| সোমবার, ১৭ মার্চ ২০১৪ | প্রিন্ট
নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে জামায়াতকে নিষিদ্ধ করতে সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনেই বিল উত্থাপন করবে ক্ষমতাসীন সরকারের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং ক্ষমতাসীন সরকারের একাধিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এ ব্যাপারে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এবং তার দফতর একটি খসড়া বিলের প্রস্তাবনা তৈরি করেছেন বলে জানা গেছে। বিলের খসড়াটি এখন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর্যায়ে রয়েছে। সরকারের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের কয়েকজনের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে এটি চূড়ান্ত করা হবে ।
এ ব্যাপারে মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, শুধু তিনি বা তার দল নয়, দেশের মানুষ চান যুদ্ধাপরাধী সংগঠন হিসেবে জামায়াত ইসলামীকে নিষিদ্ধ করা হোক। এটা জনগনের দাবি-এই দাবি বাস্তবায়নে তিনি এবং তার সরকার বদ্ধপরিকর।
এছাড়া গত ১৫ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর আয়োজিত ‘মুক্তির উৎসব’ অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, আগামী জুনের মধ্যে যুদ্ধাপরাধী সংগঠন হিসেবে সরকার জামায়াতকে নিষিদ্ধ করা হবে।
মন্ত্রী জামায়াত নিষিদ্ধের ব্যাপারে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে বলেন, ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধের পরিকল্পনা সরকারের নেই। তবে যুদ্ধাপরাধী দল হিসেবে জামায়াতকে এ দেশে নিষিদ্ধ ঘোষণার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। এ ক্ষেত্রে হাইকোর্টে বিচারাধীন রিটের চূড়ান্ত রায় যাই হোক না কেন-এ দেশে জামায়াত একদিন নিষিদ্ধ হবেই বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা যায়, কার্য উপদেষ্টা পরিষদের নেয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংসদের প্রথম অধিবেশনের মেয়াদ শেষ হবার কথা আগামী ৩ এপ্রিল। তবে এই মেয়াদ আরো কয়েকদিন বাড়তেও পারে। সেক্ষেত্রে সংসদের দ্বিতীয় বা বাজেট অধিবেশন মে মাসের শেষে কিংবা জুনের প্রথম সপ্তাহে শুরু হবে। আর দ্বিতীয় অধিবেশন শুরু হলে ক্ষমতাসীন দল জামায়াতকে নিষিদ্ধের জন্য বিল উত্থাপন করবে।
এদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা যায়, জামায়াত ইসলামী সংগঠনটির বিরুদ্ধে একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধকালীন অপরাধের তদন্ত চলছে। মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের তদন্ত এগিয়ে চলেছে। মার্চের মধ্যেই তদন্ত প্রতিবেদন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনের কাছে জমা দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।
এ ব্যাপারে আর্ন্তজাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত কর্মকর্তা সানাউল হক রাইজিংবিডিকে বলেন, জামায়াত ইসলামীকে ‘ইসলামী দল’ হিসেবে নয় ‘একটি অপরাধী সংগঠন’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আর্ন্তজাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল জামায়াত নেতাদের বিরদ্ধে ঘোষিত রায়ের সময়ে এধরনের মন্তব্য করেছে। তারই সূত্র ধরে জামায়াতের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত চলছে। তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। খুব শিগগিরই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনে অভিযোগগুলো প্রতিবেদন আকারে জমা দেয়া হবে।
সানাউল আরো বলেন, ‘মার্চের মধ্যে প্রসিকিউশনে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্য আমরা মোটামুটি প্রস্তুত আছি। আমাদের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজ ব্যাপারটা দেখছেন। তিনি আমাদের ক্লিয়ারেন্স দিলেই জমা দেয়া হবে।’ এর আগে গত বছরের ১৮ আগস্ট একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত এ সংগঠনটির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত শুরু হয়।
ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা যায়, জামায়াতের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধকালীন বিভিন্ন অরপাধের অভিযোগের চূড়ান্ত প্রতিবেদন মার্চে জমা হবার পর এপ্রিলের মধ্যেই ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হবে।
এদিকে গত বছরের ১ অগাস্ট হাইকোর্টের তিন বিচারপতির বেঞ্চ জামায়াতের নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেয়। এ রায়ের পর ৭ নভেম্বর নির্বাচন কমিশন জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল করে দলটিকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করে।
এর আগে ২০০৮ সালের ৪ নভেম্বর জামায়াতকে অস্থায়ী নিবন্ধন দেয় নির্বাচন কমিশন। এই নিবন্ধনের বিরুদ্ধে ২০০৯ সালে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন তরিকত ফেডারেশনের তৎকালীন মহাসচিব রেজাউল হক চাঁদপুরীসহ ২৫ জন। ওই রিটের ওপর জামায়াতের নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন হাইকোর্ট।
২০১৩ সালের ১৫ জুলাই একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতের সাবেক আমির গোলাম আযমের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার সময় জামায়াতে ইসলামী ‘অপরাধী’ সংগঠনের মতো কাজ করেছে বলে পর্যবেক্ষণে অভিযোগ উত্থাপন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও নির্বাচনোত্তর সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘জামায়াত নিষিদ্ধের ব্যাপারে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন শুনানির অপেক্ষায় আছে। এই রিটের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করব না।’
Posted ২৩:৫৬ | সোমবার, ১৭ মার্চ ২০১৪
Swadhindesh -স্বাধীনদেশ | admin