| শনিবার, ০৪ জানুয়ারি ২০১৪ | প্রিন্ট
মো. রাশেদুল কবির আজাদ
বিশ্বনবী (সা.) এর বংশ পরিচয়
সম্মানিত পাঠক, পবিত্র এই মহরম মাসে আমি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব বিশ্বনবী (সা.) এর মহামূল্যবান জীবনযাত্রা সম্পর্কে আপনাদের সামনে কিছু উপস্থাপনের চেষ্টা করে যাচ্ছি সেই করুণাময় মহান আল্লাহপাকের রহমত কামনা করে। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনের সবচেয়ে বড় বিস্ময় হচ্ছে আল কোরআন। পবিত্র কোরআন নাযিল হওয়ার পর থেকে কেয়ামত পর্যন্ত এর মধ্যে একটি শব্দের সংযোজন বা বাদ দেয়ার ক্ষমতা পৃথিবীর কোনো মানুষের হবে না বলে মহান আল্লাহপাক নিজেই পাক কোরআনে ঘোষণা করেছেন।
আজ আমি আমাদের প্রিয় নবী, বিশ্বনবী, নবীদের নবী, শেষ নবী, সারা সৃষ্টিকূলের জন্য সর্বোত্তম আদর্শ, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বংশ পরিচয় আপনাদের খেদমতে উপস্থাপন করবো, ইন্শা আল্লাহ্। প্রতিটি মুসলমান তো বটেই প্রতিটি মানুষেরই জানা উচিত বিশ্বনবী (সা.) বংশ পরিচয়।
বংশ পরিচয়
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বংশধারাকে তিন ভাগে বিভক্ত করা যায়। এর এক অংশের নির্ভুলতার ব্যাপারে সীরাত রচয়িতা এবং বংশধারা বিশেষজ্ঞরা একমত। আমি আজ সেই সীরাত রচয়িতা এবং বংশধারা বিশেষজ্ঞদের বর্ণনাটাই আপনাদের সামনে তুলে ধরছি।
মোহাম্মদ (সা.) ইবনে আবদুল্লাহ
ইবনে আবদুল মোত্তালেব (শায়বা) ইবনে হাশেম (আমর)
ইবনে আবদে মানাফ (মুগীরা) ইবনে কুসাই (যায়দ)
ইবনে কেলাব ইবনে মোররা
ইবনে কা’ব ইবনে লুয়াই
ইবনে গালেব ইবনে ফেহের (এর উপাধিই ছিলো কোরায়শ এবং তার প্রতি সন্বন্ধিত করেই কোরায়শ গোত্রকে কোরায়শ বলা হয়,)
ইবনে মালেক ইবনে নযর (কায়স)
ইবনে কেনানা ইবনে খোযায়মা
ইবনে মোদরেফা (আমের) ইবনে ইলিয়াস
ইবনে মোদার ইবনে নাযার
ইবনে মায়া’দ ইবনে আদনান।
পবিত্র এই মহরম মাসে আসুন বিশ্বনবী (সা.) এর এই বংশ পরিচয়টা অন্তত আমরা মনে রাখার দৃঢ় সংকল্প গ্রহণ করি। হজরত ওমর (রা.) এর এক রেওয়াতে পাওয়া যায়, কবরে পুনরায় জীবিত করার পর মানুষের স্বাভাবিক হুঁশ থাকবে। তিনি এভাবে বলেছিলেন, ‘যেহেতু আমার হুঁশ থাকবে সেহেতু ফেরেস্তাদের প্রশ্নের উত্তর দিতে আমার কোনো অসুবিধা হবে না’।
হজরত ওমর (রা.) এর সেই একই আল্লাহতালার আনুগত্য আমরাও করি। তাহলে আমাদেরও কবরে হুঁশ থাকবে। যখন ফেরেস্তেরা আমাকে আপনাকে প্রশ্ন করবে (ছবি দেখাবে) ‘তোমার নবীর নাম কী’? তখন যেন আল্লাহতালা আমাদেরকে শুধু নবীর নাম নয় তার সাথে নবীজী (সা.) পুরো বংশ পরিচয় বলে দেয়ার তওফিক দান করেন। আমিন।
পবিত্র এই মাসে বিশ্বনবী (সা.) এর ওপর কোটি কোটি দরূদ ও সালাম পেশ করছি এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবা আজমাঈনদের প্রতি মহান আল্লাহতালা যেন অফুরন্ত রহমত বর্ষণ করতেই থাকেন। আমিন।
বাংলাদেশে এখনও এমন মানুষ আছেন যারা দিন-রাতে প্রায় ৩০,০০০ হাজার বার দরূদে ইব্রাহিম পাঠ করেন। আসুন আমরা আজ থেকেই নিয়ত করি দিনে অন্তত ৫ বার দরূদে ইব্রাহিম পাঠ করবো। এটা কোনো কঠিন কাজ নয়। যে ব্যক্তি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেন তিনি প্রতিদিন কমপক্ষে ফজরে (১+১)+যোহরে (১+১+১)+আসরে (১)+মাগরিবে (১+১)+এশা (১+১)+ ও বেতের +(১)=১১ বার দরূদে ইব্রাহিম পাঠ করেন। একমাত্র দরূদ শরীফ দোয়াটিই সঙ্গে সঙ্গে কবুল হয়ে যায় যাওয়ার ১০০% নিশ্চয়তা আছে এবং তা সঙ্গে সঙ্গে নবীজী (সা.) এর রওজা মোবারকে পৌছে দেয়া হয় পাঠকারীর নাম ও তাঁর পিতা-মাতার নামসহ।
মো. রাশেদুল কবির আজাদ
লেখক ও কলামিস্ট
kabir_rashidul@yahoo.com
Posted ০৫:৪৫ | শনিবার, ০৪ জানুয়ারি ২০১৪
Swadhindesh -স্বাধীনদেশ | admin