| বৃহস্পতিবার, ২০ মার্চ ২০১৪ | প্রিন্ট
মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলা পরিষদের নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই জমে উঠছে ভোটের মাঠ। তবে এবারের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে চর্তুমুখী প্রতিদ্বন্দিতা হবে,শুরুর দিকে এমন আভাস মিললেও ক্রমেই পাল্টে যাচ্ছে ভোটের মাঠের হিসেব নিকেশ। গত দুদিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে সাধারন ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, রাজনগরে এবার চেয়ারম্যান পদে মুল লড়াই হবে আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আছকির খান,জামায়াতের আব্দুল মান্নান ও বিএনপির জামি আহমদের মধ্যে।
এখনকার উপজেলা চেয়ারম্যান মিছবাউদ দোজা ভেলাই হেভিওয়েট প্রার্থী হলেও নানা কারনে এবার তার জনপ্রিয়তায় ধস নেমেছে। উপজেলা আওয়ামীলগের এই সভাপতি গত নির্বাচনে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হন। কিন্তু গত উপজেলা নির্বাচনের পর তার অনুগতরা আওয়ামীলগের সৈয়দ মহসীন আলী বলয়ের সমর্থথক নেতা-কর্মীদের বাড়ী ঘর পুড়িয়ে দেয়া,রাজনগরে গত ৫ বছরে টেন্ডারবাজি,তার অনুমতি ছাড়া থানায় মামলা না নেয়া,কাওয়াদিঘি হাওরে প্রকৃত মতসজীবিদের ক্ষতিগ্রস্থ করা সহ নানা কারনে রাজনগরের ওয়াটারলড ভেলাইর বিকল্প খুজছেন ভোটাররা।আর এ ক্ষেত্রে ভোটের মাঠের নানা সমীকরনে এবার এগিয়ে রয়েছেন উপজেলা আওয়ামীলগের সাধারন সম্পাদক আছকির খান।
ভোটের সমীকরনে তিনি এগিয়ে থাকলেও অবশ্য ভোটের মাঠে টাকা খরচের লড়াইয়ে অন্য প্রার্থীদের চেয়ে আছকির অনেকখানি পিছিয়ে আছেন।কয়েক দশক রাজনীতি করেও টাকা পয়সার মালিক না হতে পারা আছকির খানের পক্ষে অবশ্য প্রচারনার ব্যায় নেতা-কর্মী ও সাধারন ভোটাররাই যোগাচ্ছেন। আর আছকির খানও এবার ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বলছেন,এবা্রই তার শেষ নির্বাচন। জীবনের শেষ বেলায় ব্যাক্তিগত আর কিছু চাওয়া পাওয়ার নেই তার। নির্বাচিত জনিপ্রতিনিধি হিসেবে হাওরপারের উন্নয়ন বঞ্চিত রাজনগরের মানুষের জন্য কিছু করবার তাগিদ থেকেই তিনি প্রার্থী হয়েছেন। তিনি বলেন,আমি আমার কর্মীদের স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছি অন্য প্রতিদ্বন্দি কোন প্রার্থীর বিরুদ্ধে একটি শব্দও উচ্চারন না করতে। প্রতিহিংসা নয়,ভোটের মাঠে সৌহার্দের মধ্য দিয়ে শব্দও উচ্চারন না করতে। প্রতিহিংসা নয়,ভোটের মাঠে সৌহার্দের মধ্য দিয়ে সুস্থ প্রতিদ্বন্দিতা করতে চাই। সেই বঙ্গবন্ধুর আমল থেকে আওয়ামীলীগের সেক্রেটারী হিসিবে দায়িত্ব পালন করে যাওয়া আছকির এবার ভোটারদের ভোটে নির্বাচিত হয়ে চেয়ারম্যান হিসেবে প্রমোশন পাবেন এমন প্রত্যাশা আছকির খানের কর্মী-সমর্থকদের।আর উপজেলার চা শ্রমিকরাও এবার প্রকাশ্যে মাঠে নেমেছেন আছকির খানের জন্য।
