শনিবার ১৭ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কলঙ্কজনক নির্বাচন বাতিল করে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের উদ্যোগ নিন : খালেদা জিয়া : অবৈধ সরকার দীর্ঘায়িত হবে না, জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থেকে সংগ্রামে অটল থাকার আহ্বান

  |   সোমবার, ০৬ জানুয়ারি ২০১৪ | প্রিন্ট

কলঙ্কজনক নির্বাচন বাতিল করে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের উদ্যোগ নিন : খালেদা জিয়া : অবৈধ সরকার দীর্ঘায়িত হবে না, জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থেকে সংগ্রামে অটল থাকার আহ্বান

khaleda

স্টাফ রিপোর্টার : বিরোধীদলীয় নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থেকে সংগ্রামে অটল থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, অবৈধ সরকার দীর্ঘায়িত হবে না ইনশআল্লাহ। তিনি নির্বাচনের নামে ৫ জানুয়ারির কলঙ্কজনক প্রহসন বর্জন করায় দেশবাসীকে অভিনন্দন জানান।

গতকাল এক বিবৃতিতে খালেদা জিয়া বলেন, দেশের জনগণ অত্যন্ত ঘৃণাভরে ৫ জানুয়ারির প্রহসনের নির্বাচনকে প্রত্যাখ্যান করেছে। অবিলম্বে কলঙ্কজনক এ নির্বাচন বাতিলের আহ্বান জানাই। একই সঙ্গে সরকারের পদত্যাগ এবং নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সবার অংশগ্রহণে একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে সমঝোতায় পৌঁছার দাবি জানাই।

বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, কলঙ্কজনক এই নির্বাচনী প্রহসনের পর সরকারের ক্ষমতায় টিকে থাকার আর কোনো নৈতিক ও সাংবিধানিক ভিত্তি নেই। জনগণের অনুমোদন ছাড়া দেশ পরিচালনার এখতিয়ারও তাদের নেই।

খালেদা জিয়া কারসাজির এ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় থাকার বিরুদ্ধে যে আন্দোলন চলছে তা বিজয় অর্জন না হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে উল্লেখ করে বলেন, কেন্দ্র থেকে যখন যে কর্মসূচি ঘোষণা হবে তা পালন এবং স্থানীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে ও সমন্বয় করে আন্দোলন চালিয়ে যাবার জন্য আমি সবার প্রতি আহ্বান জানাই। এ আন্দোলনকে বেগবান করার জন্য আমি সব রাজনৈতিক দল, শক্তি ও ব্যক্তির প্রতিও আহবান জানাই।

বিবৃতিতে খালেদা জিয়া বলেন, অভিনন্দন বাংলাদেশ। অভিনন্দন বাংলাদেশের গণতন্ত্রপ্রিয় মানুষকে। আমি অন্তরের অন্তস্তল থেকে ধন্যবাদ জানাই বাংলাদেশের সচেতন নাগরিক ও ভোটারদের। তারা ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের নামে কলঙ্কময় প্রহসনকে বর্জন করেছেন।

তিনি বলেন, দেশের এবং সারা দুনিয়ার মানুষ নিজের চোখে সরাসরি ও মিডিয়ার মাধ্যমে দেখেছেন এবং জেনেছেন যে, কিভাবে ভোটাররা এই কারসাজির ঘৃণ্য প্রহসনকে বর্জন করেছেন। সারা দিন সারাদেশের ভোটকেন্দ্রগুলো ছিল ফাঁকা। ভোটারবর্জিত এই একতরফা কারসাজিকে জনগণ ঘৃণাভরে পুরোপুরি বর্জন করেছেন। গণতন্ত্র হত্যার এই যজ্ঞে তারা সায় দেননি। প্রত্যাখ্যান করেছেন আওয়ামী লীগের এই নির্লজ্জ মহড়াকে। বাংলাদেশের মানুষ তাদের অধিকারের পক্ষে, গণতন্ত্রের পক্ষে, স্বৈরশাসনকে দীর্ঘায়িত করার বিপক্ষে অতীত ঐতিহ্যের ধারায় আরেকবার নীরব বিপ্লব ঘটিয়েছেন।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, ভোটারশূন্য এই নির্বাচনী প্রহসনের মাধ্যমে সবার সামনে হাতে-কলমে প্রমাণিত হয়েছে যে, সরকারের প্রতি মানুষের ঘৃণা ও অনাস্থা কত তীব্র। এর মাধ্যমে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, তাদের মুষ্টিমেয় দোসর ও আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশনের গণবিরোধী কুকর্মও দিবালোকের মতো স্পষ্ট হয়ে গেছে।

