| শুক্রবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০১৩ | প্রিন্ট

নিজস্ব সংবাদদাতা : আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি নেত্রী জামায়াতকে সাথে নিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মারছেন। ব্যবসা বানিজ্য সব বন্ধ হয়ে গেছে। গরিবের পেটে লাথি মারছে। অন্যদিকে তিনি ক্ষমতায় থাকতে মেলা টাকা কামাই করে রেখেছেন। এখন অবরোধ ডেকে ঘরে বসে টিভি দেখেন মুরগির সুপ খান-রোস্ট চাবান। আর গরিব মানুষ ভাতে মরে। এটাই হচ্ছে বিএনপির কাজ। শুক্রবার বিকালে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং কলেজ মাঠে এবং শ্রীনগর স্টেডিয়ামে উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত পৃথক দু’টি নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বিএনপি নেত্রীকে নেত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনারা নির্বাচনে আসেন নাই। এটা আপনাদের সিদ্ধান্ত। হাই কোর্ট জামায়াতকে সঙ্গী সংগঠন হিসাবে নিষিদ্ধ করে বায় দিয়েছে এবং জামাত নির্বাচনে অংশ গ্রহন করতে পারবেন না। জামাত আসতে পারবেনা সেই শোকে বিএনপি নেত্রী আপনি নিজেই নির্বাচনে অংশ গ্রহন করেননি। আর নির্বাচন বানচালের হুকুম দিয়েছেন। জনগণকে উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগ নেত্রী বলেন, আমি আপনাদের আহ্বান জানাবো-ভোটের অধিকার নির্বাচনের অধিকার আপনাদের অধিকার। আগামী ৫ জানুয়ারি নির্বাচন। সেই নির্বাচনে আপনারা সকলে অংশ গ্রহন করবেন। নির্বাচনে ভোট দিবেন কেউ যদি বাঁধা দিতে আসে, সেখানেই প্রতিরোধ করে তুলবেন। যাতে আপনাদের অধিকারে কেউ বাধা দিতে না পারে।
প্রধানমন্ত্রী বিগত বিএনপি জামাত সরকারের নানা ঘটনা তুলে ধরে বলেন, তারা বাংলাদেশকে জঙ্গী, দুনীর্তিবাজ ও ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসেবে পরিনত করেছিলেন। কারণ হচ্ছে বিএনপি নেত্রীতো জন্ম বাংলাদেশে নয়। তিনি ভারতের শিলিগুড়িতে জন্ম গ্রহন করেছেন। তাই বাংলাদেশের প্রতি তার দয়া মায়া নেই। আর জামায়াতের মূল হচ্ছে পাকিস্থানে, যারা এই দেশে নির্মমহত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে। তাই তারা বাংলাদেশকে অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিনত করেছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ আসলে জাতি ভালো থাকতে পারে। রাস্তা ঘাটের উন্নতিসহ সবক্ষেত্রে মানুষের কল্যাণে কাজ করে।
প্রধানমন্ত্রী বিস্তারিত বর্ণণা দিয়ে বলেন, বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় থাকতে একজন সাধারণ লোক যে টাকা কামাই করতো তা দিয়ে ২ থেকে তিন কেজি চাল ক্রয় করা যেত। আর আজকে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে একজন দিন মজুর যা কামাই করে তা দিয়ে ৮ থেকে ১০ কেজি চাল কিনতে পারে। সংসারে সচ্ছলতা ফিরে এসেছে। শ্রমিকদের বেতন আমরা বাড়িয়েছি। কৃষকদের জন্য ভর্তুকীর ব্যবস্থা করেছি। ১০ টাকায় ব্যাংক একাউন্ড খুলে সহসায় ভর্তুকীর টাকা কৃষকের কাছে যায়। উন্নত মানের সার বীজ সরবরাহ করে যাচ্ছি। বাংলাদেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। শিক্ষাকে আমরা গুরুত্ব দেই। আমাদের ছেলে মেয়েরা পড়াশুনা করে মানুষের মত মানুষ হবে। আজকে পিতা-মাতাকে বই কিনতে হয়না। সেই বই কেনার দায়িত্ব আমরা নিয়েছি। আমরা বৃত্তি এবং উপ বৃত্তি দিচ্ছি। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৭৮ লাখ ৭০ হাজার ১শ’ ২৯ জন ছাত্র ছাত্রী বৃত্তি পাচ্ছে। মাধ্যমিক পর্যায়ে ৪০ লাখ ছাত্রছাত্রী বৃত্তি পাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ফান্ড গঠন করেছি। সেই ফান্ড দিয়ে ডিগ্রি পর্যন্ত মেধাবী ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দিচ্ছি। ১লাখ ৩৩ হাজার শিক্ষার্থীকে আমরা বৃত্তি দেয়ার ব্যবস্থা করেছিল। ভবিষ্যতে আরও ছাত্রছাত্রীদের বৃত্তি দেয়া বৃদ্ধি করা হবে।
