| শুক্রবার, ২৪ জানুয়ারি ২০১৪ | প্রিন্ট
নিজস্ব প্রতিবেদক: সাভারে রানাপ্লাজা ধসের ঘটনায় আহত সালমা (২৭) নামের এক গার্মেন্টস কর্মী চিকিৎসা করাতে না পেরে দীর্ঘ নয় মাস যন্ত্রণা ভুগে অবশেষে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। শুক্রবার সকালে ভাড়া বাসার শোবার ঘর থেকে তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।সালমার স্বামীর নাম বাবু মিয়া। তারা জামালপুর জেলার চর সরিষাবাড়ী এলাকার বাসিন্দা। তুরাগ থানার বামনারটেক এলাকায় ফজলুর বাড়িতে ভাড়া থাকতেন ।
জানা গেছে, রানাপ্লাজার তৃতীয় তলায় নিউ বটম কারখানায় কাজ করতেন সালমা। দুর্ঘটনার দিন তিনি মাথায় গুরুতর পান। এর পর থেকে অসহ্য যন্ত্রণায় ভুগছিলেন। অর্থাভাবে চিকিৎসা করাতে না পেরে যন্ত্রণার হাত থেকে মুক্তি পেতে অবশেষে আত্মহত্যা করেন তিনি।
শুক্রবার সকালে তুরাগ থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এসআই) কামাল হোসেন লাশ উদ্ধার করেন। তিনি জানান, খবর পেয়ে সকাল পৌনে ১১টার সময় ওই বাসার কক্ষ থেকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় লাশ উদ্ধার করা হয়।
তুরাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ ফরিদ রানাপ্লাজা ধসে সালমার আহত হওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার পর অর্থাভাবে ঠিক মতো চিকিৎসা করাতে না পেরে ওই সময় থেকেই মাথার তীব্র যন্ত্রণায় ভুগছিলেন সালমা।’
নিহতের স্বামী বাবু মিয়া বলেন, ‘গত রাতে খাওয়া-দাওয়া শেষে সবাই ঘুমিয়ে পড়ি। সকালে ঘুম থেকে উঠে সালমাকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেই।’
তিনি আরো জানান, সালমা রানাপ্লাজার একটি গার্মেন্ট কারখানায় কাজ করতেন। ভবন ধসে মাথায় আঘাত পেয়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে তিনি আর স্বাভাবিক হতে পারছিলেন না।
উল্লেখ্য, গত ২৪ এপ্রিল সাভারের রানাপ্লাজা ধসে দু’জন উদ্ধারকর্মীসহ নিহত হয় ১১৩৪ জন। আহত প্রায় আড়াই হাজার শ্রমিক। সরকারি হিসাবে নিখোঁজ ৩৩২ জন। তবে স্বজনদের দাবি, অনুযায়ী নিখোঁজের সংখ্যা অনেক বেশি। গত ১৩ ও ২২ ডিসেম্বর ধ্বংসস্তূপ থেকে মানুষের কঙ্কাল ও খুলি উদ্ধার করা হয়।
এছাড়া, ভারি কংক্রিটের নিচে চাপা পড়ে আজীবন পঙ্গুত্ব বরণ করেছে কয়েকশ শ্রমিক। মৃত এবং গুরুতর আহত এসব শ্রমিকদের পরিবার দুর্ঘটনার আট মাস পর এখনো পর্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করছে।
এ ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি তহবিল এবং বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে পাওয়া নগদ অর্থ নিহতদের পরিবারকে দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর তহবিলে ব্যাংকসহ বিভিন্ন পক্ষ থেকে ১২০ কোটি টাকা দেয়া হয়েছে। সেই তহবিল থেকে প্রধানমন্ত্রী এ পর্যন্ত ২৫ কোটি টাকার মতো দিয়েছেন। পর্যায়ক্রমে বাকিটা দেয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
তবে এখনো পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত সবার হাতে সহায়তা পৌঁছায়নি। তাছাড়া যে সহায়তা পৌঁছেছে তা ওই পরিবারগুলোর ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য যথেষ্ট নয়।
এছাড়া নিহতদের পরিবার ও ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ৪টি আন্তর্জাতিক খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান প্রিমার্ক, এল কোর্টে ইংলেস, লোব্ল ও বন মার্শসহ বেশ কিছু পোশাক প্রস্তুতকারক ও শ্রমিক সংগঠন ৪০ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু সেগুলোর বাস্তবায়ন এখনো দৃষ্টিগোচর হয়নি।
Posted ১২:৪৫ | শুক্রবার, ২৪ জানুয়ারি ২০১৪
Swadhindesh -স্বাধীনদেশ | admin