| মঙ্গলবার, ১৮ মার্চ ২০১৪ | প্রিন্ট
নিজস্ব প্রতিবেদক : নবম জাতীয় সংসদে কোরাম সংকটের কারণে আর্থিক অপচয় হয়েছে ১০৪ কোটি ১৮ লাখ টাকা। মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সংসদের পর্যালোচনামূলক ‘নবম পার্লামেন্টওয়াচ’ প্রতিবেদন শীর্ষক অনুষ্ঠানে এই রিপোর্ট প্রকাশ করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআইবি)। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান চৌধুরী। টিআইবির ট্রাস্টি এম হাফিজ উদ্দিন আহমেদ এ সময় উপস্থিত ছিলেন। ‘পার্লামেন্ট ওয়াচ’ প্রতিবেদনটি তৈরি করেন টিআইবির গবেষক মোর্শেদা আক্তার ও জুলিয়েট রোজেটি।
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “বর্তমানে যে সংসদ রয়েছে তা বিরোধী দলবিহীন সংসদ। আর বিরোধীদলবিহীন সংসদ কোনো দিনই দীর্ঘস্থায়ী হবে না। বর্তমান সংসদে আক্ষরিক অর্থে বিরোধী দল রয়েছে, কিন্তু বাস্তবিক অর্থে কোনো বিরোধী দল নেই। দেশের স্বার্থে আমাদের দ্রুত এই অবস্থা থেকে বের হয়ে আসতে হবে।”
তিনি হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, “যে সংস্কৃতি বাংলাদেশে চালু হয়েছে তা কবে শেষ হবে আমাদের জানা নেই।” তিনি আরো বলেন, “এই সংস্কৃতির দ্রুত পরিবর্তন দরকার।” এই সংস্কৃতির পরিবর্তন হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, “সংসদ সদস্যরা নির্ধারিত সময়ের পরে সংসদের উপস্থিত না হওয়ায় কোরাম সংকট হয়েছে ১৯টি অধিবেশনে ২২২ ঘণ্টা ৩৬ মিনিট। যা প্রতি কার্যদিবসে গড়ে ৩২ মিনিট। সংসদ পরিচালনা করতে প্রতি মিনিটে গড়ে ৭৮ হাজার টাকা খরচ হওয়ার কারণে এই ২২২ ঘন্টায় মোট অপচয় হয় ১০৪ কোটি ১৮ লাখ টাকা।
ওই প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, সংসদ সদস্য হিসেবে একজন এমপি মাসিক ভিত্তিতে সম্মানী বাবদ ২৭ হাজার, আপ্যায়ন ৩০০ হাজার, এলাকা ভাতা সাত হাজার ৫০০, গাড়ি বাবদ ৪০ হাজার টাকাসহ নানান ভাতা মিলে প্রায় এক লাখ টাকার বেশি সুবিধা ভোগ করেন। এ হিসাবে তারা এক কার্যদিবসের জন্য তিন হাজার ৫৫৮ টাকা ভোগ করেন। কিন্তু নবম সংসদে সরকার দলীয় ৬০ শতাংশ সংসদ সদস্য সংসদে দুই তৃতীয়াংশ কার্যদিবস উপস্থিত না থেকেই সম্পূর্ণ ভাতা গ্রহণ করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নবম সংসদে আইন প্রণয়নে মোট সময়ের মাত্র আট ভাগ সময় ব্যয় করা হয়েছে। বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আইন মাত্র তিন থেকে চার মিনিটের আলোচনায় পাস হয়েছে।
Posted ১৩:১০ | মঙ্গলবার, ১৮ মার্চ ২০১৪
Swadhindesh -স্বাধীনদেশ | admin