| শুক্রবার, ০৩ জানুয়ারি ২০১৪ | প্রিন্ট
দশম সংসদ নির্বাচনের ভোট আগামী রোববার। নির্বাচনের সকল প্রস্তুতি ইতিমধ্যে সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সুষ্ঠুভাবে ভোট গ্রহণের কার্যক্রম শেষ করতে প্রস্তুত রাখা হয়েছে আড়াই লাখ কর্মকর্তা। শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে সারাদেশে মিছিল, সভা-সমাবেশ, শোভাযাত্রা ও সব ধরনের প্রচারণা বন্ধ হয়েছে। শনিবার রাত ১২টা থেকেই বন্ধ থাকবে সব ধরনের যান চলাচল। সারাদেশে সেনা মোতায়েনের পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ভোটকেন্দ্রগুলো ঘিরে নেয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, রোববার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত টানা ভোট নেয়া হবে দেশের ৫৯টি জেলায়। ১৪৭টি আসনে অনুষ্ঠিতব্য এ নির্বাচনে প্রার্থীর সংখ্যা ৩৮৯ জন। আর তাদের বিপরীতে ভোট দিতে পারবেন ৪ কোটি ৩৯ লাখ ৩৮ হাজার ৯৩৮ জন। সেইসঙ্গে সুষ্ঠুভাবে ভোট গ্রহণের কার্যক্রম শেষ করতে প্রস্তুত রাখা হয়েছে আড়াইলাখ কর্মকর্তা। নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে ইসির প থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। সংস্কার করা হয়েছে ভোটকেন্দ্রগুলো। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তার ইতিমধ্যেই রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে ব্যালট পেপারসহ প্রয়োজনীয় সব সামগ্রী। ভোটগ্রহণের আগের দিন ৪ জানুয়ারি এগুলো পাঠিয়ে দেয়া হবে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে।
এবারের নির্বাচনে ব্যালট পেপার ছাপানো হয়েছে ৪ কোটি ৩৬ লাখ ৬৮ হাজার ৪১টি। প্রতিটি আসনের জন্য ১ হাজার করে পোস্টাল ব্যালট পেপারও ছাপানো হয়েছে। ৫৯টি জেলায় মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১৮ হাজার ২০৯টি। ভোট ক স্থাপন করা হয়েছে ৯১ হাজার ২১৩টি।
ভোটগ্রহণের দিন ৫৯টি জেলায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে এদিন পোস্ট অফিস ও তার আগের দুই দিন খোলা রাখা হয়েছে সব তফসিলি ব্যাংক। আচরণবিধি অনুযায়ী ভোটগ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে সারাদেশে মিছিল, সভা-সমাবেশ, শোভাযাত্রা ও সব ধরনের প্রচারণা বন্ধ রয়েছে। পরদিনই শনিবার রাত ১২টা থেকেই বন্ধ থাকবে সব ধরনের যান চলাচল। তবে প্রার্থী, সাংবাদিক ও পর্যবেকদের গাড়ি নির্বাচন কমিশনের অনুমতি সাপেে চলতে পারবে বলে ইসি সূত্র জানায়।
এদিকে নির্বাচন সুষ্ঠু করতে সাড়ে চার লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তৎপর থাকবে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটরা সক্রিয় থাকবে। পাশাপাশি সার্বণিক টহলে থাকবে র্যাব, পুলিশ, বিজিবি, আনসার/ভিডিপি, আনসার ব্যাটালিয়ান ও এপিবিএনের সদস্যরা। থাকবে গ্রাম্য পুলিশ, চোকিদার ও দফাদার। আর গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও রাখবে কড়া নজরদারি।
সূত্র আরো জানায়, আনসার ব্যাটালিয়ান গ্রাম্য পুলিশ, চোকিদার ও দফাদার থাকবে ২ লাখ ১৮ হাজার ৫০৮ জন। ১ লাখ ৯ হাজার ২৫৪ পুলিশ সদস্যদের মধ্যে প্রতি কেন্দ্রে থাকবে ছয় জন করে। আর ৫০ হাজার সেনাবাহিনী, ৬০ হাজার বিজিবি, ৩০ হাজার র্যাবের পাশাপাশি কোস্টগার্ড সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করবে।
গত ১ জানুয়ারি থেকেই ভোটগ্রহণের দুইদিন পর ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচনী কাজে প্রস্তুত রাখা হয়েছে সামরিক বিমান ও হেলিকপ্টার। দেশের যেসব এলকায় ব্যালট পেপার ও বাক্স পাঠাতে সমস্যা হবে, সেখানে ব্যবহার করা হবে এসব আকাশযান। পাশাপাশি অসুস্থ ব্যক্তি, হতাহতদের জরুরি চিকিৎসা সেবায়ও এগুলো ব্যবহৃত হবে।
এদিকে ১ জানুয়ারি থেকে কাজ শুরু করেছে বিশেষ মনিটরিং সেল। সারাদেশের সব কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত পরিস্থিতি দ্রুত নির্বাচন কমিশনকে জানানোর কাজ করবে এ সেল। পাশাপাশি বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে প্রতিটি এলাকায় ভিজিল্যন্স ও অবজারবেশন টিমও কাজ করবে।
এ বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ( সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ জানান, রোববার ( ৫ জানুয়ারি) শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ভোটের দিন অবরোধ কিংবা হরতালে কোনো প্রভাব ফেলবে না। ইতিমধ্যে নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। সবাই নির্ভয়ে দলে দলে ভোট কেন্দ্রে এসে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে।
তিনি আরো বলেন, ভোটার, সাংবাদিক, পর্যবেক ও নির্বাচনী কর্মকর্তাসহ সকলের জন্য নির্বিঘ্ন পরিবেশ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ভোটারদের প্রতি অনুরোধ, আপনারা ভোটাধিকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করুন। আপনারা ভোট দিতে আসুন।
দশম সংসদ নির্বাচনে ১২টি রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের ১১৯, জাতীয় পার্টির ৬৩ জন নির্বাচনে লড়ছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন ১০৬ জন। আর বাকি ১০টি দল থেকে রয়েছেন ১০১ জন প্রার্থী। তবে এবারের নির্বাচনে বিদেশি কোনো পর্যবেক আসছে না। বাংলাদেশি পর্যবেকদের মধ্যে ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপের ২৯টি দলসহ আরো ১১টি দল নির্বাচন পর্যবেণ করবে।
Posted ১৮:৫৯ | শুক্রবার, ০৩ জানুয়ারি ২০১৪
Swadhindesh -স্বাধীনদেশ | admin