৩১শে মার্চ অনুষ্ঠেয় এ নির্বাচনে রাজনগরের ইতিহাসে এই প্রথমবার সর্বাধিক ছয়জন প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্ধন্দিতা করছেন। আওয়ামীলীগ, বি এন পি, জামায়াত, খেলাফত মজলিস, এবং বাম-বলয় থেকে প্রার্থীরা চষে বেড়াচ্ছেন ঐতিহাসিক এ জনপদটি। উপজেলার বর্তমান জনস্রোত পরিবর্তনের দিন গুনছে, এবং এই পরিবর্তন যাতে উন্নয়নমুখী হয় সে ব্যাপারে রয়েছে চোখে পরার মত সচেতনতা। রাজনগরের এই সমকালিন বাস্তবতা ভোটের মাঠে অনেকটা এগিয়ে নিয়ে গেছে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আছকির খানকে। বর্ষীয়ান এই নেতা বঙ্গবন্ধুর সংস্পর্শে রাজনিতিতে আসেন ষাটের দশকের শেষদিকে। সেই থেকে আজ পর্যন্ত দলীয় আদর্শের বার্তা বিলি করেছেন উপজেলার প্রতিটি আনাচে- কানাচে। বীর এই মুক্তিযোদ্ধাকে আজ অবধি স্পর্শ করেনি দুর্নীতির কালিমা। স্বাধীন বাংলাদেশে রাজনীতি করে অনেকেই ভাগ্য উন্নয়ন করলেও, সুযোগ পাওয়া সত্তেও সে পথে পা বাড়াননি সদালাপি এই নেতা।
এলাকার শিক্ষা এবং সামাজিক শান্তির জন্য নিবেদিত আছকির খান কখনই রাজনিতিতে মানি এবং মাসুলের ব্যাবহার করেননি, বস্তুত সে সাধ্য উনার নেই। এবারের নির্বাচনে দলের তৃনমূল নেতৃত্তের প্রত্তক্য ভোটে নির্বাচিত এই দলীয় প্রার্থী জীবনের শেষ দিকে এসে পাচ্ছেন সঠিক মূল্যায়ন। পরিবর্তনমুখী নেতা কর্মী চাঙ্গা মনোভাব নিয়ে কাজ করার আরও একটি কারন হচ্ছে সমাজ- কল্যাণ মন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলীর অনুপ্রেরনা। আছকির খানের সাথে মন্ত্রী মহোদয়য়ের পারস্পরিক বুঝাপড়া অনেকটা ওপেন সিক্রেট। দীর্ঘদিনের জমাট বাঁধা কষ্ট এবং বঞ্চনার অবসান হবে রাজনগরে এই প্রত্যাশায় কর্মী সমর্থকেরা নিরলসভাবে কাজ করছেন আছকির খানের জন্য। বিশিষ্ট সাংবাদিক, উপজেলা প্রেস্ক্লাবের সাবেক সম্পাদক আকলু মিয়া চৌধুরি সাথে আলাপ কালে উঠে আসে আছকির খানের পক্ষে এই গন-জুয়ারের নানা কারন। ইতিমধ্যে উপজেলা জাতীয় পার্টি, জাসদ, এবং তালামিজ একাত্ততা প্রকাশ করেছে আছকির খানের পক্ষে। সর্বদা জেনটেল-ম্যান রাজনীতি করার জন্য উপজেলার সকল দলের মানুষের মধ্যে রয়েছে উনার একটি ভাল অবস্থান।
এছাড়া বিভিন্ন কারনে বিগত নেতৃত্ব বিতর্কিত। বঞ্ছিত এবং নির্যাতিত মানুষ আছকির খানের পক্ষে রায় দিবে, উন্নয়ন ও শান্তির প্রত্যাশায়। রাজনগর উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা সাবেক চেয়ারম্যান ছাদিকুর রহমান, ফয়সল আহমদ,ফরজান আহমেদ, মিহির কান্তি মঞ্জু সহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা আলাপকালে জানান,ভোটকেন্দ্র দখল,ভোটের আগের রাতগুলোতে গতবারের মত প্রশাসনের সহযোগীতায় অপেন টাকা বিলি,সংখ্যালঘু ভোটারদের মাঝে নানা ভাবে ভীতিসঞ্চারের মত ঘটনা না ঘটলে এবার আছকির খানের বিজয় অনেকটাই সুনিশ্চিত। মানুষ এখন অপেক্ষাকৃত ভালো বিকল্প খুজছেন তার মুল্যবান ভোটের আমানতটি যার কাছে নিরাপদ থাকবে।
Posted ২৩:৫৭ | বৃহস্পতিবার, ২০ মার্চ ২০১৪
Swadhindesh -স্বাধীনদেশ | admin