শনিবার ১৭ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা:)

  |   মঙ্গলবার, ১৪ জানুয়ারি ২০১৪ | প্রিন্ট

আজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা:)

muhammad

বিশ্বমানবতার মুক্তির দিশারী রহমাতুল্লিল আলামিন ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর জন্ম ও ওফাত দিবস। এ দিনটি মুসলিম উম্মাহর কাছে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী নামে পরিচিত।

৫৭০ খৃস্টাব্দের এ দিনে সুবহে সাদেকের সময় মক্কা নগরীর সম্ভ্রান্ত কুরাইশ বংশে মহানবী (সা:) জন্মগ্রহণ করেন। জন্মের পূর্বেই তিনি পিতৃহারা হন এবং জন্মের অল্পকাল পরই বঞ্চিত হন মাতৃস্নেহ থেকে। অনেক দুঃখ, কষ্ট ও প্রতিকুলতার মধ্যদিয়ে চাচা আবু তালিবের আশ্রয়ে বড় হয়ে উঠেন। চল্লিশ বছর বয়সে উপনীত হওয়ার পর তিনি মহান রাব্বুল আলামীনের পক্ষ থেকে নবুওয়তের মহান দায়িত্ব লাভ করেন।

অসভ্য বর্বর ও পথহারা জাতিকে সত্যের দিশা দিতে তিনি তাদের কাছে তুলে ধরেন মহান রাব্বুল আলামীনের তাওহীদের বাণী। কিন্তু জাতির একটি অংশ সে দাওয়াত গ্রহণ না করে তাঁর উপর নির্যাতন শুরু করে, তারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে বিভিন্নমুখী চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র করতে থাকে একের পর এক। আল্লাহর সাহায্যের ওপর ভরসা করে বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য জীবনবাজি রেখে সংগ্রাম চালিয়ে যান তিনি। ধীরে ধীরে সত্যান্বেষী মানুষ তাঁর সাথী হতে থাকে।

অন্যদিকে কাফেরদের ষড়যন্ত্রও প্রবল আকার ধারণ করে। এমনকি এক পর্যায়ে তারা রাসূল (সাঃ) কে হত্যার পরিকল্পনা গ্রহণ করে। রাসূল (সাঃ) আল্লাহর নির্দেশে জন্মভূমি ত্যাগ করে মদীনায় হিজরত করেন। মদীনায় তিনি ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে আল্লাহর আইন বাস্তবায়ন করেন এবং মদীনা সনদ নামে একটি লিখিত সংবিধান প্রণয়ন করেন। মদীনা সনদ বিশ্বের প্রথম লিখিত সংবিধান নামে খ্যাত। এ সংবিধানে ইহুদী, খৃস্টান, মুসলমানসহ সবার অধিকার স্বীকৃত হয় যথার্থভাবে।

এদিকে মক্কার কাফেরদের ষড়যন্ত্রের সাথে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয় কিছু মুনাফিকচক্র। ২৩ বছর শ্রম সাধনায় অবশেষে রাসূলে পাক (সাঃ) দ্বীন প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে বিজয় অর্জন করেন। মক্কা বিজয়ের মাধ্যমে তা পূর্ণতা লাভ করে।

ঐতিহাসিক বিদায় হজ্বের ভাষণের সময় দ্বীনের পরিপূর্ণতার কথা উল্লেখ করে মহানবী (সা:) এর উপর কোরআনের আয়াত নাযিল হয়। যাতে বলা হয়, ‘আজ থেকে তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীন তথা জীবন ব্যবস্থাকে পরিপূর্ণ করে দেয়া হলো। তোমাদের জন্য দ্বীন তথা জীবন ব্যবস্থা হিসেবে একমাত্র ইসলামকে মনোনীত করা হয়েছে।’

রাসূলের (সাঃ) রেখে যাওয়া আদর্শ থেকে মুসলমানরা বিমুখ হওয়ায় বর্তমান বিশ্বে অশান্তির আগুন দাউ দাউ করে জ্বলছে। ইসলাম বিরোধীদের হাতে আজ বিশ্বের সর্বত্র মুসলমানরা নিহত হচ্ছে। অশান্ত এই পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠায় মুহাম্মদ (সাঃ)-এর মহান আদর্শ প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই।

সারা মুসলিম জাহানের ন্যায় বাংলাদেশেও দিনটি ধর্মীয় ভাব গাম্ভীর্য ও যথাযথ মর্যাদায় পালিত হচ্ছে। এ উপলক্ষে ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে বাংলাদেশ বেতার ও বিটিভিসহ বিভিন্ন চ্যানেলে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করা হবে। জাতীয় দৈনিকগুলো সম্পাদকীয়, বিশেষ নিবন্ধ ও ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে।

