| রবিবার, ০৫ জানুয়ারি ২০১৪ | প্রিন্ট
ঘরের মাঠে প্রতিশোধটা ভালো করেই নিল অস্ট্রেলিয়া। অ্যাশেজ সিরিজের পাঁচ টেস্ট ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া ৫-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করেছে। এবারের আগে অস্ট্রেলিয়া সর্বশেষ অ্যাশেজ জিতেছিল ২০০৬ সালে। সেবার ইংল্যান্ডকে হোয়াইটওয়াশ করেই ভস্মাধারটা নিজেদের দখলে নিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটাররা। সাত বছর পর আবারও সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি। অ্যাশেজ জয়ের সঙ্গে সঙ্গে ইংল্যান্ডকে হোয়াইটওয়াশের তিক্ত স্বাদটাও দিল মাইকেল ক্লার্করা। আরও একটি ব্যাটিং বিপর্যয়ের লজ্জায় মুড়ে ইংল্যান্ড অলআউট মাত্র ১৬৬ রানে।
ফলে পঞ্চম টেস্টে ২৮১ রানের বিশাল ব্যবধানে হারল ইংল্যান্ড। এ নিয়ে অ্যাশেজে তৃতীয়বারের মতো ধবলধোলাই হলো ইংলিশরা। অ্যাশেজের ১৩০ বছরের ইতিহাসে ইংল্যান্ডকে অস্ট্রেলিয়া প্রথম ধবলধোলাই করেছিল ১৯২০-২১ সিরিজে। সেবার অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক ছিলেন ওয়ারউইক আর্মস্ট্রং। দ্বিতীয়বার ২০০৬ সালে রিকি পন্টিংয়ের অধিনায়কত্বে ৫-০ ব্যবধানে অ্যাশেজ সিরিজ জিতেছিল অস্ট্রেলিয়া। আর এবার সেই বিরল গৌরবের অধিকারী হয়ে গেলেন ক্লার্ক। তবে একটা দিক দিয়ে পূর্বসূরি দুই অধিনায়ককেও পেছনে ফেলেছেন অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান অধিনায়ক। ১৯২০-২১ মৌসুমে ইংল্যান্ডকে হোয়াইটওয়াশ করতে অস্ট্রেলিয়াকে ব্যাট-বলের লড়াই চালাতে হয়েছিল ২৪ দিন। ২০০৬ সালে রিকি পন্টিংয়ের লেগেছিল ২২ দিন। আর এবার ক্লার্ক বাহিনী ইংল্যান্ডকে হোয়াইটওয়াশের স্বাদ দিয়েছে মাত্র ২১ দিনের লড়াইয়ে।
সিরিজের পঞ্চম টেস্টটা শেষ হয়েছে তৃতীয় দিনেই। ৪৪৮ রানের বড় লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমে দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৩২ ওভার পর্যন্তই উইকেটে থাকতে পেরেছেন ইংলিশ ব্যাটসম্যানরা। মাইকেল ক্যারবেরি (৪৩), ইয়ান বেল (১৬), বেন স্টোকস (৩২) ও স্টুয়ার্ট ব্রড (৪২) ছাড়া আর কেউই পেরোতে পারেননি দুই অঙ্কের কোটা। দুর্দান্ত বোলিং করে ইংল্যান্ডকে দাঁড়াতেই দেননি রায়ান হ্যারিস ও মিচেল জনসন। মাত্র ২৫ রানে পাঁচ উইকেট পেয়েছেন হ্যারিস। জনসনের ঝুলিতে জমা হয়েছে তিনটি উইকেট। এর আগে গতকাল তৃতীয় দিনের শুরুতে ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে পড়েছিল অস্ট্রেলিয়ানরাও। ৪ উইকেটে ১৪০ রান নিয়ে দিন শুরু করে প্রথম ১৫ ওভার নির্বিঘ্নেই কাটিয়েছিলেন গতকালের দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যান ক্রিস রজার্স ও জর্জ বেইলি। পঞ্চম উইকেটে তাঁদের গড়া ১০৯ রানের সুবাদেই শক্ত অবস্থান তৈরি করে অসিরা। দ্বিতীয় ইনিংসে দলীয় ২০০ রানের মাথায় ব্রডের শিকারে পরিণত হন বেইলি (৪০)।
তবে প্রায় শেষপর্যন্ত উইকেটে থেকে টেস্ট ক্যারিয়ারের চতুর্থ শতকটি পূর্ণ করেছেন রজার্স। তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে ১১৯ রান। কিন্তু বেইলি আউট হওয়ার পর খুব দ্রুতই গুটিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। মাত্র আট ওভারের মধ্যেই পাঁচটি উইকেট হারিয়ে ২৭৬ রানে শেষ হয় অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংস। তবে তাতে আসল ক্ষতি হয়েছে ইংল্যান্ডেরই। ম্যাচটা যে তিন দিনেই হেরে যাওয়ার লজ্জায় পড়তে হলো তাদের। ইংল্যান্ড যে শেষ পর্যন্ত ১৬৬ করেছে, সেটিও ‘বিস্ময়কর’। ৯৫ রানে তারা হারিয়ে ফেলেছিল ৭ উইকেট। যেভাবে উইকেট পড়ছিল, তাতে ১০০-এর নিচে অলআউট হওয়ার শঙ্কা ভালোমতোই জেঁকে বসেছিল কুকের দলকে। কিন্তু অষ্টম উইকেটে স্টোকস-ব্রডের ইনিংস সর্বোচ্চ ৪৪ রানের জুটি মহা লজ্জার হাত থেকে বাঁচিয়েছে ইংলিশদের। সিরিজে ৩৭ উইকেট নিয়ে সিরিজ সেরা হয়েছেন মিচেল জনসন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
অস্ট্রেলিয়া : প্রথম ইনিংস- ৩২৬/১০ (স্মিথ ১১৫, স্টোকস ৬/৯৯)। দ্বিতীয় ইনিংস- ২৭৬/১০ (রজার্স ১১৯, বেইলি ৪৬, হ্যাডিন ২৮, বোর্থউইক ৩/৩৩, অ্যান্ডারসন ২/৪৬)।
ইংল্যান্ড: প্রথম ইনিংস- ১৫৫/১০ (স্টোকস ৪৭, সিডল ৩/২৩) দ্বিতীয় ইনিংস- ১৬৬/১০ (কারবেরি ৪৩, ব্রড ৪২, স্টোকস ৩২ হ্যারিস ৫/২৫)।
ফল : অস্ট্রেলিয়া ২৮১ রানের ব্যবধানে জয়ী।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ : রায়ান হ্যারিস (অস্ট্রেলিয়া)।
ম্যান অব দ্য সিরিজ : মিশেল জনসন (অস্ট্রেলিয়া)।
Posted ১৭:৩৮ | রবিবার, ০৫ জানুয়ারি ২০১৪
Swadhindesh -স্বাধীনদেশ | admin