| বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৩ | প্রিন্ট
খালেদা জিয়ার নেত্বৃত্বে ১৮ দলের প্রতিনিধি দলের সাথে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে বৈঠককালে বিএনপি চেয়ারপারস বেগম খালেদা জিয়ার কাছে তার ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি নিজের ক্ষোভের কথা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।
রাষ্ট্রপতি পদকে প্রায় ক্ষমতাহীন করে দেওয়ায় এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি।
বৈঠক উপস্থিত নেতাদের সূত্রে জানা যায়, বৈঠকের এক পর্যায়ে দেশের অভিভাবক হিসাবে এই সংকটময় মূহুর্তে রাষ্ট্রপতিকে উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানালে তিনি বলেন, ‘আপনারা বলছেন দেশের ক্রান্তিকাল, আমি দেশের অভিভাবক। সংকটে আমাকে উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানালেন। কিন্তু আপনিও প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, তিনিও (শেখ হাসিনা) এখন প্রধানমন্ত্রী, এর আগেও তিনি প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। আপনারা দু’জনে মিলেই তো সংবিধানে রাষ্ট্রপতির কোনো ক্ষমতা রাখেননি। ক্রান্তিকালে অভিভাবক হিসেবে রাষ্ট্রপতির উদ্যোগ নেয়ার সুযোগ তো আপনারা কেউই সংবিধানে রাখেননি। সংসদে রাষ্ট্রপতি হিসেবে আমি যে বক্তব্য রাখি, সেটিও লিখে দেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আমি শুধু পাঠক। আমিও চাই, আপনারা নিজেরাই আলোচনা করে সমস্যার সমাধান করুন।’
রাষ্ট্রপতির একথার পর খালেদা জিয়া তাকে বলেন ‘আমরা শান্তি চাই। গণতন্ত্র চাই। সংলাপের মাধ্যমে সমঝোতা চাই। কিন্তু সরকার সকল জনমত উপেক্ষা করে দেশে একদলীয় নির্বাচন করতে চাচ্ছে। সেই নির্বাচনে আমরা অংশ নেব না এবং নির্বাচন করতেও দেবো না।’
জবাবে আবদুল হামিদ বলেন ‘ঠিক আছে, আপনাদের বক্তব্য নিয়ে আমি সরকারের সঙ্গে আলাপ করবো।’
আলোচনার সময় রাষ্ট্রপতিকে মির্জা ফখরুল বলেন ‘আমরা তো সবসময় আলোচনার কথা বলছি। আমি নিজে সৈয়দ আশরাফ সাহেবকে চিঠি পাঠিয়েছি। আজ পর্যন্ত সেই চিঠির জবাবও আমরা পাইনি। এরপর ফোন করেও তাকে অন্তত মহাসচিব পর্যায়ে আলোচনার উদ্যোগ নিতে অনুরোধ করেছি। কিন্তু কিছুতেই সরকারের কোনো সাড়া নেই।’
এসময় রাষ্ট্রপতি বলেন ‘ঠিক আছে আমি আশরাফ সাহেবকে বলবো, সৌজন্যতাবোধ থেকেও চিঠির জবাব দেয়া উচিত। এই কাজটি আমি করতে পারি।
সূত্র জানায়, আলোচনা শেষে বিরোধী দলীয় নেতার উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি বলেন ‘আপনি আসবেন’। জবাবে খালেদা জিয়া তাকে বলেন ‘আপনি ডাকলে আসবো।’ এরপর রাষ্ট্রপতি বলেন ‘আমি তো ভয়ে আপনাকে ডাকি না, ডাকলে যদি না আসেন’।
Posted ০০:৫১ | বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৩
Swadhindesh -স্বাধীনদেশ | admin