| শনিবার, ২৫ জানুয়ারি ২০১৪ | প্রিন্ট
আনোয়ার হোসেন রানা, গাইবান্ধা : দীর্ঘ এক যুগ পর গাইবান্ধায় আসলেন বাংলাদেশের তৃতীয় বারের সফল প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা। তাকে একনজর দেখতে লাখো জনতা জনসভায় আসেন। জনতার উদ্দেশ্য গাইবান্ধার শাহ আব্দুল হামিদ ষ্টেডিয়ামে আওয়ামী লীগ আয়োজিত শনিবারের জনসভায় জেলা পরিষদ প্রশাসক এ্যাড সৈয়দ সামছুল আলম হিরুর সভাপতিত্বে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ৫ই জানুয়ারীর নির্বাচন বিএনপি জামাত প্রতিহত করার চেষ্টা করেছিল, অনেক বাধাবিঘ্ন পেরিয়ে আপনারা নৌকা প্রতিক তথা আওয়ামীলীগকে জয়যুক্ত করেছেন। সেজন্য সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদদের ঠাঁই বাংলাদেশের মাটিতে নেই।
তিনি আরো বলেন, জামায়াত-বিএনপি রাজনৈতিক অস্থিরতা করে কৃষক ও শিক্ষার্থীর ক্ষতি করার চেষ্টা করেছিল তাদের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। আমরা কৃষকের সার পর্যাপ্ত পরিমানে পাওয়ার ব্যবস্থা করেছি। শিক্ষার্থীর বই বছরের শুরুতে দিতে পেরেছি। জানুয়ারীর ২ তারিখে বই উৎসব পালন করেছি।
তিনি বলেন, গাইবান্ধার তথা দেশের একজন মানুষকে না খেয়ে মরতে হবেনা। স্বাস্থ্যর উন্নয়নে নবনির্মিত পলাশবাড়ি, সাঘাটা ও ফুলছড়ির ৩১ শয্যা হাসপাতাল থেকে ৫০ শয্যা উন্নতির উদ্বোধন করেন। এছাড়া আধুনিক থানাভবন, খাদ্য গুদাম, ভোকেশনাল, ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশন ও সিভিল ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশনের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। মোট ১৭টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তি প্রস্তর উদ্বোধন করেন।
বক্তব্য তিনি বলেন, বিএনপি জামাত গাইবান্ধায় নাশকতা চালিয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা, ৪পুলিশসহ ১০জনকে হত্যা, ট্রেনে ফিসপ্লেট খুলে নাশকতার মাধ্যমে মানুষ হত্যা, হরতাল অবরোধের নামে রাস্তার গাছকেটে সাবাড়, ব্রীজ, রাস্তাঘাট ধ্বংস, সংখ্যালঘু পরিবারের বাড়িঘরে ভাঙ্গচুর হামলা, মারপিট, নির্বাচন ঠেকাতে ১৫৭টি স্কুল ঘর ক্ষতিগ্রস্ত করেন।
তিনি খালেদা জিয়ার উদ্দেশ্য বলেন, স্কুলে ছেলে মেয়েরা লেখাপড়া করে, রসেই প্রতিষ্ঠানের উপর এত রাগ ক্ষোভ কেন আপনার। আরো বলেন খালেদা মেট্রিক পাশ করেছিল ১০ বিষয়ের মধ্যে দুবিষয় নিয়ে। বিষয় দুটি হলো অংক ও উরদু। বাকী সব বিষয়ে অকৃতকার্য। দুর্ণীতির বিষয়ে তিনি বলেন, অংকে পাশ করার কারন সর্ম্পকে বলেন খালেদা শুধু টাকা গুনতে পারেন।
১৯৭১ সালে যুদ্ধাপরাধীর বিচার বাধাগ্রস্ত ও তার পিতাসহ সপরিবারে হত্যার বিষয়ে বলেন, যত চেষ্টা করা হোকনা কেন হত্যাকারী ও দেশদ্রোহীদের আপনি কাউকে রক্ষা করতে পারবেন না। বাংলার মাটিতে এদের বিচার হবেই।
পাকিস্তানের প্রতি খালেদার ভালবাসার কথা তুলে ধরে বলেন, আপনি পাকিস্তানে চলে যান, বাংলার মানুষকে আর ধোকা দিবেন না।
তিনি বলেন, নদীভাঙন কবলিত ১টি গৃহহীন পরিবার থাকবেনা। আমি প্রশাসনকে বলে দিয়েছি একটি টিনের ঘর হলেও তাদের দিব।
বালাসী-বাহাদুরাবাদ ফেরিঘাট চালুর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ড্রেজিং ও ফেরির ব্যবস্থাসহ পুর্বেরমত ফেরি চলাচল ব্যবস্থা চালু করা হবে। রেলওয়ে সেতু নির্মাণ সম্ভব হলে সেটা করেও দিবেন বলে আশ্বস্থ করেন।
স্বাধীনতার চেতনা ছিল ক্ষুধামুক্ত বাংলাদেশ গড়ার, ২০২১ সালের মধ্যে ক্ষুধামুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলব। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে দ্বিতীয় মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে পরিচিত করবো।
বিদ্যুৎ নিয়ে বলেন, সব এলাকায় বাড়ি বাড়ি বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা হবে। চরাঞ্চলে সোলার প্যানেলের মাধ্যমে বিদ্যুতের অভাব মেটানো হব।
এছাড়া জনসভায় বক্তব্য রাখেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোঃ নাসিম, এ্যাড,ফজলে রাব্বী মিয়া এমপি, মাহবুব আরা গিণি, হোসেন জিল্লুর রহমান, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী আ. রাজ্জাক, কর্ণেল ফারুক খান, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী মির্জা আজম, আসাদুজ্জামান কামাল, ডা. ইউনুস আলি এমপি, মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন, সাবেক এমপি মনোয়ার হোসেন চৌধুরি, সাবেক কেন্দ্রিয় ছাত্রলীগ সভাপতি মাহমুদ হাসান রিপনসহ অনেকে।
Posted ১৬:৪১ | শনিবার, ২৫ জানুয়ারি ২০১৪
Swadhindesh -স্বাধীনদেশ | admin