| মঙ্গলবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০১৩ | প্রিন্ট
ঢাকা, ৩১ ডিসেম্বর : ৫ জানুয়ারি ভোটের দিন হামলা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর সাবেক উপদেষ্টা ও আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান এইচ টি ইমাম। তিনি বলেন, নির্বাচন শতভাগ শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হওয়ার নিশ্চয়তা দিতে পারছি না। সম্প্রতি আন্দোলনের নামে বিরোধী দল যেমন বিস্ফোরণ ও হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে, ভোটের দিনও তারা এরকম ঘটনা ঘটাতে পারে।
আগামী ২ জানুয়ারি রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী জনসভার বিষয়ে অনুমতি নিতে এসে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এ আশঙ্কা প্রকাশ করেন। এ সময় তার সাথে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সাবেক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান।
এইচটি ইমাম বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু করার ব্যাপারে শতভাগ গ্যারান্টি দিতে না পারলেও আমরা চেষ্টা করব নির্বাচন যাতে শান্তিপূর্ণ হয় এবং ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে।
তিনি বলেন, ২ জানুয়ারি আমাদের নির্বাচনী জনসভার বিষয়ে আমরা অনুমতি নিতে এসেছি, এখানে লক্ষাধিক লোকের সভাবেশ হবে। আইন অনুযায়ী এটা করা যায় কিনা। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) আমাদের এটা না করতে পরামর্শ দিয়েছেন। কারণ, নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী তিনটির বেশি মাইক ব্যবহার আইন অনুযায়ী দন্ডনীয় অপরাধ।
দেশের বিভিন্ন জায়গায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভাগুলো আইন মেনে হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বেশিরভাগই পথসভা করছেন। এতে আইন মেনে তিনি বক্তব্য দিচ্ছেন।
আগামী ৩ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী নির্বাচন কমিশনের অনুমতি সাপেক্ষে বিটিভি ও বাংলাদেশ বেতারে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেবেন বলেও জানান এইচটি ইমাম।
নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হওয়ার উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের ৫৯টি জেলার ১৪৭টি আসনে নির্বাচন হবে। আমাদের কাছে তথ্য আছে এ নির্বাচনগুলো প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে।
ভোটারদের ভীতি দূর করা সরকারের দায়িত্ব উল্লেখ করে এইচটি ইমাম বলেন, বিরোধীজোট বিভিন্নভাবে সহিংসতা করে যাচ্ছে। এখন আবার অবরোধ ডেকেছে আমাদের বিশ্বাস আমরা অবরোধ ভেঙ্গে ফেলতে পারব। ভোটারদের ভীতি দূর করা আমাদের দায়িত্ব।
রাজনৈতিক সহিংসতার জন্য জামায়াতকে দায়ী করে তিনি বলেন, দেশের বর্তমান সহিংসতা বিরোধী দল করছে না। করছে জামায়াত-শিবির। এরা দেশে একটা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে চায়। তাদের মূল উদ্দেশ্য নির্বাচন বানচাল নয়, যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানো।
বিএনপি সহিংসতার বাইরে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, যেহেতু বিএনপি জামায়াতের স্বার্থ দেখছে এবং তাদের চাহিদা অনুযায়ী অবরোধ দিচ্ছে। সুতরাং তারাও জড়িত। এরা মূলত দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছে।
৫ জানুয়ারি নির্বাচন হয়ে গেলে বিরোধী দলের সঙ্গে সমঝোতা হবে কিনা জানতে চাইলে এইচটি ইমাম বলেন, আলোচনা সমঝোতার পথ সব সময় খোলা। আমাদের সভানেত্রী শেখ হাসিনা তো এই বিষয়ে আগেই বলেছেন।
এরশাদ নির্বাচনী প্রচার প্রচারণার বাইরে কিন্তু অন্যান্য দলীয় প্রধান প্রচারণায় আছে তাহলে কী বুঝা যায় এরশাদ নির্বাচনে নেই? এ ধরণের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এরশাদ নির্বাচনী প্রচারণায় না থাকলেও তার অন্যান্য শীর্ষ নেতারা রয়েছেন। সুতরাং নির্বাচনে তার সম্মতি আছে বলা যায়।
বিটিভিতে সরাসরি আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার প্রচারে নির্বাচনী আইন ভঙ্গ হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, শুধু বিটিভি নয়; অন্য টেলিভিশনেও এটা প্রচারিত হয়েছে। তবে এখানে বিটিভিকে অনুরোধ করা হয়েছে নাকি তারা নিজেদের মত করে প্রচার করেছে- তা আমার জানা নেই।
Posted ২৩:৪৬ | মঙ্গলবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০১৩
Swadhindesh -স্বাধীনদেশ | admin