| রবিবার, ২২ ডিসেম্বর ২০১৩ | প্রিন্ট
রাজধানীর শাপলা চত্বরে ২৪ ডিসেম্বরের সমাবেশ করতে অনড় হেফাজতে ইসলাম। এজন্য প্রয়োজনীয় সকল প্রস্তুতি নিয়ে হয়েছে বলে জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর আহ্বায়ক মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমী।
রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বারিধারার মাদরাসা থেকে নূর হোসাইন কাসেমীকে র্যাবের একটি দল র্যাব-১ এর কার্যালয়ে নিয়ে যান। পরবর্তীতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বিকেল ৩টার দিকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে জামিয়া মাদানিয়া বারিধারা মাদরাসায় গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন হেফাজতের একাধিক নেতা।
সূত্র জানায় র্যাব কার্যালয় থেকে ফিরেই বারিধারা মাদরাসায় মহানগর হেফাজতের দায়িত্বশীল নেতাদের সঙ্গে বিশেষ বৈঠক করেছেন মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমী। এ বিষয়ে র্যাব-১ এর অধিনায়ক কিসমত হায়াত বাংলামেইলকে জানান, নূর হোসেনকে ঠিক আটক করা হয়নি। হেফাজতের ২৪ ডিসেম্বরের কর্মসূচি সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে র্যাব-১ এর কার্যালয়ে আনা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে আবার ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
র্যাব ডেকেছিলো কেন, জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর হেফাজতের আহ্বায়ক নূর হোসাইন কাসেমী বাংলামেইলকে বলেন, ‘র্যাবের লোকজন আমাকে তাদের সঙ্গে যেতে বলেন। আমি আমার নিজের গাড়ি নিয়ে র্যাব কার্যালয়ে যাই। সেখানে তারা আমার সঙ্গে ২৪ ডিসেম্বরের কর্মসূচি নিয়ে কথা বলেন।’ নূর হোসাইন কাসেমী আরো বলেন, ‘র্যাব আমাকে ২৪ তারিখের পরিবর্তে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পরে যেকোনো সময় সবাবেশ করতে অনুরোধ করেন।
তারা জানান বর্তমান পরিস্থিতিতে হেফাজতের সমাবেশ করা ঠিক হবে না। কিন্তু আমি তাদের জানিয়ে দিয়েছি সমাবেশের তারিখ পরিবর্তনের ক্ষমতা আমার নেই। হেফাজতের আমীর ও কেন্দ্রীয় নেতাদের সিদ্ধান্তের বাইরে কিছু করা সম্ভব নয়।’
এদিকে রোববার ঢাকা মহানগর ১৪ দলের বৈঠকে আইনপ্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেন, ‘২৪ ডিসেম্বর হেফাজত ইসলামকে কোনোভাবে মতিঝিল শাপলা চত্বরে সমাবেশ করতে দেয়া যাবে না। বিএনপি, জামায়াত এবং হেফাজত একই সূত্রে গাঁথা ।
আমাদের জীবন দিলে হলেও হেফাজত ও তাদের অনুসারীদের সকল প্রকার ষড়যন্ত্র রুখে দিতে হবে।’ এ প্রসঙ্গে নূর হোসাইন কাসেমী বলেন, ‘আমাদের সমাবেশ করতে দিলে সরকারেরই বেশি লাভ হবে। ৫ মে হেফাজতের সমাবেশ নিয়ে জনমনে ক্ষোভ রয়েছে। এই সমাবেশ করতে দিলে কারো ক্ষোভ থাকবে না।
এছাড়াও আমাদের সমাবেশ বর্তমান পরিস্থিতি উত্তরণের জন্য আল্লামা আহমদ শফী বিশেষ দোয়া পরিচালনা করবেন দেশের শান্তি কামনা করে। তিনি আরও বলেন, ‘সরকার যদি এখন অনুমতি না দেয় তবে ক্ষোভ আরো বাড়বে। সরকারের জনপ্রিয়তা কমবে। আমরা ১ মাস আগে এই কর্মসূচি ঘোষণা দিয়েছি। ৩০ নভেম্বর পুলিশের কাছে অনুমতির আবেদন করেছি। আমার আত্মবিশ্বাস সরকার সমাবেশের অনুমতি দিবে। যদি সরকার কোন কারণে সমাবেশ করতে না দেয় তবে আমাদের গভর্নিং বডি পরবর্তী সিধান্ত নিবেন।’ ইতোমধ্যেই বিভিন্ন স্থানে সমাবেশের জন্য প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
Posted ২২:৫৪ | রবিবার, ২২ ডিসেম্বর ২০১৩
Swadhindesh -স্বাধীনদেশ | admin