সোমবার ৯ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৪শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

‘নজির’ সৃষ্টিতে মরিয়া আওয়ামী লীগ

  |   রবিবার, ২৪ নভেম্বর ২০১৩ | প্রিন্ট

hasina

ঢাকা: যে কোনো মূল্যে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান এবং দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় যেতে বদ্ধপরিকর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। সে লক্ষ্যেই গত ১০ থেকে ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত মনোনয়নপত্র বিতরণ ও জমা কার্যক্রম চালিয়েছে তারা। মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের কাজও প্রায় শেষ বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। দলের সভাপতি শেখ হাসিনা মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সঙ্গে রোববার সন্ধ্যায় গণভবনে বৈঠক করবেন। ওই বৈঠকেই মনোয়নের সিদ্ধান্ত হবে।
নব্বইয়ে গণতন্ত্রে উত্তরণের পর নির্বাচিত সরকারের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের সংস্কৃতি গড়ে ওঠেনি বাংলাদেশে। বারবার বিরোধী দলের আন্দোলনের মুখে অনির্বাচিত সরকারের মাধ্যমেই এটি হয়েছে। আর সেটিরই ব্যত্যয় ঘটিয়ে এবার নজির সৃষ্টি করতে চায় স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দলটি। একই সঙ্গে উন্নয়নের মডেল হতে চান বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা।
২০০৮ সালে ক্ষমতায় আসার পর এ সরকারের নানা নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের কারণে উপরোক্ত সৎ উদ্দেশ্যগুলোর ওপর জনগণ আস্থাশীল হতে পারবে কি না তা নিয়ে সন্দেহ থাকলেও আওয়ামী লীগ নেতারা এমনটাই এখন দাবি করছেন। আর এটিই তারা বিশ্বাস করাতে চাচ্ছেন। ‘নজির’ সৃষ্টির জন্য প্রয়োজন হলে বিরোধীদের প্রতি কঠোর হতেও কুণ্ঠিত হবেন না তারা। বিরোধী দলের হরতাল-অবরোধসহ কঠোর আন্দোলন, আন্তর্জাতিক চাপ ও সুশীল সমাজের সমালোচনাও উপেক্ষা করা হচ্ছে।
এমনকি আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন না করার সিদ্ধান্তে অনড় বিএনপিকে প্রতিহত করতে এবং কৌশলে দুর্বল করতে চলছে নানা প্রচেষ্টা। বিএনপির সঙ্গে সমঝোতা না হলেও নির্বাচনের সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রাখা হচ্ছে।
আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বারবার দেশে গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত রাখার কথা বলছেন। অনির্বাচিত সরকার বারবার গণতন্ত্রের গলাটিপে ধরেছে। রাজনৈতিক দলগুলোকে হয়রানি করেছে। তাদের অস্তিত্ব নিয়ে খেলেছে। আর নির্বাচনকেই গণতন্ত্রের একমাত্র শর্ত বলে প্রচার করছেন তিনি। তাই দমননীতি গ্রহণ করতে বাধ্য হলেও এবার নির্বাচিত সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন করে দেখিয়ে দেবেন শেখ হাসিনা।
এদিকে সরকারের নানা ব্যর্থতার কথা বলে ক্ষমতাসীন মহাজোট থেকে বেরিয়ে গেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। কিন্তু শেখ হাসিনার অধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারেও যোগ দিয়েছেন তিনি। নতুন মন্ত্রিসভায় তিনটি মন্ত্রীও পেয়েছেন। জোটে না থাকলেও গণতন্ত্র ও জনগণের নিরাপত্তার স্বার্থেই তিনিও নির্বাচনের পথে হাঁটছেন বলে বুঝানোর চেষ্টা করছেন।
