| সোমবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০১৩ | প্রিন্ট
ঢাকা : অবরুদ্ধ বা গৃহবন্দী খালেদা জিয়ার রোববারের মিডিয়া উপস্থিতি দেশজুড়ে কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। অভিযাত্রা কর্মসূচি সামনে রেখে তার বাসভবনের চারপাশ ঘিরে রাখা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে কীভাবে খালেদার কাছে পৌঁছে গেলেন সাংবাদিকরা? সাংবাদিকরা বলছেন, এটি সম্ভব হয়েছে মিডিয়াকর্মীদের পেশাদারি সংবাদতৃষ্ণার জন্য। বাংলাদেশের মিডিয়ার পেশাদারি প্রতিযোগিতার একটা প্রতিফলন ঘটেছে খালেদা জিয়ার এই সংবাদ কাভারেজে।
‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ সামনে রেখে রোববার দেশজুড়ে বিরাজ করে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। রাজধানী ঢাকা সারা দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন। একই রকম দলীয় নেতাকর্মীদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া। তার বাসভবনে কাউকে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। সংবাদমাধ্যমে নেই বিরোধী দলের কোনো নেতার উপস্থিতি। জোটের পরবর্তী কর্মসূচি নিয়ে অন্ধকারে দলের নেতাকর্মীরা। এ অবস্থায় রোববার বিকেল চারটায় হঠাৎ করেই সব মিডিয়ায় খালেদার সচিত্র সংবাদ পরিবেশন হতে থাকে।
সরকারি বাধায় রোববারের অভিযাত্রা কর্মসূচি হতে না পারায় তা সোমবার অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন খালেদা জিয়া। সরকারের এত এত নিরাপত্তাব্যবস্থা এড়িয়ে কীভাবে এটি সম্ভব হলো, তা নিয়ে এমনকি সরকারের ভেতরেও চলছে তুলপাড়।
নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন ও ঘোষিত তফসিল বাতিলের দাবিতে কয়েক দফা টানা অবরোধ শেষে মঙ্গলবার খালেদা জিয়া ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। রোববার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যারলয়ের সামনে সমবেত হওয়ার কথা ছিল অভিযাত্রায় অংশগ্রহণকারীদের। কিন্তু এই কর্মসূচিকে ঘিরে ঢাকার সঙ্গে সারা দেশের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় সরকারি দল ও প্রশাসন।
শনিবার রাতে ১৮ দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, যেকোনো মূল্যে রোববার কর্মসূচি পালিত হবে এবং তাতে বেগম খালেদা জিয়া উপস্থিত থাকবেন। এর পর থেকেই খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসার সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। বাসার সামনে দুই পাশের রাস্তায় বালুভর্তি ট্রাক দিয়ে ব্যারিকেড দেয়া হয়। তার পরও খালেদা জিয়া কর্মসূচিতে যোগ দেয়ার কথা জানালে রোববার সকালে নিরাপত্তা আরো জোরদার করা হয়। তবে শেষ পর্যরন্ত পুলিশি বাধায় কর্মসূচিতে যোগ দিতে পারেননি খালেদা জিয়া। যদিও সমাবেশস্থল নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যাগলয়ের সামনে সারা দিনে কোনো নেতাকর্মীর উপস্থিত হতে পারেননি।
খালেদার বাসার সামনে সাংবাদিকদের ‘না’
শনিবার রাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য উপস্থিত থাকলেও সাংবাদিকরা খালেদা জিয়ার বাসার সামনে অবস্থান করেই পেশাগত দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু রোববার ভোরে সেখানে থেকে তাদের সরিয়ে দেয়া হয়। এরপর তারা আর খালেদার বাসভবনের সামনে যেতে পারেননি।
ইলেকট্রনিকস মিডিয়ার সাংবাদিকরা বাসার সামনের রাস্তার দুই পাশে রাখা পাঁচটি বালুভর্তি ট্রাকের ওপর দাঁড়িয়ে দায়িত্ব পালন করেন। তবে খালেদার বাসার ঠিক সামনের কোনো চিত্র তুলে ধরতে না পারায় কিছুটা দুর্ভোগে পড়েন গণমাধ্যমকর্মীরা।
