| রবিবার, ২২ ডিসেম্বর ২০১৩ | প্রিন্ট
কানাডার ন্যাশনাল এথনিক প্রেস অ্যান্ড মিডিয়া কাউন্সিলের সভাপতি ও প্যাট্রিডাস নর্থ আমেকিান রিভিউ পত্রিকার প্রধান সম্পাদক থমাস এস সারাস বলেছেন, দক্ষিন আফ্রিকার মহান বর্নবিদ্বেষী প্রয়াত নেতা নেলসন মেন্ডেলার ভাষাই লন্ডন প্রবাসী তারেক রহমানের কন্ঠে অনুরনিত।
গত ২০ ডিসেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ছ’টায় টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাদার মেড্ডেন হলে বাংলাদেশ পলিসি ফোরাম অব নর্থ আমেরিকা আয়োজিত এক সেমিনারে থমাস সারাস এ কথা বলেন। আয়োজকদের সঙ্গে ওই অনুষ্ঠানে অপর দুই সহযোগি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে কানাডার বাংলাদেশ পলিসি ফোরাম অব ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইয়ুথ ফর হিউম্যান রাইটস ইন্টারন্যাশনাল।
এতে তারেক রহমানের রাজনীতি নির্ভর ‘এ ম্যান ক্যান চেঞ্জ এ নেশন’ ও ইয়ুথ ফর হিউম্যান রাইটস ইন্টারন্যাশনালের ‘হিউমান রাইটস’ বিষয়ক ঐতিহাসিক তথ্যচিত্র সম্বলিত ডকুমেন্টারি উপস্থিত দর্শক-শ্রোতার ভূয়সী প্রশংসা অর্জন করে। বাংলাদেশ পলিসি ফোরাম অব নর্থ আমেরিকার সভাপতি মেরাজ ভুইয়ার সঞ্চালনায় তাতে আরো বক্তব্য রাখেন ইয়ুথ ফর হিউম্যান রাইটস ইন্টারন্যাশনাল কানাডার পরিচালক নিকোল ক্যারেলিন, অন্টারিও প্রাদেশিক লিবারেল পার্টির সহ- সভাপতি ও ক্যাসি হাউজের কমিউনিটি উন্নয়ন ও তথ্য সেবা বিষয়ক পরিচালক টড রস, এনইপিএমসিসসি’র সাংবাদিক মোহাম্মদ আলী বোখারী ও কানাডার বাংলাদেশ পলিসি ফোরাম অব ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের আহবায়ক জসিম মল্লিক।
তাতে আলোচ্য বিষয় ছিল- ডেমোক্রেসি, হিউমান রাইটস ও গুড গর্ভন্যান্স অর্থাৎ গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও কল্যামুখী জনপ্রশাসন। তাতে আলোচ্য বিষয়ের পাশাপাশি প্রদর্শিত ডকুমেন্টারির উপর আলোকপাত করতে গিয়ে প্রধান বক্তা এবং কানাডায় রাষ্ট্রীয়ভাবে সন্মানিত প্রবীণ সাংবাদিক থমাস সারাস বলেন, ‘ডেমোক্রেসি’ শব্দটি ‘ডেমোস’ বা ‘জনগণ’ এবং ‘ক্রাটস’ বা ‘ক্ষমতা’ বা ‘শাসন’ থেকে উৎসারিত এবং তা গ্রীক ‘ডেমোক্রাটিয়া’ বা ‘রুল অব দ্য পিপল’ বা জনগণের শাসন থেকে উদ্ভূত। তথাপি আজও জনগণের শাসনের পরিবর্তে শাসকের শাসনই তৃতীয় বিশ্বে বিদ্যমান। সেজন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা সুদূর পরাহত। নিজের ব্যক্তিগত জীবনে মেন্ডেলার সঙ্গে দু’বারের সাক্ষাত অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে সারাস বলেন, মেন্ডেলা থেকে জেনেছি -‘অলওয়েজ ট্রাস্ট ইউর পিপল’ অর্থাৎ ‘জনতার প্রতি আস্থাশীল হউন’।
