| বুধবার, ০২ এপ্রিল ২০১৪ | প্রিন্ট
স্টাফ রিপোর্টার : সকাল ১১ টায়, জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে বাংলাদেশ সত্যের শক্তি’র উদ্যোগে“সহিংস উপজেলা নির্বাচন চলমান রাজনীতি এবং গণতন্ত্রের ভবিষ্যত” শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।সংগঠনের উপদেষ্টা আকবর হোসেন ভূইয়া নান্টু’র সভাপতিত্বে ও মোঃ মঞ্জুর হোসেন ঈসা’র পরিচালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাবেক মন্ত্রী,বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান।
প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিচারপতি জয়নুল আবেদীন। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা, কৃষক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান দুদু, জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, যুবদলের কেন্দ্রীয় সিনিয়র সহ সভাপতি এড. আব্দুস সালাম আজাদ, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মেজর (অবঃ) মোঃ হানিফ, ওলামা দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি হাফেজ আঃ মালেক, ঢাকা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এড. সিমকী ইমাম খান, বিএনপির সহযোগী সংগঠন ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক লায়ন মিয়া মোঃ আনোয়ার, সাংগঠনিক সম্পাদক ও বন্ধু দলের সভাপতি শরীফ মোস্তফাজামান লিটু, বীরমুক্তিযোদ্ধা ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, দেশপ্রেমিক নাগরিক পার্টির সভাপতি আহসানউল্লাহ শামীম, দেশনেত্রী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, যুবদল নেতা খলিল মৃধাসহ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।
সভার শুরুতেই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক ইতালী প্রবাসী বিশিষ্ট লেখক রাশেদুর রহমান রাকেশ ও প্রথম যুগ্ম আহ্বায়ক নাবিলা রহমানের পক্ষ থেকে সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, উপজেলা নির্বাচনে সহিংস ঘটনা ঘটেনি বরং ভোট ডাকাতি হয়েছে। তিনি আসন্ন উপজেলা নির্বাচন বাতিল করার দাবী জানিয়ে বলেন, যে নির্বাচনে ভোটাররা ভোট দিতে পারেনি, ভোট শুরু হওয়ার আগেই রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনার ভোট বাক্স ভরে ফেলেছে সেই নির্বাচন মেনে নেয়া যায় না। তিনি বলেন, নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সকল দলের অংশগ্রহণে জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি উপজেলা নির্বাচন পুনঃঅনুষ্ঠান করার জন্য যে আন্দোলন গড়ে তোলা দরকার সে বিষয়ে জনগণকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালে আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে মামলা খেয়েছিলাম এখন যখন দেখি ইতিহাস বিকৃতি করা হচ্ছে তখন শুধু কষ্টই পাই না আহতও হই। তিনি আরও বলেন, এই সরকারের কাছে গণতন্ত্র কখনোই নিরাপদ ছিল না। বরং এই সরকার যখনই ক্ষমতায় আসে তখনই গণতন্ত্রকে হরণ করে নেয়। যত দ্রুত এই সরকারের বিদায় হবে তত দ্রুত গণতন্ত্রের দিকে জনগণ ফিরে আসবে।
প্রধান বক্তা বিচারপতি জয়নুল আবেদীন বলেন, আমি স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, যারা এখন নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বে রয়েছেন আমি তাদের ব্যক্তিগত ভাবে চিনি।তারা ১৯৯৫ সালে জনতার মঞ্চে উঠে একটি দলের পক্ষে উঠে সরাসরি অবস্থান নিয়েছিল। সেই সময় পরবর্তীতে ক্ষমতায় ছিল বিএনপির সরকার। তারা যদি জনতার মঞ্চের কুশীলবদের কঠিন হস্তে বিচার করতেন আজকে এই নগ্ন উপজেলা নির্বাচন আমাদের দেখতে হতো না। তিনি আরও বলেন এদেশের জনগণ সবসময় গণতন্ত্রকে বিশ্বাস করে এবং গণতন্ত্রের ধারায় থাকতে চায়। যারা গণতন্ত্রকে ব্যাহত করছে তারা একসময় ইতিহাসের আস্তাকুড়ে পড়ে যাবে।
বিশেষ অতিথি শামসুজ্জামান দুদু তার বক্তব্যে বলেন এই সরকারের পতন হলেই এদেশে জনগণ গণতন্ত্রের মুক্তির স্বাদ লাভ করবে। তিনি বলেন, এ অবৈধ সরকারের আমলে যারা বিভিন্ন জায়গায় দায়িত্ব পালন করছেন র্যাব-পুলিশ ও বিজিবির তারাও ইতিহাসে অবৈধ হিসেবে গণ্য হবেন।
বিশেষ অতিথি শফিউল আলম প্রধান বলেন, ২৯ ডিসেম্বর এদেশের জাতি দেখতে পেয়েছে কিভাবে বর্তমান সরকারের গুন্ডা বাহিনীরা গণতন্ত্রকে সুপ্রীম কোর্টে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। উপজেলা নির্বাচনে নজিরবিহীন ভোট ডাকাতির মধ্য দিয়ে এই সরকার প্রমাণ করেছে তারা কখনোই গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। জালিমশাহী সরকারের বিরুদ্ধে গণআন্দোলন গড়ে তোলাই হবে আমাদের সকলের অঙ্গীকার।
Posted ১১:৫৫ | বুধবার, ০২ এপ্রিল ২০১৪
Swadhindesh -স্বাধীনদেশ | admin