দিবসটি উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট মোঃ আবদুল হামিদ এডভোকেট, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম  খালেদা জিয়া পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ তার বাণীতে দেশবাসীসহ মুসলিম উম্মাহকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, মহান আল্লাহ সমগ্র বিশ্বজগতের রহমত হিসেবে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কে এ জগতে প্রেরণ করেছেন। সর্বশেষ মহাগ্রন্থ পবিত্র কোরআন তাঁর নিকট অবতীর্ণ করে জগতে তাওহীদ প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব অর্পণ করেন।

তিনি বলেন, ৬২২ খ্রিষ্টাব্দে মহানবী (সাঃ) প্রণীত বিশ্বের ইতিহাসে সর্বপ্রথম লিখিত সংবিধান ‘মদীনা সনদ’-এ জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সর্বস্তরের জনগণের ন্যায্য অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার সার্বজনীন ঘোষণা রয়েছে। ধর্মীয় ও পার্থিব জীবনে তাঁর শিক্ষা সমগ্র মানবজাতির জন্য অনুসরণীয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাণীতে বলেন, মহান আল্লাহ্‌ আমাদের প্রিয়নবী (সাঃ)-কে এ পৃথিবীতে প্রেরণ করেছেন ‘রাহমাতুল্লিল আলামীন’ তথা সারা জাহানের জন্য রহমত হিসেবে। পাপাচার, অত্যাচার, মিথ্যা, কুসংস্কার ও সংঘাতে জর্জরিত পৃথিবীতে তিনি মানবতার মুক্তিদাতা ও ত্রাণকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন। অন্ধকার যুগের সকল আঁধার দূর করে সত্যের উজ্জ্বল আলো জ্বালিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার দৃঢ় বিশ্বাস মহানবী (সাঃ)-এর সুমহান আদর্শ অনুসরণের মধ্যেই প্রতিটি জনগোষ্ঠীর জন্য রয়েছে অফুরন্ত কল্যাণ ও সফলতা। আজকের অশান্ত ও দ্বন্দ্ব-সংঘাত মুখর বিশ্বে প্রিয়নবী (সাঃ)-এর অনুপম শিক্ষার অনুসরণের মাধ্যমেই বিশ্বের শান্তি ও কল্যাণ নিশ্চিত হতে পারে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া তার বাণীতে বলেন, মহানবী (সা.) মানবজাতির জন্য এক  উজ্জ্বল অনুসরণীয় আদর্শ। মহান আল্লাহ বিশ্বের রহমতস্বরূপ হযরত মুহাম্মদ (সা.) কে প্রেরণ করেন। বিশ্বনবীর আবির্ভাবে পৃথিবীতে মানুষ ইহলৌকিক ও পরলৌকিক জগতের মুক্তির সন্ধান পায় এবং নিজেদের কল্যাণ ও শান্তির নিশ্চয়তা লাভ করে।

বিএনপির চেয়ারপারসন বলেন, নিজ যোগ্যতা, সততা, মহানুভবতা, সহনশীলতা, কঠোর পরিশ্রম, আত্মপ্রত্যয়, অসীম সাহস, ধৈর্য, সৃষ্টিকর্তার প্রতি অগাধ বিশ্বাস, নিষ্ঠা ও অপরিসীম দুঃখ যন্ত্রণা ভোগ করে তাঁর উপর অবতীর্ণ সর্বশ্রেষ্ঠ মহাগ্রন্থ আল-কোরআনের বাণী তথা তওহীদ প্রতিষ্ঠার মহান দায়িত্ব পালন করেন। তিনি আইয়ামে জাহেলিয়াতের অন্ধকার দূর করে অত্যাচার ও জুলুম-নির্যাতন বরণ করে সত্য ও ন্যায়কে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছিলেন।

আমি আল্লাহ রাব্বুল আল-আমিনের নিকট প্রার্থনা করি মহানবী (সা.)-এর শিক্ষা, আদর্শ ও ত্যাগের মহিমা আমরা সবাই যেন নিজেদের জীবনে প্রতিফলন ঘটাতে পারি।

advertisement

Posted ১০:২৪ | মঙ্গলবার, ১৪ জানুয়ারি ২০১৪

Swadhindesh -স্বাধীনদেশ |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement
Advisory Editor
Professor Abdul Quadir Saleh
Editor
Advocate Md Obaydul Kabir
This newspaper (Swadhindesh) run by Kabir Immigration Ltd
যোগাযোগ

Bangladesh Address : Moghbazar, Ramna, Dhaka -1217, Europe Office: 552A Coventry Road ( Rear Side Office), Small Heath, Birmingham, B10 0UN,

ফোন : 01798-669945, 07960656124

E-mail: news@swadhindesh.com, swadhindesh24@gmail.com