সে কথাই তারেক রহমানের কন্ঠে অনুরণিত। কেননা তিনি বলেছেন, ‘আসুন, দেশ ও জাতির জন্য মহান কিছু করি; আসুন, রাজনীতিকে দেশ ও জনতার আত্মনিবেদনে পরিচালনা করি; আসুন, জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়ের কিছুটা মাতৃভূমির জন্য উৎসর্গ করি; কারণ, আমাদের স্বাধীন-সার্বভৌম দেশের নাগরিক হিসেবে পরিচিত ও সন্মানিত করেছে বাংলাদেশ’।
তিনি আরো বলেন, নেলসন মেন্ডেলার সেরা কথাটি হচ্ছে- ‘এ নেশন ইউনাইটেড ইন পারস্যূট অব শেয়ারড্ গোলস ক্যান ওভারকাম দ্য মোষ্ট ডিফিকাল্ট প্রব্লেমস’ অর্থাৎ ‘সহভাগিতার ঐক্যবদ্ধ লক্ষ্যে নিবেদিত থাকলে একটি জাতি কঠিন দুর্যোগকেও পরাভূত করতে সক্ষম’। তারেক রহমান নিজের রাজনীতির গণতান্ত্রিক অনুশীলনে তেমন স্বগতোক্তিই জাতির কাছে রেখেছেন।
মানবাধিকার কর্মে নিবেদিতপ্রান নিকোল ক্যারেলিন বলেন, তারেক রহমান মানবাধিকারের সবচেয়ে গুরুত্ববহ শিক্ষার ক্ষেত্রে জাতিকে আহবান জানিয়েছেন। কিন্তু পরিতাপের বিষয়, বিশ্বের বহু দেশেই জাতিসংঘ প্রণীত সার্বজনীন মানবাধিকার সনদের ত্রিশটি ধারাই মানুষের অজানা। মানবাধিকারের বিষয়টি মানুষের ‘নেচারাল রাইটস’ সেটা আন্না ইলানর রুজভেল্টই পরিপূর্ণভাবে তুলে ধরতে সক্ষম হন, সে জন্য তাকে ‘ফার্স্ট লেডি অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ বলা হয়। সাংবাদিক মোহাম্মদ আলী বোখারী বলেন, তারেক রহমান তৃণমূল পর্যায়ে মানুষের জীবনমান উন্নয়নে তার প্রধানমন্ত্রী মা খালেদা জিয়াকে কল্যাণমুখী প্রস্তাবনা দিতে সচেষ্ট হয়েছেন।
তার প্রবাস জীবনের আলোকিত অর্জনই এখন তার বাবা-মা’র আত্মনিবেদনকে মহিমান্বিত করতে পারবে। জাতি জেনেছে, আজো সরকার তার বিরুদ্ধে সিঙ্গাপুরের সুনির্দিষ্ট কোর্টের রায়টি দেশের মিডিয়ার কাছে দেয়নি বা খোলাসা করেনি। বরং বহুবিধ বিতর্কিত প্রচেষ্টায় সাংবিধানিক জনপ্রশাসনগুলোকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। সরকার জনগণের ভোটাধিকারের কথা বললেও, বা¯ত্মবে ৫২ শতাংশ ভোটাধিকারকে চলতি জাতীয় নির্বাচনে খর্ব করেছে।
উদোক্তাদের পক্ষে আহবায়ক জসিম মল্লিক বলেন, তারেক রহমানের উপর নির্মিত ডকুমেন্টারিটি আধুনিক বিশ্বে তার নেতৃত্বের আশা জাগানিয়া প্রতিচ্ছবির প্রতিফলন। এছাড়া আয়োজক সভাপতি মেরাজ ভুইয়া আগামীতে এ জাতীয় সেমিনার আয়োজনের মাধ্যমে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও কল্যাণমুখী জনপ্রশাসনের আলোকিত স্বরূপকে তুলে ধরতে সচেষ্ট থাকবেন বলে আশাবাদ প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠান শেষে সকলকে প্রদর্শিত ডকুমেন্টারি দুটি সৌজন্যস্বরূপ প্রদান করা হয়।
Posted ২০:৪৬ | রবিবার, ২২ ডিসেম্বর ২০১৩
Swadhindesh -স্বাধীনদেশ | admin