| বুধবার, ০১ জানুয়ারি ২০১৪ | প্রিন্ট
ঢাকা, ১ জানুয়ারি : বাংলাদেশে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চলমান রাজনৈতিক সংকটে ভারতের পররাষ্ট্রনীতি কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছে ভারতের প্রভাবশালী পত্রিকা দ্য হিন্দু। ৫ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচনে গঠিত সরকার বৈধতা পাবে না বলেও পত্রিকাটি উল্লেখ করেছে।
বুধবার পত্রিকাটিতে “আনসার্টেনিটি ইন বাংলাদেশ” শিরোনামে প্রকাশিত সম্পাদকীয় কলামে এ মন্তব্য করা হয়েছে।
দ্য হিন্দুর সম্পাদকীয়তে বাংলাদেশ বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্রনীতি কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ভারত অন্তত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পরামর্শ দিতে পারতো যে, তিনি যেন তার বিরোধীদের ব্যাপারে আরও কম অসংযত আচরণ করেন। কিন্তু এখন সে কাজেও অনেক দেরি হয়ে গেছে। নির্বাচন-উত্তর বাংলাদেশ আরও বেশি অস্থিরতার দিকে ধাবিত হবে এবং নতুন যে সরকারটি সমস্যাসঙ্কুল পথে ক্ষমতায় আসতে যাচ্ছে তার সঙ্গে নয়া দিল্লির সম্পর্ক হয়ে পড়বে আরও জটিল।
বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ৫ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচন বৈধতা পাবে না উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ক্ষমতাসীন দল অর্ধেকের বেশি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হতে যাচ্ছে। কিন্তু এই একতরফা নির্বাচনে বিজয়ী সরকার বৈধতা পাবে না, যা তারা ২০০৮ এ পেয়েছিল।
দেশটির পররাষ্ট্রনীতির কারণেই বাংলাদেশে ভারতবিরোধী মনোভাব বাড়ছে উল্লেখ করে সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, এটা গোপন নেই যে, ঢাকার সঙ্গে নয়া দিল্লির সম্পর্ক আওয়ামী লীগের ক্ষমতাসীন অবস্থায় সবচেয়ে ভাল। ভারতের পররাষ্ট্র নীতির নিরিখ থেকে, আরও স্পষ্ট করে বললে- ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার নিরিখে বিগত ৫ বছরের চেয়ে ভাল সময় আর আসেনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কট্টর ইসলামপন্থী ও উত্তরপূর্ব ভারতের জঙ্গীদের নিরাপদ আশ্রয়ে অভিযান চালিয়েছেন। যদিও এই হিসাব-নিকাশ বাংলাদেশের ভেতরে ভারত-বিরোধী অনুভূতিকে অভূতপূর্বভাবে জাগিয়ে তুলেছে। বিশেষ করে তিস্তা চুক্তি নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থানের সমান্তরাল অবস্থান ভারত নিতে পারেনি বলে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
বাংলাদেশের নির্বাচন ও বিরোধীদল সমূহের অবস্থা তুল ধরে সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, বিএনপির শীর্ষ নেতা খালেদা জিয়া কার্যত গৃহবন্দী। আরেক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, ক্ষমতাসীন জোটের দ্বিতীয় বৃহত্তম দল জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদকেও পুলিশ ধরে নিয়ে সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করেছে। নির্বাচন বর্জন করছেন ঘোষণা দেয়ার পরই এ ঘটনা ঘটেছে। ফলে নির্বাচনে এখন আছে শুধু আওয়ামী লীগই। জামায়াত-ই-ইসলামীকে নির্বাচনে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
আগামী ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে বাংলাদেশের দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের মধ্যে সমঝোতার আশা ক্ষীণ বলেও দাবী করা হয় সম্পাদকীয়তে। ভারতের জনপ্রিয় এই পত্রিকায় বলা হয়, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে বিরোধী দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র সঙ্গে রাস্তার হিংস্র সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে- যা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রধান বিরোধী দলের ডাকা ১ জানুয়ারি থেকে রাস্তা, রেলপথ ও নৌপথে অবরোধের ফলে বর্তমান সংঘাত আরো উস্কে উঠবে বলেও উল্লেখ করেছে দ্য হিন্দু।
Posted ১৩:৫২ | বুধবার, ০১ জানুয়ারি ২০১৪
Swadhindesh -স্বাধীনদেশ | admin