| বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৩ | প্রিন্ট
সাদিকুর রহমান সুমন,হবিগঞ্জ ॥ দূর্নীতি আর অবৈধকে বৈধ করার একটি নাম হবিগঞ্জ জেলা কারাগার। এখানে প্রতিদিন গড়ে অর্ধ লক্ষ টাকার দুর্নীতি হয়। এমনকি ফেন্সিডিলের মতো নেশা জাতীয় দ্রব্যও ভিতরে প্রবেশ করানো হয়। টাকা দিলে সব কিছুই আসামীর কাছে পৌছে দেয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে দুর্নীতি পরায়ন কর্মকর্তাদের নাম।
কারারক্ষী তৈয়বুর (ব্যাচ নং ২২৩০৮)। দায়িত্ব টিকেট কাউন্টারের। কয়েদীদের সাথে দেখা করতে হলে তার কাছে গিয়ে সাক্ষাতপ্রার্থীরা নাম ঠিকানা অর্ন্তভুক্ত করেন। এই তৈয়বুর রহমানের বিরুদ্ধে রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। টাকা দিলে তার মাধ্যমে সবই সম্ভব এই কারাগারে। কারাগারে আটক কয়েদীদের সাথে দেখা করতে হলে রয়েছে নির্ধারিত স্থান। কিন্তু ওই স্থান দিয়ে কয়েদীদের সাথে আত্মীয় স্বজনের কথা বলা ও দেখা করা খুব কষ্ট সাধ্য হয়ে পড়েছে। কারন এক সাথে অনেক কয়েদী ও সাক্ষাতপ্রার্থীদের কথা বলা এবং ছোট্ট ছিদ্র। তাই তৈরী হয়েছে বিকল্প ব্যবস্থা। ওই ব্যবস্থায় কয়েদীদের সাথে দেখা করার রয়েছে অনেক সুবিধা। যেমন- ভিআইপিদের মত আলাদা কক্ষে বসে কথা বলা ও নিজের বাসা থেকে নেয়া খাবার কয়েদীদের খাওয়ানো যায়। বিনিময়ে ওই তৈয়বুর রহমানকে দিতে হয় এক হাজার টাকা। টাকা দিলেই সব ব্যবস্থা করেন তিনি। এতসব অবৈধ সুযোগ সুবিধা দিয়ে টাকা কামাই করলেও কারারক্ষী তৈয়বুর অনেকটা স্পষ্টবাদী। তাই- বীরদর্পে বলতে থাকেন- “২শ ৩শ বুঝিনা, ভিআইপিভাবে দেখা করতে হলে ১ হাজার টাকাই দিতে হবে”। এ সময় নারী ও শিশু মামলার আসামীর এক আত্মীয় বাহুবল উপজেলার দয়ালপুর গ্রামের নুর মিয়া অনেক মিনতি করে ৫শ টাকা দিয়ে রাজী করান। এর আগে সেলিম নামের অপর এক ব্যক্তি কারাগারের মূল ফটক দিয়ে আসামীর সাথে দেখা করতে ৭শ টাকা দেন। পরে দেখতে আসা আসামীকে না পেয়ে জমা দেয়া টাকা ফিরত চান। এ সময় কারারক্ষী তৈয়বুর টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক বাধে। এ সময় সেলিম কারা প্রধানের কাছে অভিযোগ জানাতে চাইলে কারারক্ষীরা তাকে কারা প্রধানের সাথে দেখা করতে দেয়নি। এ সময় উপস্থিত এক সংবাদকর্মীর প্রশ্নের উত্তরে কারারক্ষী তৈয়বুর দম্ভোক্তি করে বলেন- “আমার পূর্বে যারা দায়িত্ব পালন করেছে তারাও তাই করেছে, আমিও তাই করছি। লেখা লেখি করে লাভ নেই।”
এ বিষয়ে জেলার শংকর কুমারের কাছে দুর্নীতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন- কারাগারের শুনাম ক্ষুন্ন করতেই একটি মহল এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে। এ বিষয়ে কারো কোন অভিযোগ থাকলে সরাসরি যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন। পরে তিনি ফোন কেটে দেন।
Posted ০০:৪৩ | বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৩
Swadhindesh -স্বাধীনদেশ | admin