বিদ্যুত পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুতের জন্য হাহাকার ছিল। সেই বিদ্যুত সমস্যা সমাধান করেছি। ৩ হাজার ২শ’ মেঘাওয়ার্ড বিদ্যুত পেয়েছিলাম। এখন ১০ হাজারে ওপরে আমরা বিদ্যুত উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছি। আমরা প্রত্যেক অঞ্চলে কৃষিজাত প্রক্রিয়া ও শিল্পজাত প্রক্রিয়া তৈরী করে দিয়েছি। আগামীতে আরও করে দিব। বন্ধ শিল্প কারখানা আমরা চালু করেছি। আমাদের বেকার যুবক তাদের কর্মসংস্থানের জন্য এক দিকে যেমন ব্যাংক-বীমা, বেসরকারী টেলিভিশনসহ অনেক প্রতিষ্ঠান আমরা বেসরকারী খাতে করে দিয়েছি। যেখানে অনেক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। সরকারী বেসরকারী মিলে এক কোটির বেশী যুবকের কর্মসংস্থানে ব্যবস্থা করেছি। আমাদের তরুন তরুনীরা চাকুরী পেয়েছে। প্রত্যেক ইউনিয়নে ইন্টারনেট সার্ভিস চালু হয়েছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলেছি। যে ইন্টারনেট সার্ভিস তথ্য সেবা দিয়ে যাচ্ছে। সেই তথ্য সেবা কেন্দ্রে স্থানীয় ছেলে মেয়েরা একটু শিক্ষা নিয়ে চাকুরী করতে পারছে।
লৌহজং কলেজ মাঠে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ ফকির মো. আব্দুল হামিদের সভাপতিত্বে মুন্সীগঞ্জ-২ আসনের আওয়ামী লীগ প্রার্থী সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলির সমর্থনে বিশাল এই জনসভায় সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি ছাড়াও বক্তব্য রাখেন প্রেসিডিয়াম সদস্য নূহ আলম লেনিন, সাংগঠনিক সম্পাদক আহম্মেদ হোসেন, স্বাস্থ্য সম্পাদক বদিউজ্জামান ডাবলু, মহিলা সম্পাদক ফজিলাতুন্নেসা ইন্দিরা, ঢাকা-৪ আসনের সাংসদ সদস্য সানজিদা খানম, উপ দফতর সম্পাদক মৃনাল কান্তি দাস, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ মো. মহিউদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক আলহাজ শেখ লুৎফর রহমান, লৌহজং উপজেলা চেয়ারম্যান ওসমান গনি তালুকদার, টঙ্গীবাড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার কাজী ওয়াহিদ, টঙ্গীবাড়ি আওয়ামী লীগের সভাপতি জগলুল হালদার ভুতু, সাধারণ সম্পাদক আসাদ আল বারেক ও লৌহজং উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ. রশিদ শিকদার প্রমুখ। এখানে প্রধানমন্ত্রী প্রায় ১৪ মিনিট বক্তব্য রাখেন।
শ্রীনগর স্টেডিয়ামে বিশাল নির্বাচনী জনসভায় মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের আওয়ামী লীগ প্রার্থী সুকুমার রজ্ঞন ঘোষের সমর্থনে আওয়ামী লীগ নেত্রী প্রায় ৫ মিনিট বক্তব্য রাখেন। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুকুমার রজ্ঞন ঘোষের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন উপ দফতর সম্পাদক মৃনাল কান্তি দাস, সিরাজিদিখান উপজেলা চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন আহম্মেদ, শ্রীনগর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সেলিম আহম্মেদ ভূইয়া, শ্রীনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন, সিরাজদিখান উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম সোহরাব হোসেন ও গোলাম সরওয়ার কবির প্রমুখ। প্রধানমন্ত্রী এখানে বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদ জিয়াকে উদ্দেশ্যে করে বলেন, “মানুষ পুড়িয়ে মারার জন্য আপনার বিচার বাংলার মাটিতেই হবে।”
দু’টি অনুষ্ঠানে নৌকা প্রতীক নিয়ে মিছিলে মিছিলে উৎসব মুখর হয়ে উঠে। নানা স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠে এলাকা।
Posted ২১:৫৪ | শুক্রবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০১৩
Swadhindesh -স্বাধীনদেশ | admin