বৃহস্পতিবার ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে আন্তর্জাতিক আদালতে যাওয়ার পরামর্শ রফিকের

  |   শুক্রবার, ২৩ মে ২০১৪ | প্রিন্ট

democracy bam morcha
নিজস্ব প্রতিবেদক, 

ঢাকা : ভারতের সঙ্গে দরকষাকষি না করে পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের জন্য আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করার করতে সরকারকে পরামর্শ দিয়েছেন ভাষা সৈনিক আহমদ রফিক।

শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা আয়োজিত জাতীয় কনভেনশনের প্রথম অধিবেশনে তিনি এ পরামর্শ দেন।

প্রবিণ এই ভাষা সৈনিক ও গবেষক বলেন, “বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ, নদীর ওপর নির্ভর করে বাংলাদেশের সুস্থতা। নদীর প্রবাহ না থাকলে দেশের অর্থনীতি কখনও অগ্রগতি হবে না। তিস্তাসহ আন্তর্জাতিক অভিন্ন নদীসমূহের পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত ও সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার লক্ষ্যে জনগণকে সম্পৃক্ত করার জন্য গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার প্রতি আহ্বান জানান।

আহমদ রফিক বলেন, “নিজ দেশে জাতীয় ও স্থানীয়ভাবে কনভেনশন কমিটি করে জনগণকে আন্দোলনের জন্য জাগাতে হবে এবং আমাদের পানির ন্যায্য অধিকার বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলের নজরে আনতে হবে তাহলেই আমাদের নয্যা অধিকার আদায় সম্ভব হবে।”

বর্তমানে রাজনীতি অর্থের কাছে জিম্মি হয়ে পড়ছে উল্লেখ করে রফিক বলেন, “টাকা থাকলে এখন ভোট কেনা যায়। সকল কিছু দলীয়করণ হয়ে গেছে। যার ফলে জনগণের অধিকার আদায়ে আন্দোলন সংগ্রাম হচ্ছে না। তাই নদীর পানি নিয়ে শুধু ভারত বিরোধী আন্দোলন করলেই হবে না, নিজের দেশে ভূমিদস্যু দখলদার বিরুদ্ধে আমাদের সোচ্চার হতে হবে।”

বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, “আমাদের দেশের দুটি বড় রাজনৈতিক দল ভারতে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে খুশি করার জন্য প্রতিযোগিতা শুরু করেছে। তারা মনে করছে মোদির সঙ্গে কোনো রকম তিস্তার চুক্তি করতে পারলেই আমাদের ন্যায্য অধিকার আদায় হয়ে যাবে।”

তিনি বলেন, “বিষয়টি শুধু চুক্তি হলে আমাদের অধিকার আদায় হবে না। চুক্তি করার আগে চুক্তির বিস্তারিত জনগণের সামনে প্রকাশ করতে হবে। জনগণ না জানলে দেশের অধিকার আদায় হবে না।”

পদ্মা মেঘনা যমুনা ও তিস্তা এই চারটি নদী ভারতের আগ্রাসনে হুমকির মুখে উল্লেখ করে আহমদ রফিক বলেন, “ভারতের সঙ্গে তিস্তা চুক্তি করার আগে আমাদের দেশের নদীর ক্ষয় ক্ষতির হিসাব করতে হবে। এবং পরবর্তী করণীয় কি তা নিয়েও ভাবতে হবে।”
এখন এটি কে করবে প্রশ্ন করে তিনি বলেন, “জনগণের দায়িত্ব যারা নিয়েছে তাদের করার কথা। কিন্তু ফারাক্কা বাঁধের কারণে কি পরিমাণ আমাদের ক্ষতি হয়েছে এই হিসাব সরকারের কাছে নেই।”

ভাষা সৈনিক আহমদ রফিক বলেন, “আন্তর্জাতিক আদালতে যাওয়ার আগে ভারত আমাদের উজানে অভিন্ন ৫৪টি অভিন্ন নদীতে বাঁধ দিয়ে কি পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে ও হবে এর হিসাব ও পরবর্তী করণীয় নিয়ে আগে আমাদের ভাবতে হবে।”