অবশ্য এরশাদের বিষয়টিকে রাজনীতি বিশ্লেষকরা দেখছেন অন্যভাবে। বহুরূপী এরশাদের জোট ছাড়ার নাটকটি আওয়ামী লীগেরই পরিকল্পনা হতে পারে বলে মনে করছে অনেকে। কারণ, প্রধান বিরোধী দল বিএনপি যদি নির্বাচনে না আসে তাহলে জাতীয় নির্বাচনের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা পেতে হলে অন্তত জাপার মতো একটি বড় দলকে তাদের প্রয়োজন।
এমনকি বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় বিরোধী জোট ভাঙার কৌশলও খোঁজা হচ্ছে। ইতিমধ্যে জোটের অনেক শরিক দলকে টোপও দেয়া হয়েছে বলে গণমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে। বিএনপিকে দুর্বল করতে এবং আন্দোলনের সামর্থ্য নষ্ট করতে খোদ দলটির প্রভাবশালী নেতাদেরও নাকি ম্যানেজ করার প্রয়াস চলছে।
গণতান্ত্রিক দেশের মতো নির্বাচিত সরকারের মাধ্যমেই ক্ষমতা হস্তান্তরের নজির সৃষ্টির প্রয়াস প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘জয়-পরাজয় বড় কথা নয়। অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিয়ে নজির সৃষ্টি করতে চায় আওয়ামী লীগ। এখন নির্বাচনের প্রস্তুতির সময়। কথা বলার সময় নয়।’
আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে এতো নেতিবাচক খবর প্রকাশিত হওয়ার পরও জাতীয় নির্বাচনে দল জিততে পারবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তোফায়েল বলেন, ‘আগামীতে আওয়ামী লীগই ক্ষমতায় যাবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই।’
শীর্ষ নেতারা বলছেন, এই মুহূর্তে দেশে কোনো অনির্বাচিত শক্তিকে ক্ষমতায় দেখতে চায় না আওয়ামী লীগ। তারা মনে করছেন, তত্ত্বাবধায়কের নামে অনির্বাচিত কোনো সরকার এলে দেশে আবারও এক-এগারোর মতো সাংবিধানিক সঙ্কট সৃষ্টি হতে পারে। তাই নির্বাচনের বিকল্প ভাবছে না দলটি।
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার আওয়ামী লীগের অন্যতম প্রধান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি। এ কাজে সরকার অনেকটা সফল বলেও দাবি করেন তারা। নির্বাচনে এই ইস্যুকে কাজে লাগাতে চায় আওয়ামী লীগ। দলটির নীতিনির্ধারণী একটি মহল মনে করে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্ন ও তাদের রাজনীতি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে হলে আওয়ামী লীগকেই আবার ক্ষমতায় আসতে হবে।
এ প্রত্যয় নিয়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানকে নির্বিঘ্ন করতে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙতে চায় আওয়ামী লীগ। নির্বাচনী দৌড়ে এগিয়ে থাকার কৌশল হিসেবেও দলটির বর্তমান কঠোর অবস্থানের অন্যতম কারণ। তাই তারা বিএনপির সিনিয়র নেতাদের গ্রেপ্তার করার পাশাপাশি দলটির মাঠপর্যায়ের নেতাদের মনোবল ভেঙে দেয়ার কৌশল নিয়েছে।
অপরদিকে নিজ দলের নেতাকর্মীদের চাঙা রাখতে নানা কর্মসূচি হাতে নিয়ে এগোচ্ছে আওয়ামী লীগ। এজন্য ঘনঘন মিছিল ও সমাবেশ করছে তারা। দলটির কয়েকজন মন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন দলের দায়িত্বশীল নেতা জানান, পরিবেশ-পরিস্থিতি বুঝে সরকারের কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের নেতারাও মাঠে থাকবে সার্বক্ষণিক।
আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী মহল আরও মনে করছে, নির্বাচনে দল অংশ না নিলেও বিএনপির কিছু নেতা অংশ নিতে পারেন। কেননা বিএনপির নেতাকর্মীরা নির্বাচনের জন্যে মুখিয়ে আছেন। তাই বিরোধী দলের নেতারা নির্বাচনে অংশ নেয়ার জন্য অন্য কোনো ব্যানারে নির্বাচনে আসতে পারেন। আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড মনে করছে, বিএনপির উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নেতা নির্বাচনে এলে তখন আর নির্বাচনকে একতরফা বলার সুযোগ থাকবে না।
