| রবিবার, ২২ ডিসেম্বর ২০১৩ | প্রিন্ট
ঢাকা : বিরোধী দল আন্দোলন বন্ধ করলে এবং সমঝোতা হলে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সংসদ ভেঙে দিয়ে নতুন নির্বাচন দেয়া হবে বলে প্রধানমন্ত্রী যে প্রস্তাব দিয়েছেন, তা নাকচ করে দিয়েছে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি।
শনিবার সন্ধ্যায় বিএনপির চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর এই প্রস্তাব বিরোধী দলের চলমান আন্দোলন নস্যাৎ করার অপকৌশল।” আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতার জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উদ্যোগ সরকারই নস্যাৎ করে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন নজরুল ইসলাম খান।
নজরুল বলেন, “প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আন্দোলন বন্ধ হলে এবং নির্বাচনের পরে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতা হলে প্রয়োজনে সংসদ ভেঙে দিয়ে একাদশ নির্বাচন দেয়া হবে। এখানে প্রধানমন্ত্রী অনেকগুলো পূর্বশর্ত দিয়েছেন। এর মাধ্যমে এটা স্পষ্ট যে, প্রধানমন্ত্রীর এই প্রস্তাব চলমান আন্দোলন নস্যাৎ করারই অপকৌশল।”
৫ জানুয়ারির নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে নজরুল ইসলাম খান বলেন, “যে নির্বাচনে বস্তুত ভোটেরই প্রয়োজন নেই, যে নির্বাচন নিয়ে দেশ-বিদেশের কারো কোনো আগ্রহ নেই, যে নির্বাচন জনগণ বর্জন করেছে, সেই নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন অপ্রয়োজনীয়। বরং এ রকম একটি সাজানো প্রহসনের নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করে দেশের গর্বের এই প্রতিষ্ঠানকে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়া হচ্ছে।”
বিএনপির এ নেতা বলেন, “প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আলোচনা চলছে এবং নির্বাচনের পরেও আলোচনা চলবে। অথচ জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যে আলোচনা শুরু হয়েছিল, তার মূল ইস্যু ছিল নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধান কে হবেন। কিন্তু সরকার এ বিষয়ে কোনো ছাড় দিতে রাজি হয়নি। আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতার জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উদ্যোগ সরকারই নস্যাৎ করে দিয়েছে।” বিএনপি একাদশ নয়, সমঝোতার মধ্য দিয়ে দশম সংসদ নির্বাচনকালীন সমস্যার সমাধান চায় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মন্ত্রী এমপিদের সম্পদের বিবরণীর প্রসঙ্গ তুলে ধরে নজরুল বলেন, “প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রী-এমপিদের সম্পদের বিবরণ দেখলে মনে হয় সরকারের সব নেতা ও মন্ত্রীকেই পদ ও মন্ত্রণালয় বন্টনের সময় একটা করে আলাউদ্দিনের চেরাগ দেয়া হয়েছিল- যা দিয়ে তারা এত সম্পদ করতে পেরেছেন “
তিনি আরো বলেন, “এতো সম্পদের কারণে নির্বাচনী ইশতেহার এবং প্রধানমন্ত্রী তার বক্তৃতা-বিবৃতিতে বহুবার বলার পরেও সরকারের কোন মন্ত্রী তাদের আয়-ব্যয়ের হিসাব গত ৫ বছরে প্রকাশ করেন নি। তবে গণমাধ্যমে তাদের সম্পদের ঘোষিত বিবরণী প্রকাশিত হয়েছে।এর বাইরে আর কি কি আছে -তা যথাসময়ে দেশবাসী নিশ্চয়ই জানবেন।”
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আরো বলেন, “জনগণ ভাবছে এরাই কি তারা, যারা বছরের পর বছর বিরোধীদলীয় নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির বানোয়াট ও উদ্দেশ্যমূলক প্রচারণা চালিয়েছে? আমরা এত দিন সরকারের মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও সরকারি দলের নেতাদের দুর্নীতি-অনাচারের কথা বললেও অনেকে তাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেছেন। কিন্তু এখন প্রমাণ হলো আমাদের অভিযোগ মিথ্যা ছিল না। তারা নিজেরাই হলফ করে যা বলেছেন, তা তাদের দুর্নীতি-অনাচার প্রমাণের জন্য যথেষ্ট।”
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির আন্তর্জাতিক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন, সাবেক এমপি মো. শাহজাহান, দলের সহ-দফতর সম্পাদক কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম, আসাদুল করিম শাহীন উপস্থিত ছিলেন।
Posted ০৮:৫১ | রবিবার, ২২ ডিসেম্বর ২০১৩
Swadhindesh -স্বাধীনদেশ | admin