শুক্রবার ১৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আজ দোয়া দিবস আগামীকাল বিক্ষোভ : অযুত জনতার অশ্রুসিক্ত ভালবাসায় চিরনিদ্রায় শায়িত সীতাকুন্ডের জামায়াত নেতা শহীদ আমিনুল

  |   শুক্রবার, ২২ নভেম্বর ২০১৩ | প্রিন্ট

Sitakundu

চট্টগ্রাম অফিস ও সীতাকুন্ড সংবাদদাতা : হাজার হাজার মানুষের অশ্রুসিক্ত ভালোবাসায় চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন সাবেক শিবির নেতা, বাকশালী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে অপ্রতিরোধ্য আন্দোলনের অকুতভয় সৈনিক, সীতাকু-ের রাজপথ কাঁপানো জামায়াত নেতা শহীদ আমিনুল ইসলাম আমিন (৪০)। জানাযা পূর্বে বাড়বকু- বাজারে বিপুলসংখ্যক পুলিশ বিজিবির সদস্যরা উপস্থিত থাকলেও জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের হাজার হাজার নেতা-কর্মী এতে উপস্থিত হয়। হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ২টায় বাড়বকু- ঈদগাহ মাঠে জানাযা শেষে জামায়াত নেতা শহীদ আমিনুল ইসলামের কফিন তার গ্রামের মান্দারটোলা নুর মোহাম্মদ সুফি জামে মসজিদ সংলগ্ন কবরস্থানে দাফন করা হয়। শাহাদাতকালে তিনি বৃদ্ধা মা, স্ত্রী, ২ ভাই এবং ৪ মাসের এক মেয়ে সন্তান রেখে যান। জানাযায় ইমামতি করেন প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মুমিনুল হক চৌধুরী। জানাযায় বিএনপি-জামায়াত, ১৮ দলের নেতা-কর্মীরাসহ সীতাকু-ের সর্বস্তরের জনগণ শরীক হন।

এদিকে সীতাকু-ে জামায়াত নেতা শহীদ আমিনুল ইসলামের জানাযা পূর্ব সমাবেশে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরী আমীর মাওলানা আ ন ম শামসুল ইসলাম এমপি বলেছেন, আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা মানুষ হত্যা করে প্রধানমন্ত্রিত্ব রক্ষা করতে চায়। এদেশের জনগণ সে স্বপ্ন পূরণ হতে দেবে না। ২০২১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য কেয়ারটেকার সরকার পদ্ধতি বাতিল করেছে। জনগণের ভোটাধিকার হরণ করে ক্ষমতায় টিকে থাকা যায় না। জনগণের সমর্থন নেই বলেই নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার গঠন করতে ভয় পায় আওয়ামী লীগ।

এদিকে জামায়াত নেতা আমিনুলের লাশ তার নিজ বাড়িতে আনা হলে শত শত নারী-পুরুষের কান্নায় পুরো এলাকার বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। তার বৃদ্ধা মা ও স্ত্রী বার বার মূর্ছা যাচ্ছিলেন। আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, রাজনৈতিক সহকর্মীসহ গ্রামবাসীরা তাদের প্রিয় মানুষকে হারিয়ে শোকে বিহ্বল হয়ে পড়ে। সকলের চোখে ছিল বাঁধভাঙ্গা পানি। সকলের একই প্রশ্ন ইসলামী আন্দোলনে করা কি অপরাধ? কেন অকালে মারা যেতে হলো এই প্রিয় মানুষকে? তার ৪ মাস মাস বয়সী কন্যা কোলে নিয়ে তার ভাই অঝোরে কাঁদছিলেন। সস্ত্রীকে কেউ সান্ত¦না দিতে পারছিলো না। তার লাশ যখন দাফনের জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছিলো তখন গ্রামজুড়ে কান্নার রোল পড়ে যায়। নারী, পুরুষ, ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরাও তাদের প্রিয় মানুষটির জন্য আহাজারি করতে দেখা যায়।

