বৃহস্পতিবার ১৮ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

ফ্রিডম অব দ্য সিটি অব লন্ডন সম্মাননায় ভূষিত রফিকুল ইসলাম

  |   মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২০ | প্রিন্ট

ফ্রিডম অব দ্য সিটি অব লন্ডন সম্মাননায় ভূষিত রফিকুল ইসলাম

স্টাফ রিপোর্টার 

কমিউনিটি সেবায় বিশেষ ও ব্যতিক্রমধর্মী অবদান রাখার জন্য পূর্ব লন্ডনের আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কর্মী রফিকুল ইসলামকে “ফ্রিডম অব দ্য সিটি অব লন্ডন (ফ্রিম্যানশীপ) সম্মাননা দেয়া হয়। সম্প্রতি লন্ডনের গিল্ডহলের চেম্বারলেইনস কোর্ট রুমে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাঁকে এ সম্মাননা দেয়া হয়। অনুষ্ঠানে রফিকুল ইসলামকে শপথ বাক্য পাঠ করিয়ে অভিনন্দন জানানো হয়। ব্রিটিশ বাংলাদেশিদের মধ্যে রফিকুল সবচেয়ে কনিষ্ঠতম যিনি এই সম্মাননায় ভূষিত হলেন।
“ফ্রিডম অব দ্য সিটি অব লন্ডন” সম্মাননা পাওয়ার পর এক প্রতিক্রিয়ায় রফিকুল ইসলাম বলেন “আমি অত্যন্ত বিনয়ের সাথে এই প্রস্টিজিয়াস সম্মাননা গ্রহন করছি। এটি আমার কমিউনিটি ও পূর্ব লন্ডনের জনগনের জন্য উৎসর্গ করলাম। এই সম্মাননা কমিউনিটির জন্য আরও অধিক কাজ করতে আমাকে উৎসাহিত ও অনুপ্রানিত করবে।
কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কর্মী রফিকুল বিভিন্ন তৃণমূল কাজের মাধ্যমে সমাজের সুবিধা বঞ্চিতদের সহায়তা করার জন্য বিভিন্ন মানুষকে তাদের সম্প্রদায়ের সাথে আরও যুক্ত হতে অনুপ্রাণিত করেছেন। রফিকুল তাঁর দক্ষতা ও প্রতিভা কাজে লাগিয়ে স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে নানা ধরনের পদক্ষেপ নেন। এর মধ্যে রয়েছে , গত পাঁচ বছরে বিভিন্ন দাতব্য প্রতিষ্ঠানের জন্য অর্ধ মিলিয়ন পাউন্ড সংগ্রহ এবং একটি আন্তর্জাতিক প্রকল্পের জন্য তহবিল সংগ্রহের জন্য লন্ডন থেকে প্যারিসে সাইকেল ভ্রমনে অংশ নেওয়া।
রফিকুল দীর্ঘ ১৫ বছর যাবৎ জনগণের জীবনমান উন্নয়নে নানা ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। শিক্ষাজীবনে তাঁর কলেজের ছাত্র সংসদে ডেপুটি লিডার হিসাবে নির্বাচিত হয়ে আন্তর্জাতিক উন্নয়নমূলক কাজে শীর্ষস্থানীয় হয়ে ওঠেন। বিশ্বখ্যাত অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে আপ-রাইজিং লিডারশিপ প্রোগ্রামে নেতৃত্বের প্রশিক্ষণ নেন রফিকুল। ওই প্রশিক্ষন শেষে তিনি মন্তব্য করেছিলেন ঃ ‘ এই প্রশিক্ষণ আমাকে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে তুলতে এবং আমার অনেক দক্ষতা সম্পর্কে সচেতন হতে সহায়তা করেছে। প্রোগ্রামগুলি সত্যিই আমার জীবনকে বদলে দিয়েছে এবং আমার আশেপাশের সম্প্রদায় এবং বিশ্বের উন্নয়নে কাজ চালিয়ে যেতে অনুপ্রেরণা দিয়েছে। ’
রফিকুল স্থানীয়, জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন প্রকল্প সক্রিয় করেছে। তিনি গ্যাম্বিয়া, সোমালিল্যান্ড, বসনিয়া, চীন, বাংলাদেশ, মন্টিনিগ্রো এবং তানজানিয়াসহ বিশ্বের ২০ টিরও বেশি দেশে বিভিন্ন প্রতিনিধি দলকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। পূর্ব লন্ডনের গৃহহীন, বৃদ্ধ, নিঃসঙ্গ ও দরিদ্রদের জন্য দাতব্য প্রতিষ্ঠান ওয়ান থার্ড স্যুপ কিচেনে যোগ দিয়ে রফিকুল গৃহহীন ও সুবিধাবঞ্চিত নাগরিকদের জন্য নিয়মিত খাবার সরবরাহ করেন ।
সামাজিক কর্মকান্ড ছাড়াও, রফিকুল পার্লামেন্টের হাউসগুলিতে কাজ করেছেন। কেমডেন কাউন্সিলের বেশ কয়েকটি মেয়রের সহকারী এবং নির্বাচিত নেতৃত্বের সাথে সিটি অফ লন্ডন কর্পোরেশন নিযুক্ত হয়েছেন। রফিকুলকে পরবর্তী প্রজন্মকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য উদীয়মান ভবিষ্যতের নেতাদের মধ্যে অন্যতম হিসাবে বিবেচনা করা হয়।
ফ্রিম্যানশীপ সম্মাননায় অভিষিক্ত হয়ে রফিকুল তার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, ‘এটি আমার জন্য এক বিশাল সম্মান। আমার পরিবার, সহকর্মী ও শুভাকাংখিদের তাদের দিকনির্দেশনা এবং আমার প্রতি বিশ্বাসের জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানাতে চাই।”

