নিজস্ব প্রতিবেদক,
ঢাকা: ১৮ দলের আহুত গণতন্ত্রের অভিযাত্রা ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ প্রতিহত করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে পুলিশ ও সরকারি দল। রোববার সকাল থেকে রাজধানীর নয়াপল্টনে গণজমায়েত হওয়ার কথা থাকলেও সেখানে গড়ে তোলা হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা বলয়। কোনো নেতাকর্মী নয়াপল্টনের ধারেকাছেও যেন ভিড়তে না পারে সে জন্য রণসাজে প্রস্তুত যৌথ বাহিনী। পুলিশের পক্ষ থেকে আগেই জানানো হয়েছে, নয়াপল্টনে কোনোধরনের গণজমায়েতের সুযোগ দেয়া হবে না।
রোববার সকালে রাজধানী ঘুরে কোথাও বিরোধী জোটের নেতাকর্মীদের কোনো তৎপরতা চোখে পড়েনি। র্যাব-পুলিশের পাশাপাশি আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের দেখা গেছে বিভিন্ন স্থানে টহল দিতে। রাজধানীতে ঢোকার আটটি পয়েন্টে কড়া নজরদারি রাখছে আওয়ামী লীগ। রাজধানীতে সাধারণ মানুষকেও ঢুকতে দিচ্ছে না তারা। সরকারি দল আগেই ঘোষণা দিয়েছে, মশা-মাছিও ঢুকতে দেয়া হবে না নগরীতে।
এদিকে, গুলশানে খালেদা জিয়ার প্রটোকল প্রত্যাহারের পর ব্যাপকসংখ্যক র্যাব-পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে তার বাসার সামনে। অভিযাত্রায় যোগ দেয়ার ব্যাপারে খালেদা জিয়া দৃঢ় প্রত্যয়ী হলেও তাকে বের হতে দেয়া হবে না বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রাজধানীবাসী চরম উৎকণ্ঠায় রয়েছেন। কখন কোথায় কী হয় সেই আশঙ্কায় তটস্থ সাধারণ মানুষ। নগরীতে আজও কোনো গণপরিবহণ চলছে না। যারা বিশেষ প্রয়োজনে বের হয়েছেন তারাও তল্লাশি ও হয়রানির মুখে পড়ছেন।
প্রসঙ্গত, চলমান আন্দোলনকে ধাপে ধাপে আরো বিস্তৃত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার দেশব্যাপী পঞ্চম দফায় অবরোধ কর্মসূচি শেষে গুলশানের নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিরোধীদলীয় নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ২৯ ডিসেম্বর ঢাকা অভিমুখে অভিযাত্রা মার্চ ফর ডেমোক্রেসি কর্মসূচির ঘোষণা করেন। ‘একতরফা প্রহসনের নির্বাচনকে ‘না’ ও গণতন্ত্রকে ‘হ্যাঁ’ বলতে জাতীয় পতাকা হাতে সারাদেশের সর্বস্তরের মানুষকে নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মিলিত হওয়ার আহ্বান জানান। এর পরদিনই নয়াপল্টনে গণজমায়েতের অনুমতি ও নিরাপত্তা চেয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারকে দুটি চিঠি দেয়া হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছেও ফ্যাক্স যোগে চিঠি পাঠায় বিএনপি। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কোনোধরনের গণজমায়েতের সুযোগ দেয়া হবে না। সরকারও এই কর্মসূচি প্রতিহতের ঘোষণা দেয়।