| বৃহস্পতিবার, ২৩ জানুয়ারি ২০১৪ | প্রিন্ট
ঢাকা: গত ৫ জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী যেসব সাম্প্রদায়িক হামলা হয়েছে সেসব ব্যর্থতার বড় দায় নির্বাচন কমিশনের (ইসি)। কেননা একটি উত্তেজনাকর ও সংঘাতপূর্ণ রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দেশে নির্বাচন অনুষ্ঠানকালে এসব সাম্প্রদায়িক ভোটারদের নিরাপত্তায় যে ধরনের ব্যবস্থা নেয়া দরকার ছিল, সেরকম কোনো ব্যবস্থা নেয়নি নির্বাচন কমিশন।
বৃহস্পতিবার বিকেলে শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার এ কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে ১৭, ১৮ ও ১৯ জানুয়ারি তিন দিনব্যাপী গণজাগরণ মঞ্চের ঠাকুরগাঁও অভিমুখী রোডমার্চের পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
প্রতিবেদনে ইমরান এইচ সরকার বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস প্রতিরোধে জনসচেতনতা তৈরি, আক্রান্তদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ ও সহযোগিতা করার জন্য তিন দিনব্যাপী ঢাকা থেকে ঠাকুরগাঁও অভিমুখী দ্বিতীয় রোডমার্চের ডাক দিয়েছিল গণজাগরণ মঞ্চ। রোডমার্চে যাওয়ার পথে বিভিন্ন স্থানে স্বাধীনতার পরাজিত শক্তিরা আমাদের উপর ককটেল ও হাতবোমার আক্রমণ করেছিল, জনসভাস্থলে বোমাবাজিও করা হয়েছিল। কিন্তু আমরা এসব বাধা অতিক্রম করে আক্রান্তদের পাশে দাঁড়িয়েছিলাম। এসময় যাত্রাপথে আমরা অন্তত ৩০টি পথসভা ও সমাবেশ করেছি। যার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ করতে কাজ করেছি।’
তিনি বলেন, ‘ওইসব জায়গায় সাম্প্রদায়িক হামলার প্রকৃত কারণ ও হামলা প্রতিহত করার ব্যর্থতার কারণ খুঁজতে আমরা ১৬ সদস্য বিশিষ্ট একটি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিংস টিম গঠন করি। ওই টিমের পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে দেখা যায়, দেশের অন্যান্য স্থানের মতো এখানেও সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস প্রতিরোধে প্রশাসনের নজিরবিহীন ব্যর্থতা ছিল। আক্রান্তরা অনেকবার অবহিত করলেও প্রসাশন সেখানে উপস্থিত হয়নি। ফলে হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশাপাশি নির্বাচনের পক্ষের দলও এ হামলার শিকার হয়।’
তিনি আরো বলেন, ‘সম্প্রতি দেশব্যাপী সাম্প্রদায়িক হামলার মূল কারণ ৫ জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচন। নির্বাচনের দিন সকাল থেকেই এ হামলার আশঙ্কা করা হয়। পরে সাম্প্রদায়িক ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে ভোট দিতে গেলে শুরু হয় এ হামলা। যা বর্তমানেও অব্যাহত রয়েছে। এই অবস্থায় এসব হামলার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে গণজাগরণ মঞ্চ সরকারের কাছে সুস্পষ্ট তিনটি দাবি পেশ করেছি। এই দাবিগুলো হচ্ছে- সাম্প্রদায়িক এসব সামাজিক সন্ত্রাসরোধে আলাদাভাবে আইন তৈরি করা; দায়ি ব্যক্তি ও গোষ্ঠীকে গ্রেপ্তার করে অবিলম্বে বিশেষ ট্র্যাইবুনালে দ্রুত তাদের বিচার করা; সারাদেশে হামলার শিকার হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ক্ষতি নিরূপণ করে তাদেরকে ক্ষতিপূরণ প্রদান করা।’
Posted ১০:০০ | বৃহস্পতিবার, ২৩ জানুয়ারি ২০১৪
Swadhindesh -স্বাধীনদেশ | admin