জানা যায়, ১২৩৭ সাল থেকে ফ্রিডম অব দ্য সিটি অব লন্ডন (ফ্রিম্যানশীপ) সম্মাননা চালু রয়েছে। স্ব স্ব ক্ষেত্রে সফল ব্যক্তিরা এ সম্মাননা পেয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে অনারারি ফ্রিডম অব দ্য সিটি অব লন্ডন সম্মাননা লাভ করেছেন সব নামি-দামি ব্যক্তিত্বরা। এদের মধ্যে অন্যতম ডিউক অব ক্যামব্রিজ প্রিন্স জর্জ ১৮৫৭ সালে এ সম্মান লাভ করেন। এছাড়া দক্ষিন আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট নেলসন ম্যান্ডেলা, বৃটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল, বেনজামিন ডিস্রাইলি ও মার্গারেট থ্যাচার, বৃটিশ রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্সেস ডায়ানা, ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল, সাবেক জার্মান চ্যান্সেলর হেলমট কোহলসহ অনেকে।
অপরদিকে সদ্য বিদায় নেয়া বৃটিশ পার্লামেন্টের স্পিকার জন বারকো, বৃটিশ চ্যান্সেলর সাজিদ জাবিদ, ইংলিশ ক্রিকেটার আ্যালিস্টার কুক, অভিনেতা এডি রেডমেইন, ডেনিয়েল লুইস, স্টীফেন ফ্রাই, ইয়ান মেককেলেন, মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেইট, প্রতিষ্ঠিত বৃটিশ কুটনীতিক, রাজনীতিক, সংগীতশিল্পী, অভিনেতাসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা বিভিন্ন সময়ে ফ্রিডম অব দ্য সিটি অব লন্ডন সম্মাননা লাভ করেছেন। অতি সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে চীনের রাস্ট্রদুত, ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের গভর্নর মার্ক কার্নি ও সদ্য অবসরে যাওয়া বৃটিশ সুপ্রিম কোর্টের প্রেসিডেন্ট লেডি হেইলকে অনারারি এ সম্মাননা প্রদান করা হয়।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ০৭:৫৭ | মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২০

Swadhindesh -স্বাধীনদেশ |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

Advisory Editor
Professor Abdul Quadir Saleh
Editor
Advocate Md Obaydul Kabir
যোগাযোগ

Bangladesh : Moghbazar, Ramna, Dhaka -1217

ফোন : Europe Office: 560 Coventry Road, Small Heath, Birmingham, B10 0UN,

E-mail: news@swadhindesh.com, swadhindesh24@gmail.com