তবে ক্ষমতাসীন দল ‘গণতান্ত্রিক ধারা’ রক্ষার নজির সৃষ্টি করতে নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে যতো বড় কথাই বলুক প্রধান বিরোধী দল নির্বাচনে না এলে তা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মহলে কতটুকু গ্রহণযোগ্যতা পাবে সেটাই প্রতিনিয়ত ভাবিয়ে তুলছে সবাইকে।
এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ এখন নির্বাচনমুখী। নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই। সর্বদলীয় সরকার গঠন করা হয়েছে। এই সরকার আগামীতে অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেবে। এ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগই ক্ষমতায় আসবে।’
বিরোধী দল সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত বিরোধী দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে এবং সব দলের অংশগ্রহণের মাধ্যমেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে তারা নির্বাচনে না এলেও নির্বাচন হবে। আর তার খেসারত তাদেরকেই দিতে হবে।’
অবশ্য কাজী জাফর উল্লাহ যে দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েই বলুন না কেন নির্বাচন যে উভয় দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তা তারা ভালো করেই জানেন। পালা করে ক্ষমতায় না এলে তাদের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়ার অবস্থা হয়। আর ক্ষমতায় যাওয়ার একমাত্র পথ নির্বাচন। এখন এ নির্বাচনে যাওয়ার আগে চাই জয়ের নিশ্চয়তা।
জয়ের নিশ্চয়তা বিএনপি প্রায় পেয়েই গেছে। কারণ সর্বশেষ পাঁচ সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় নির্বাচনগুলোতে তাদের প্রার্থীরাই নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে। ফলে দশম জাতীয় সংসদে তাদের আধিপত্য থাকবে এ ব্যাপারে তারা নিশ্চিত।
অপরদিকে শিক্ষা, কৃষিসহ কিছু খাতে সরকারের সফলতা থাকলেও পদ্মাসেতু, হলমার্ক, শেয়ারবাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অসন্তোষ, বেপরোয়া ছাত্রলীগ এসব বিষয়ের কারণে আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা নির্বাচনে জেতার মতো অবস্থায় নেই। কিন্তু তারপরও তারা মনে করছে, এ সরকারের উন্নয়নের বিষয়গুলো জনগণের সামনে তুলে ধরতে পারলে সে অবস্থান ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। এ জন্যই প্রথমে বিলবোর্ড পরে নানা গণমাধ্যমে উন্নয়নের বিজ্ঞাপন দেয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও আত্মবিশ্বাস ফিরে পাচ্ছে।
অর্থাৎ উভয় দল নির্বাচনমুখী তাতে কোনো সন্দেহ নেই। সমস্যা পারস্পরিক অবিশ্বাস আর আস্থাহীনতা। এই দুই সমস্যার মাঝখানে পড়ে পাঁচ বছর অন্তর অন্তর কিছু সাধারণ মানুষ বলি হওয়াটা যেন বাংলাদেশের অমোঘ নিয়তিতে পরিণত হয়েছে।

advertisement

Posted ০৫:২২ | রবিবার, ২৪ নভেম্বর ২০১৩

Swadhindesh -স্বাধীনদেশ |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

Advisory Editor
Professor Abdul Quadir Saleh
Editor
Advocate Md Obaydul Kabir
This newspaper (Swadhindesh) run by Kabir Immigration Ltd
যোগাযোগ

Bangladesh Address : Moghbazar, Ramna, Dhaka -1217, Europe Office: 552A Coventry Road ( Rear Side Office), Small Heath, Birmingham, B10 0UN,

ফোন : 01798-669945, 07960656124

E-mail: news@swadhindesh.com, swadhindesh24@gmail.com