‘সবখানে সারাদিন ভোটকেন্দ্রগুলো শূন্য পড়েছিল। কেউ ভোট দিতে আসেনি। বহু ভোটকেন্দ্রে একটি ভোটও পড়েনি। কোথাও কোথাও দু’চারটা করে ভোট পড়লেও এর মধ্যে বেশিরভাগই ছিল জাল। অথচ ভোটগ্রহণের শেষ পর্যায়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের নির্বাচন কমিশন অভিমুখে ছোটাছুটি ও তত্পরতার পর রাতে লাখ লাখ এবং হাজার হাজার ভোট পড়েছে বলে দেখানো হয়। এতে পুরো প্রহসনটির সামান্যতম বিশ্বাসযোগ্যতাও আর অবশিষ্ট থাকেনি।

তিনি বলেন, গায়ের জোর, সন্ত্রাস ও রাষ্ট্রশক্তির নিষ্ঠুর অপব্যবহার করে এই প্রহসনের মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগণকে পরাজিত এবং গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকারকে কেড়ে নিয়ে আওয়ামী লীগ তাদের শাসন ক্ষমতা প্রলম্বিত করতে চাইছে। কতটা নির্লজ্জ হলে তারা এরপরেও বলতে পারে, জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিয়েছে এবং তারা দেশ পরিচালনায় জনগণের ম্যান্ডেট পেয়ে গেছে।
তিনি বলেন, মানুষের কোনো ভোট বা সম্মতি ছাড়াই আগেই জাতীয় সংসদের ১৫৩টি আসন আওয়ামী লীগ ভাগ-বাটোয়ারা করে সিলেকশন করেছে। বাকি ১৪৭ আসনেও ভোটারদের সমর্থন দূরে থাক, তারা ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের হাজিরই করতে পারেনি। বাংলাদেশের সচেতন জনগণ তাদের এই কারসাজির একতরফা অপপ্রয়াসকে পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে। কাজেই এই সরকারের ক্ষমতায় টিকে থাকার আর কোনো নৈতিক ও সাংবিধানিক ভিত্তি নেই। জনগণের অনুমোদন ছাড়া দেশ পরিচালনার এখতিয়ার কারও থাকে না।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, গত ৫ জানুয়ারির কলঙ্কময় প্রহসনের মাধ্যমে সরকারের প্রতি জনগণের অনাস্থাই কেবল নয়, আরও প্রমাণ হয়েছে যে, নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন ছাড়া বাংলাদেশে সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ এবং সবার অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন সম্ভব নয়। কাজেই আমি অবিলম্বে নির্বাচনের নামে এই প্রহসন বাতিল, সরকারের পদত্যাগ এবং নির্দলীয় নিরপেক্ষ একটি সরকারের অধীনে সবার অংশগ্রহণে একটি সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে সমঝোতায় পৌঁছার জন্য আহবান জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, আমি আবারও বলতে চাই, আমাকে কার্যত গৃহবন্দি ও জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন রেখে, বিরোধী দল ও জনগণের ওপর দমন-পীড়ন চালিয়ে সমস্যা ও সঙ্কটের কোনো সুরাহা হবে না। সন্ত্রাসের পথে অবৈধ ক্ষমতাকে প্রলম্বিত করার অপচেষ্টাতেও শেষরক্ষা হবে না। বরং তাতে সঙ্কট আরও জটিল ও গভীর এবং সমাধানের অযোগ্য হয়ে পড়বে।

