| রবিবার, ০১ ডিসেম্বর ২০১৩ | প্রিন্ট
প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আন্দোলনের নামে নাশকতাসহ যে যত চেষ্টাই করুক না কেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেউই ঠেকাতে পারবে না। সংবিধান অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়েই নির্বাচন হবে। অসাংবিধানিক কোনো শক্তিকে আর ক্ষমতায় আসতে দেয়া হবে না।’ নাশকতাকারীদের প্রতিহত করার প্রস্তুতি নিতে দেশের প্রত্যেকটি এলাকায় আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
আজ শনিবার দুপুরে রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরওয়ার্দী উদ্যানে যুবলীগের ৪১তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিরোধীদলের সঙ্গে আলোচনার সব চেষ্টাই করছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরও আমি নিজে তাকে (বেগম খালেদা জিয়া) সংলাপে বসার আমন্ত্রণ জানিয়েছি। নমনীয় যতটুকু হওয়ার, ততটুকু আমরা হয়েছি। কিন্তু উনি নির্বাচন চান না বলেই আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে একের পর এক সহিংস কর্মসূচি দিয়ে যাচ্ছেন।’
নির্বাচনকালীন সর্বদলীয় সরকারে যোগ দিয়ে বিএনপিকে নির্বাচনে অংশ নেয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে সরকার বদ্ধপরিকর।’
বিরোধীদলীয় নেতাকে উদ্দেশ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘নির্বাচনকালীন সময়ে আপনারা কতগুলো মন্ত্রণালয় চান, বলুন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব চাইলেও দিতে রাজি। আসুন, নির্বাচনে আসুন।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোকে নিয়েই নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করা হয়েছে। বিরোধীদলকে আমি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও দিতে রাজি আছি। আন্দোলনের নামে উনি (বেগম খালেদা জিয়া) বাসে আগুন দিয়ে মানুষ মারছেন। শুধু তাই নয়, আগুন দিয়ে পবিত্র কোরআন শরিফও পোড়ানো হচ্ছে। লোক ভাড়া করে মানুষ পোড়ানো বন্ধ করুন। বাস পুড়িয়ে ছোট-ছোট বাচ্চাদের সন্ত্রাসী ট্রেনিং দেবেন না। দয়া করে মানুষ পুড়িয়ে মারবেন না। বাংলাদেশের মানুষ ক্ষেপলে, যারা পোড়ানোর হুকুম দিচ্ছেন, তাদের পোড়ানোর জ্বালা সহ্য করতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের সময় প্রায় ৬ হাজার নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে হয়েছে। কোনো নির্বাচন নিয়ে কেউ কোনো অভিযোগ করতে পারেনি। কিন্তু বিএনপি ক্ষমতায় থাকতে একটি নির্বাচনও সুষ্ঠু হয়নি। তাদের মাগুড়া-মার্কা নির্বাচন দেশবাসী এখনো ভুলে যায়নি।’
বিএনপির উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আন্দোলন করতে হলে রাস্তায় নামুন। রাস্তায় দেখা যাবে—কার কত শক্তি। আন্দোলন করবেন আর লুকিয়ে থাকবেন, তা তো হয় না।’
যুবলীগের ৪১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর জনসভা শুরু হয় সকাল ১০টায়। সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে খণ্ড-খণ্ড মিছিল নিয়ে সংগঠনের হাজার হাজার নেতা-কর্মী সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আসতে থাকেন। বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী জনসভাস্থলে এসে পৌঁছান।
যুবলীগ চেয়ারম্যান মো. ওমর ফারুক চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন ভূমিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমু, প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক।
Posted ০৩:০০ | রবিবার, ০১ ডিসেম্বর ২০১৩
Swadhindesh -স্বাধীনদেশ | admin