| বৃহস্পতিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০১৩ | প্রিন্ট
সারা বিশ্বকে কাঁদিয়ে ৯৫ বছর বয়সে চলে গেলেন দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট অবিসংবাদি নেতা নেলসন ম্যান্ডেলা।দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমা বৃহস্পতিবার এক টিভি বার্তায় তার মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন।দেশটির প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট নেলসন ম্যান্ডেলা অনেকদিন ধরে ফুসফস সংক্রামণে ভুগছিলেন। এ কারণে তিনি বেশ কয়েকবার হাসপাতালেও ভর্তি হন।
এদিকে খবর প্রকাশ পরপরই তার বাসভবনের সামনে ফুল, কার্ড ও প্লাকার্ড নিয়ে জড়ো হতে শুরু করে ভক্তরা। ভক্তরা বলেছেন, যে মানুষটি একটি জাতির চেহারা বদলে দিয়েছে তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতেই তারা জড়ো হয়েছেন।তাকে কীভাবে মনে রাখলে খুশী হবেন তিনি? এমন প্রশ্নের জবাবে ম্যান্ডেলা বলেছিলেন, ‘এখানে এমন এক মানুষ শায়িত আছেন, যিনি পৃথিবীতে তার কর্তব্য সম্পাদন করেছেন। আমি চাই এটুকুই বলা হোক আমার সম্পর্কে।’
১৯১৮ সালের ১৮ জুলাই দক্ষিণ আফ্রিকার এমভিজোতে জন্ম নেন নোবেল শান্তি পুরস্কার জয়ী ম্যান্ডেলা। দক্ষিণ আফ্রিকার মানুষদের কাছে তিনি মাদিবা নামেই বেশি পরিচিত।তিনিই ছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট। ১৯৯৪ সাল থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত তিনি এই দায়িত্ব পালন করেন।
আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসের সশস্ত্র সংগঠন উমখন্তো উই সিযওয়ের নেতাও ছিলেন ম্যান্ডেলা। সেসময় বর্ণবাদসহ বিভিন্ন অন্যায়, অপরাধ ও কুসংস্কারে ছেয়ে কৃষ্ণাঙ্গ মানুষের অধিকার রক্ষায় সচেষ্ট হন তিনি।বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়ায় ম্যান্ডেলাকে ১৯৬২ সালে দেশটির বর্ণবাদী সরকার গ্রেপ্তার করে ও নানা অপরাধের দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়।এরপর থেকে কয়েক দফায় প্রায় ২৭ বছর কারাভোগকারী এই বিশ্বনেতাকে অধিকাংশ সময়ই নির্বাসনে কাটাতে হয়েছে দুর্গম রবেন দ্বীপে।
অনেক সংগ্রামের পর ১৯৯০ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি কারামুক্ত হয়ে তার দলের পক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকার শ্বেতাঙ্গ সরকারের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় অংশ নেন তিনি। যেখানে সব বর্ণ এবং সব জাতির সমানাধিকার থাকবে। এর পথ ধরেই ১৯৯৪ সালের নির্বাচনে বিপুল ভোটে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হন নেলসন ম্যান্ডেলা। এর ফলে দেশটিতে বর্ণবাদের অবসান ঘটে ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৯৯৪ সালে ম্যান্ডেলা বিয়ে করেন ইভলিন মেসকে। তবে এই বিয়ে বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। দ্বিতীয় স্ত্রী এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহযোদ্ধা উইনি মানডেলা। তার সঙ্গেও বিচ্ছেদ হয়। পরে নিজের ৮০তম জন্মদিনে ম্যান্ডেলা তৃতীয়বার বিয়ে করেন মোজাম্বিকের সাবেক ফার্স্ট লেডি গ্রাসা মার্শেলকে।অবসরে যাওয়ার পরও নেলসন মানডেলার ব্যস্ততা থামেনি, স্বাধীনতা এবং বিশ্ব শান্তির এক প্রতীকে পরিণত হন তিনি। তার এক ছেলে মারা গিয়েছিলেন এইডসে। এ ঘটনার পর তিনি দক্ষিণ আফ্রিকায় এইডস প্রতিরোধ এবং এর চিকিৎসা নিয়ে সোচ্চার হন।বাকি জীবনের বেশিরভাগ সময় তিনি দারিদ্র দূরীকরণ এবং এইডস নিরাময়ের লক্ষ্যে প্রচারণায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন।
Posted ২৩:৫৩ | বৃহস্পতিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০১৩
Swadhindesh -স্বাধীনদেশ | admin