৪ | প্রিন্ট
ঢাকা: বিরোধী দলের আন্দোলনের প্রতি ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মানুষের জানমাল রক্ষায় যত কঠোর হওয়া দরকার, তার সরকার তত কঠোর হবে।
শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগ আয়োজিত সমাবেশে এ কথা বলেন তিনি।বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
শেখ হাসিনা বিএনপির নেত্রীকে উদ্দেশ করে বলেন, “আপনি নির্বাচনে আসেননি। ভুল করেছেন। ভুলের খেসারত আপনাকেই দিতে হবে। কিন্তু সেই ভুলের খেসারত দিতে গিয়ে দেশে অশান্তি সৃষ্টি করবেন না।”
খালেদা জিয়াকে ‘অশান্তি বেগম’আখ্যা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “গত পাঁচ বছরে দেশের মানুষের মনে শান্তি থাকলেও খালেদা জিয়ার মনে কোনো শান্তি ছিল না। আর তাই তিনি তার অশান্তির আগুন সারা দেশে ছড়িয়ে দিয়েছেন। আন্দোলনের নামে খুনখারাপি শুরু করেছেন।” খালেদাকর প্রতি আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “আসুন, কোনো সমস্যা থাকলে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করব।”
জামায়াত সন্ত্রাসী দল্- আদালত এই রায় দিয়েছেন বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি
বলেন,“যুদ্ধাপরাধীদের বিচার আমরা শুরু করেছি। অপরাধীদের বিরুদ্ধে রায় দেয়া হচ্ছে। রায় কার্যকর আমরা শুরু করেছি। এটি অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশকে কলঙ্কমুক্ত করা হবে।”
নির্বাচনে অংশ না নেয়ায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ধন্যবাদ জানালেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, “জামায়াত নির্বাচনে অংশ নেবে না বলে খালেদা জিয়াও নির্বাচনে আসেননি। এতে দেশের মানুষ কলঙ্কমুক্ত হয়েছে। মানুষ অভিশাপমুক্ত হয়েছে। কারণ যুদ্ধাপরাধীরা নির্বাচনে জয়ী হয়নি। এ কারণে বিএনপি নেত্রীকে আমি ধন্যবাদ জানাই।”
দেশের বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর আক্রমণসহ যেকোনো সন্ত্রাসী আক্রমণ ঠেকাতে দেশবাসীকে সংগঠিত হওয়ারও আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
বিএনপির নেত্রী জামায়াত-শিবিরকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের ওপর লেলিয়ে দিয়েছেন অভিযোগ করে শেখ হাসিনা বলেন,“যেসব জায়গায় আক্রমণ হয়েছে, সেখানে যৌথ বাহিনীর অভিযান শুরু হয়েছে।”
দেশে অসাংবিধানিক প্রক্রিয়া চালু করার জন্যই বিরোধী দল নির্বাচন বানচাল করতে চেয়েছিল দাবি করে শেখ হাসিনা বলেন, “কিন্তু দেশের মানুষ বিরোধী দলের এই চক্রান্ত নস্যাৎ করে দিয়ে প্রমাণ করেছে, তারা অশান্তি চায় না।” দুর্নীতিবাজ ও সন্ত্রাসীদের দেশের মানুষ আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না বলেও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, “২০০৮ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের পর আমরা একদিকে যেমন যুদ্ধাপরাধের বিচার শুরু করি, অন্যদিকে দেশকে অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করি। আমরা বাংলাদেশকে জঙ্গিবাদী রাষ্ট্রের কলঙ্ক থেকে মুক্তি দিই। সাক্ষরতার হার আমরা ৭১ ভাগে উন্নীত করি। বিনা পয়সায় শিক্ষার্থীদের হাতে আমরা বই তুলে দিই। স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিই।”
১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে দেশে ফেরেন। তাই আওয়ামী লীগ এই দিনটিকে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস হিসেবে পালন করে।
সমাবেশে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেন, “শুধু জামায়াত স্বাধীনতাবিরোধী দল নয়, বেগম খালেদার নেতৃত্বে বিএনপি প্রধান স্বাধীনতাবিরোধী দল হিসেবে গণতন্ত্রকে নস্যাৎ করতে যাচ্ছে।”
শেখ হাসিনাকে হত্যার ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে দাবি করে সৈয়দ আশরাফ সবার প্রতি আহ্বান জানান, “তাই আসুন, আমরা জননেত্রীর হাতকে শক্তিশালী করি। ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলি।”
বেলা আড়াইটায় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর সভাপতিত্বে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শুরু হয় এই জনসভা। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর আওয়ামী লীগের এটি প্রথম সভা।
Posted ১৬:০৬ | শুক্রবার, ১০ জানুয়ারি ২০১৪
Swadhindesh -স্বাধীনদেশ | admin