তিনি বলেন, কারসাজি ও প্রহসনের মাধ্যমে অবৈধ ক্ষমতাকে প্রলম্বিত করার ঘৃণ্য অপচেষ্টাকে প্রতিরোধ করতে গিয়ে নিরস্ত্র সাধারণ মানুষ ও বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা আজ অকাতরে প্রাণ দিচ্ছেন। তাদের এই আত্মদান বৃথা যাবে না। ব্যক্তিবিশেষের ক্ষমতার উত্কট বাসনা আজ যেভাবে রক্ত ঝরাচ্ছে, যেভাবে মানুষ নিজের দেশের সরকারের হাতেই সীমাহীন উত্পীড়িত হচ্ছে, এটা বেশি দিন চলতে পারে না। জনগণের এ আন্দোলন বিজয় অর্জন না হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত আছে এবং থাকবে। কেন্দ্র থেকে যখন যে কর্মসূচি ঘোষণা হবে তা পালন এবং স্থানীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে ও সমন্বয় করে আন্দোলন চালিয়ে যাবার জন্য আমি সবার প্রতি আহবান জানাচ্ছি। এ আন্দোলনকে বেগবান করার জন্য আমি সব রাজনৈতিক দল, শক্তি ও ব্যক্তির প্রতিও আহবান জানাই।
তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রহসনে আওয়ামী লীগেরও বিপুল সংখ্যক লোক শরিক না হওয়ায় আমি তাদেরকেও ধন্যবাদ জানাই। আশা করি তারাও জনগণের অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে তাদের সঙ্গেই একাত্ম থাকবেন।

খালেদা জিয়া বলেন, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আমি আবারও আহ্বান জানাই, বেআইনি কার্যকলাপ ও হত্যা-নির্যাতন থেকে বিরত থাকুন। সুস্থ, স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে কাজ করুন। জনগণের সঙ্গে থাকুন। ধর্মীয় সংখ্যালঘুসহ দুর্বল জনগোষ্ঠীসহ সব নাগরিকের জীবন, সম্পদ ও সম্ভ্রমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন।

তিনি এ প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বিশেষ করে গণতান্ত্রিক বিশ্বের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আজ বাংলাদেশে জনগণের সব অধিকার ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসে বিধ্বস্ত। উদারনৈতিক গণতান্ত্রিক রাজনীতি ও নিয়মতান্ত্রিক কার্যক্রম স্তব্ধ। সংবাদ-মাধ্যম শৃঙ্খলিত। আগেরবারের আওয়ামী শাসনামলে সৃষ্ট যে জঙ্গিবাদকে আমরা ধর্মপ্রাণ মানুষের সহযোগিতা নিয়ে কঠোর হাতে দমন করতে পেরেছিলাম, আজ আবারও স্বৈরশাসনের কারণে তা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার অবকাশ সৃষ্টি হয়েছে। এই স্বৈরব্যবস্থা কেবল বাংলাদেশে নয়, সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার স্বস্তি ও স্থিতিকে হুমকির দিকে ঠেলে দিতে পারে। তাই অবিলম্বে বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং গণতান্ত্রিক রীতিনীতির অবাধ অনুশীলনের পক্ষে বিশ্ববিবেককেও আরও বেশি সোচ্চার ও সক্রিয় হতে হবে।
তিনি বলেন, সংবাদ মাধ্যম ৫ জানুয়ারি সারাদিন নির্বাচনী প্রহসনের চিত্র যেভাবে তুলে ধরেছে তার জন্য আমি তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই। তবে রাতে চাপের মুখে তাদের স্বাধীনতা যেভাবে হরণ করা হয়েছে, তার জন্য জানাই সহানুভূতি।

তিনি বলেন, আমি সারাদেশের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থেকে সব মিথ্যাচার ও কারসাজিকে মোকাবিলা করে তাদের হৃত অধিকার ফিরিয়ে আনার সংগ্রামে অটল থাকার আহবান জানাচ্ছি। অবৈধ সরকার দীর্ঘায়িত হবে না ইনশাআল্লাহ।

advertisement

Posted ১৪:৩৬ | সোমবার, ০৬ জানুয়ারি ২০১৪

Swadhindesh -স্বাধীনদেশ |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement
Advisory Editor
Professor Abdul Quadir Saleh
Editor
Advocate Md Obaydul Kabir
This newspaper (Swadhindesh) run by Kabir Immigration Ltd
যোগাযোগ

Bangladesh Address : Moghbazar, Ramna, Dhaka -1217, Europe Office: 552A Coventry Road ( Rear Side Office), Small Heath, Birmingham, B10 0UN,

ফোন : 01798-669945, 07960656124

E-mail: news@swadhindesh.com, swadhindesh24@gmail.com