উল্লেখ্য, গত রবিবার ঢাকাস্থ শ্বশুর বাড়ি থেকে চট্টগ্রাম আসার পথে কুমিল্লা চৌদ্দগ্রামের একটি রেস্টুরেন্ট থেকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে জামায়াত নেতা আমিনুলকে তার স্ত্রী-কন্যার সামনে থেকে তুলে নিয়ে যায়। এর তিনদিন পর গত বুধবার সকালে তার চোখ-মুখ বাঁধা অবস্থায় গুলীবিদ্ধ রক্তাক্ত লাশ পৌরসদরের পন্থিছিলা এলাকায় পাওয়া যায়। নিহত জামায়াত নেতা আমিন বাড়বকু- মান্দারী টোলা গ্রামের মৃত সাহাবুল ইসলামের পুত্র। আমিন ৪ ভাই ১ বোনের মধ্যে ২য় । তার ভাই বেলাল জানান, গত ২ বছর আগে ঢাকার মোহাম্মদপুর থেকে আমিন বিয়ে করে। তার একটি ৪ মাসের মেয়ে রয়েছে। সে বাড়বকু- পিএইচপি গ্লাস ইন্ডাস্ট্রিজে ব্যবসা করত। আমিনের ছোট বেলার বন্ধু নুরুন্নবী জানায়, সে খুব সহজ সরল ছিল। স্থানীয় মান্দারী টোলা প্রাইমারী স্কুল থেকে পড়ালেখা করার পর সীতাকু- কামিল মাদরাসা থেকে দাখিল ও আলিম পাস করে। এরপর সীতাকু- ডিগ্রী কলেজ থেকে বিএ পাস করে। ছাত্র জীবনে তিনি ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন ১৯৯৬ সালে তিনি সীতাকু- থেকে গ্রেফতার হয়ে কারা বরণ করেন। বাড়বকু- ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মাওলানা বদরুল জানান, আমিনুল ছাত্র জীবনের পর ইসলামী আন্দোলনের দাওয়াতী কাজে সময় দিয়েছে। বাড়বকু- জামায়াতের সেক্রেটারি দায়িত্ব পালনের সাথে সাথে জামায়াতের রুকন প্রার্থী ছিলেন আমিনুল। গত ইউপি নির্বাচনে আমিন বাড়বকু- থেকে চেয়ারম্যান প্রার্থী ছিলেন। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, সরকার বিরোধী কর্মসূচি সীতাকু-ে সবচেয়ে বেশি বাস্তবায়ন হয়েছে। তার পেছনে জামায়াত-শিবির নেতা-কর্মীদের অগ্রণী ভূমিকা থাকায় সরকার প্রশাসন টার্গেট করেছে জামায়াত-শিবিরকে। গত ২৫ অক্টোবর থেকে সীতাকু-ে আওয়ামী লীগ কোন সভা-সমাবেশ করেতে পারেনি ১৮ দলের নেতা-কর্মীদের কারণে। বাড়বকু-ে শুকলাল হাটে ঐ দিন আওয়ামী লীগের সাথে ১৮ দলের নেতা-কর্মীদের সাথে সংঘর্ষ হয়। এসময় জামায়াত-শিবিরের ধাওয়া খেয়ে আওয়ামী লীগ নেতা ছাদাকাত উল্লাহর বাহিনী পিছু হটতে বাধ্য হয়। এরপর থেকে আওয়ামী লীগ রাস্তায় ওঠা বন্ধ হয়ে যায়। একইভাবে সীতাকু- পৌরসদর, বাঁশবাড়িয়া, কুমিরা, ফৌজদারহাট এলাকায় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা হরতাল বিরোধীসহ কোন কর্মসূচি করতে পারেনি। এ কারণে পুলিশ প্রশাসনে আনা হয়েছে নতুন নতুন মুখ। উপজেলা পরিষদে হয়েছে জরুরি আইনশৃঙ্খলা বৈঠক। পুলিশ আন্দোলন ধমাতে ১৮ দলের শীর্ষ নেতাদের কয়েকশ’ মামলায় কয়েক হাজার আসামী করে দমাতে পারছিল না আন্দোলন। নিহত আমিনের পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যাকা-ের জন্য আওয়ামী যুবলীগকে দায়ী করা হয়েছে।

advertisement

Posted ০১:০৩ | শুক্রবার, ২২ নভেম্বর ২০১৩

Swadhindesh -স্বাধীনদেশ |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

Advisory Editor
Professor Abdul Quadir Saleh
Editor
Advocate Md Obaydul Kabir
This newspaper (Swadhindesh) run by Kabir Immigration Ltd
যোগাযোগ

Bangladesh Address : Moghbazar, Ramna, Dhaka -1217, Europe Office: 552A Coventry Road ( Rear Side Office), Small Heath, Birmingham, B10 0UN,

ফোন : 01798-669945, 07960656124

E-mail: news@swadhindesh.com, swadhindesh24@gmail.com