মিসরে অবৈধ সংবিধান বাতিল ও মুরসিকে পুনর্বহলের দাবিতে মুরসি সমর্থকদের বিক্ষোভ মিছিলে সেনাবাহিনীর হামলায় ২০ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে অর্ধশতাধিক। গতকাল বাদ জুমা মিসরজুড়ে দশ লাধিক মুরসি সমর্থক মিছিল বের করলে সেনাবাহিনী এ হামলা চালায়। তবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি, নিহতের সংখ্যা ১১। মুরসি সমর্থকদের বিােভে নিরাপত্তা বাহিনী হামলা চালালে ব্রাদারহুড কর্মীদের সাথে তাদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়।
এ সময় বিুব্ধ বিক্ষোভকারীরা তিনটি পুলিশের গাড়ি জ্বালিয়ে দেয়। মুরসি সরকারের পাস করা মিসরের প্রথম গণতান্ত্রিক সংবিধান বাদ দিয়ে সেনাবাহিনী নতুন সংবিধানের মাধ্যমে তাদের ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করতে চাইলে দেশজুড়ে সপ্তাহব্যাপী বিক্ষোভের ডাক দেয় মুসলিম ব্রাদারহুডসহ ইসলামপন্থীরা। জুমার নামাজের আগেই তারা রাজধানী কায়রোসহ সারা দেশে বিক্ষোভ করে। বিক্ষোভে কায়রোর নাসের সিটি আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে সেনাদের গুলিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র বেলাল মাহমুদ প্রথম নিহত হন।
রাজধানীর মাদি, শুবরাল, খিমা, আলফ মাসকান, মুহানদিসীন সিটি ছাড়াও আলেকজানিন্দ্রয়া, ফাইউম, সুয়েস, সুহাগ, পোর্ট সাইদ, ইসমালিয়া, আসিউতসহ বিভিন্ন জেলায় বিােভ করেছে মুরসি সমর্থকরা। শুধু আলেকজান্দ্রিয়াতেই প্রায় ৪৭টি এলাকায় বিােভ হয়েছে। বিােভ চলাকালে আলেকজান্দ্রিয়ার ৮২ বছরের বৃদ্ধা যয়নবসহ নিহত হয়েছেন তিনজন। এছাড়া ফাইউম জেলায় দুইজন, বৃহত্তর সাইদ জেলায় দুইজন, সুয়েজ জেলায় একজন, আলমেনিয়াতে একজন, কায়রোতে তিনজন, পোর্ট সাঈদে দুইজনসহ মোট ২০ জন নিহত হয়েছেন। আহত অর্ধতাধিক নেতাকর্মীদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। গতকাল বিােভ চলাকালে আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন ছাত্রীসহ দেড় শতাধিক মুরসি সমর্থককে আটক করেছে পুলিশ।
আরব বসন্তের প্রথম গণতান্ত্রিক প্রেসিডেন্ট মুরসিকে অবৈধভাবে অপসারনের পর থেকে তার সমর্থকেরা কঠোর আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। বিপরীতে সেনারা রাবেয়া স্কয়ারে শান্তিপুর্ন অবস্থানে হামলাসহ এ যাবত বিভিন্ন মিছিলে গুলি চালিয়ে সাত হাজারের অধিক মুরসি সমর্থককে হত্যা করেছে। আহত হয়েছে বিশ হাজারের অধিক। কোন অবস্থাতেই সেনাদের অধীনে সংবিধান মেনে নেয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আন্দোলনরত মুরসি সমর্থক আইমান আব্দুল গনী। তার অভিযোগ, সেনা সরকার মিসরের গণতন্ত্রকে সেনাতন্ত্রে আবদ্ধ করতেই নতুন সংবিধান বাস্তবায়ন করছে।
নতুন সংবিধানে মুসলিম ব্রাদারহুডসহ সকল ইসলামপন্থী রাজনীতি নিষিদ্ধ ও সাধারন নাগরিকরা ইসলামপন্থীদের সমর্থক করতে পারবে না বলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। তাছাড়া সেনাদের বিরুদ্ধে কোন ধরনের অভিযোগ গঠনের সুযোগ থাকছে না সংবিধানে। দেশজুড়ে মুরসি সমর্থকদের উপর হামলা ও অবৈধ সংবিধান বাতলের দাবিতে মিসর ছাড়াও তুরস্ক, ইতালী, মালয়শিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ফ্রান্স, বৃটেনসহ বিভিন্ন দেশে বিােভ করেছে মুরসি সমর্থকেরা।
অন্যদিকে কারাগারে ফ্রিডম অ্যান্ড জাষ্টিস দলের মহাসচিব ড. মুহাম্মাদ বেলতাগীর উপর নির্যাতন চালানো হচ্ছে- এমন সংবাদ প্রকাশের পর পুলিশের গাড়ি ভাংচুর করেছে তার সমর্থকরা। নিহত ব্রাদারহুড কর্মীদের নামাজে জানাজা উপল্েয কায়রোর আল নূর মসজিদে শনিবার সমাবেশ করে ব্রাদারহুড। তারা জীবনের বিনিময়ে হলেও সেনা সরকার ও অবৈধ সংবিধান বাতিল করে ছাড়বেন বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। স্বৈরশাসক মোবারকের মত সিসিকেও তারা অচিরেই পতন ঘটাবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।