হঠাৎ হঠাৎ উত্তেজনা
পরিস্থিতি যা-ই হোক, খালেদা জিয়া নয়াপল্টনের কর্মসূচিতে যোগ দেবেন- দলের পক্ষ থেকে এমনটা বলা হলেও কখন বাসা থেকে বেরোবেন তিনি, তা নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি। শনিবার রাতে বলা হয়েছিল, সকাল ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে কর্মসূচি শুরু হবে এবং যথাসময়ে খালেদা জিয়া তাতে যোগ দেবেন।
তাই সকাল ১০টার পর থেকে এক ঘণ্টা ধরে চলে গণমাধ্যমকর্মীদের ব্যস্ততা। খালেদা জিয়া কখন বাসা থেকে বের হবেন, তা জানতে নিজ নিজ সূত্রে বিএনপির নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন সাংবাদিকরা। তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর খবর চাউর হয়, দুপুর ১২টার দিকে খালেদা জিয়া নয়াপল্টনের উদ্দেশে বাসা থেকে বের হবেন। পৌনে ১২টার দিকে তার প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা কর্নেল (অব.) আবদুল মজিদ সাংবাদিকদের জানান, “ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) প্রস্তুত আছেন। যেকোনো সময় তিনি বাসা থেকে বের হবেন।” এরপর শুরু হয় আরেক দফা উত্তেজনা। সঙ্গে বাড়তে থাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা। তবে এবারও তিনি বের হননি।
বেলা আড়াইটার দিকে শোনা যায়, একটু পরই বের হচ্ছেন খালেদা জিয়া। গণমাধ্যমকর্মীদের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের তৎপরতাও আরো বৃদ্ধি পায়। এরপর দুইটা ৫০ মিনিটে খালেদা জিয়ার বাসার মূল ফটক খোলে। ততক্ষণে ফটকের সামনে জড়ো হন বিপুলসংখ্যক মহিলা পুলিশ। পেছনে পুলিশের পুরুষ সদস্যরা।
এরপর কয়েকজন সদস্য নিয়ে খালেদার বাসার সামনে যান র্যা ব-১-এর অধিনায়ক কিসমত হায়াৎ।
সামনের আসনে খালেদা
সব সময় খালেদা জিয়া তার গাড়ির পেছনের নির্দিষ্ট আসনে বসলেও রোববার সামনের আসনে বসে বাসা থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। তবে পুলিশি বাধায় তিনি বের হতে সফল হননি।
এ সময় খালেদা জিয়া সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে চাইলেও পুলিশ সে সুযোগ দেয়নি তাকে। একটি বেসরকারি টেলিভিশনের সাংবাদিক বিএনপি-প্রধানের এই অনুরোধের কথা সেখানে উপস্থিত পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানালে তিনি তাতে কোনো সাড়া দেননি।
বিকল্প পথে খালেদার কাছে সাংবাদিকরা
রোববার সকাল থেকে খালেদা জিয়ার বাসার সামনে সাংবাদিকদের অবস্থান করতে না দিলেও বিকল্প পথে খালেদা জিয়ার কাছে ঠিকই পৌঁছে যান সাংবাদিকরা। প্রায় ২০ মিনিট তার বক্তব্য ও ছবি ধারণ করেন তারা।
বেলা সাড়ে তিনটার দিকে খালেদা জিয়ার বাসভবনের দক্ষিণ-পূর্ব পাশে একটি বাড়ির সীমানাপ্রাচীর বেয়ে সাংবাদিকদের একটি দল খালেদা জিয়ার বাড়ির সীমানাপ্রাচীরের কাছে যান। এ সময় খালেদা জিয়ার বাড়ির ভেতর থেকে একটি মই দেওয়া হয় তাদের। কয়েকজন সাংবাদিক সেই মই বেয়ে খালেদা জিয়ার বাড়িতে ঢুকে পড়েন। পরে তারা খালেদা জিয়ার গাড়ির কাছে গিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করেন।
তবে শুরুতে খেয়াল না করলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পরে গিয়ে বাঁশের মইটি সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় জোর আপত্তি জানান সাংবাদিকরা। একপর্যায়য়ে মইটি ভেঙে গেলে দেয়ালের পাশের একটি গাছ দিয়ে বাড়ির ভেতরে যান উপস্থিত সাংবাদিকরা।
Posted ০৭:৫৩ | সোমবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০১৩
Swadhindesh -স্বাধীনদেশ | admin