প্রকৌশলী ম. ইনামুল হক বলেন, “বাংলাদেশ হচ্ছে ভাঁটির দেশ তাই ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন ‘ল’ অনুযায়ী দেশের যদি কোনো ক্ষতি হয় তাহলে আগে থেকে জানাতে হবে যে আমাদের ক্ষতি হচ্ছে। তাহলে তারা আর নিজের মত করে আর ইচ্ছা করে নদীর বুকে বাঁধ তৈরি করতে পারবে না। তাই চুক্তির মাধ্যমে সকল আইন জনসম্মুখে প্রচার করতে হবে। তা না হলে বাংলাদেশ কোন দিন পানির ন্যায্য হিস্যা পাবে না।”

তিনি বলেন, “দুই দেশের পররাষ্ট্র নীতির মাধ্যমে সকল সমস্যা সমাধান করতে পারে দেশের সরকার। সরকার যদি আন্তরিক হয় এবং গণতান্ত্রিক নিয়ম নীতি মেনে চলে তাহলে ভারত কোনো দিন আমাদের এই হিসাব থেকে বঞ্চিত করতে পারবে না।”

ইনামুল হক বলেন, “যদি দুই দেশের মধ্যে কোনো চুক্তি হয় তাহলে ইন্টারন্যাশনাল আইন অনুযায়ী সেই চুক্তি ক্ষতিকর হলেও তা ক্ষতি পূরণ দিতে বাধ্য থাকবে। ফারাক্কা বাঁধ নিয়ে ভারতের সঙ্গে আমাদের আরো ৩০ বছরের চুক্তি আছে। এই চুক্তিতে বাংলাদেশের ক্ষতি হচ্ছে। তাই এই চুক্তির মধ্যে কি ছিল তা সবার সামনে নিয়ে আসতে হবে সরকারকে।”

অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, “আন্তর্জাতিক অভিন্ন নদীর পানি চুক্তির জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি শুধু দুটি দেশের সরকারি মহলের ওপর ছেড়ে দেয়া যায় না। কারণ ভারতের শাসকগোষ্ঠী নানা কূটকৌশলের আশ্রয় নিয়ে কখনো আধিপত্যবাদী রাজনীতির হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করেছে। তারা কখনো সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠার নামে পানির বিনিময়ে নানা সুবিধা নিয়েছে। বাংলাদেশের এ যাবত যারা ক্ষমতায় এসেছে সবাই নতজানু নীতি অনুসরণ করে জাতীয় স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়েছে। আবার কখনো তারা ভারতবিরোধীতার নামে সাম্প্রদায়িক উস্কানির আড়ালে বাংলাদেশকে ভারতের বাজারে পরিণত করছে।”

কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবু জাফর আহমেদ বলেন, “ভারতের বাম রাজনীতি ক্ষমতায় এসেছে শুধু তাদের নীতি নৈতিকতার কারণে। আমাদের এই দুই দলের রাজনৈতিক অবস্থান দেশের জন্য ভালো না। তাই আমাদের গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা ঐক্যবদ্ধ হয়ে সরকারের কাছে চাপ সৃষ্টি করে দেশের মানুষের অধিকার আদায় করতে হবে।”

কনভেনশনের প্রথম অধিবেশনে আরো বক্তব্য দেন নদী গবেষক ও কলাম লেখক নূর মোহাম্মদ, অধ্যাপক আহমেদ কামাল, অধ্যাপক আকমল হোসেন প্রমুখ।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন প্রকৌশলী বিডি রহমতুল্লাহ, স্বপন আদনান, ডা. আবদুল মতিন, অধ্যাপক নাসিম আকতার হোসাইন, ড. তানজিম উদ্দীন খান প্রমুখ। কনভেনশনের শেষ অধিবেশনে সারাদিন ব্যাপী চলবে এতে বিশিষ্টজন বক্তব্যে দেবেন।

advertisement

Posted ১১:০৯ | শুক্রবার, ২৩ মে ২০১৪

Swadhindesh -স্বাধীনদেশ |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

Advisory Editor
Professor Abdul Quadir Saleh
Editor
Advocate Md Obaydul Kabir
This newspaper (Swadhindesh) run by Kabir Immigration Ltd
যোগাযোগ

Bangladesh Address : Moghbazar, Ramna, Dhaka -1217, Europe Office: 552A Coventry Road ( Rear Side Office), Small Heath, Birmingham, B10 0UN,

ফোন : 01798-669945, 07960656124

E-mail: news@swadhindesh.com, swadhindesh24@gmail.com