October 21, 2020, 1:52 pm

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি :
দেশ ও বিদেশের প্রতিটি থানা, উপজেলা, জেলা, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য প্রতিনিধি আবশ্যক । আগ্রহী প্রার্থীদের বায়োডাটা ও ছবিসহ আবেদন করতে অনুরোধ জানানো যাচ্ছে । বরাবর, সম্পাদক, দৈনিক স্বাধীনদেশ । news@swadhindesh.com
সংবাদ শিরোনাম :
করোনায় আরও ২৪ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১৫৪৫ ভোটার উপস্থিতি কম থাকার জন্য বিএনপিকে দায়ী করলেন কাদের মাধ্যমিকে বার্ষিক পরীক্ষা বাতিল সরকারের মেগা প্রজেক্টে মেগা দুর্নীতি চলছে: ফখরুল ১০ অঞ্চলে আজ ঝড়বৃষ্টি হতে পারে বিএনপির সাবেক এমপি নুরুল ইসলাম আর নেই দুই ঘণ্টা পর নিভল তেজগাঁওয়ের টায়ার কারখানার আগুন কঙ্গোর কারাগারে হামলা, পালিয়েছে ১৩শ’ বন্দি করোনায় আরো ১৮ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১৩৮০ মুক্তিযোদ্ধাদের নতুন তালিকা ১৬ ডিসেম্বর: মন্ত্রী বিএনপির মতো ব্যর্থ বিরোধীদল ইতিহাসে কেউ দেখেনি: কাদের সেচ সম্প্রসারণসহ ১৬৬৮ কোটি টাকার ৪ প্রকল্প অনুমোদন আদালতে ক্যাসিনো সম্রাট, মুক্তি চেয়ে নেতাকর্মীদের স্লোগান আজ ২০৮ উপজেলা-ইউনিয়ন পরিষদে ভোটগ্রহণ চলছে দেশের ৭ অঞ্চলে আজ ঝড়-বৃষ্টির আভাস বেতনে সংসার চলে না, পদত্যাগ করতে চান ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন! হবিগঞ্জ থেকে সব বাস-মিনিবাস চলাচল বন্ধ মুজিববর্ষ উদযাপনে আগামী বছর ঢাকায় আসতে পারেন এরদোয়ান রিজভীর অনুপস্থিতিতে বিএনপির কেন্দ্রীয় দফতরের দায়িত্বে প্রিন্স আইজিপির সাথে কানাডিয়ান হাইকমিশনারের সাক্ষাত
সন্তানদের যে আমলের অভ্যাস করানো জরুরি

সন্তানদের যে আমলের অভ্যাস করানো জরুরি

ধর্ম ডেস্ক: সৌভাগ্যবান ওইসব ব্যক্তি, মৃত্যুর পরও যাদের আমলনামায় সাওয়াব যোগ হতে থাকে। সৌভাগ্যের অধিকারী এসব ব্যক্তি প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিসের ওপরই আমল করে গেছেন। নিজ নিজ সন্তানদেরও ওই হাদিসের আলকারী হিসেবে তৈরি করে গেছেন।

 

দুনিয়ার জীবনে তারা যেমন দান-সাদকা ও উপকারী জ্ঞান বিতরণ করেছেন ঠিক তেমনি নিজ পরিবারে রেখে গেছেন নেক সন্তান ও উত্তরাধিকার। যারা নিয়মিত সুন্নাতের ওপর আমল করে চলছেন। হাদিসে পাকে এসেছে-

হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যখন মানুষ মৃত্যুবরণ করে তখন তার সব আমল (সাওয়াব লাভের পথ) বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু তিনটি আমল ব্যতিত। তা হলো-
– صَدَقَةٍ جَارِيَةٍ বা চলমান দান;
– عِلْمٍ يُنْتَفَعُ بِهِ ইলমিন ইয়ানতাফাউ বিহি বা এমন ইলম (জ্ঞান) যা দ্বারা উপকৃত হওয়া যায়।
– وَلَدٍ صَالِحٍ يَدْعُو لَهُ আর এমন নেক সন্তান (রেখে যাওয়া), যে (মৃত্যুর পর) তার জন্য দোয়া করবে।’ (মুসলিম, তিরমিজি, মিশকাত)

 

– যে দান দীর্ঘদিন মানুষের কল্যাণে আসে
এমন দান-অনুদান করা। যত দিন এর অস্তিত্ব থাকবে, ততদিন তার বিনিময়ে দানকারীর আমলনামায় সাওয়াব পৌঁছতে থাকবে। হাদিসে পাকে এর একটি উদাহরণ এসেছে-
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘যে মুসলিম অপর মুসলিমকে একটি কাপড় পরাবে, যতক্ষণ ওই ব্যক্তি কাপড়ের একটি টুকরোও তার গায়ে ব্যবহার করবে, ততক্ষণ পর্যন্ত দানকারী আল্লাহর হেফাজতে থাকবে।’ (মিশকাত)

 

এভাবে যেসব দান-সহযোগিতায় ব্যক্তি, পরিবার, সমাজের উপকার হয়; তথা মাদরাসা, মসজিদ, পাঠাগার, হাসপাতাল, ইয়াতিমখানা, রাস্তাঘাট, কালভার্ট, ব্রিজ, গরিব-অসহায় মানুষের জন্য কল্যাণ ফান্ড, পাবলিক টয়লেট, রাস্তার পাশে ছায়া ও ফল দেয়া গাছ-গাছালি, সুন্দর পরিবেশসহ জনকল্যাণমূলক যে কোনো কাজে সাওয়াবের নিয়তে দান সহযোগিতা করা। এসব কাজের সাওয়াব মানুষের মৃত্যুর পর আমলনামায় যোগ হতে থাকবে।

 

– যে ইলম মানুষের জন্য উপকারি
যে শিক্ষায় মানুষের দুনিয়া ও পরকালের জীবনের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে এমন যে কোনো জ্ঞানদান বা শিক্ষার প্রচার ও প্রসারের সাওয়াবও মানুষের আমল নামায় যোগ হতে থাকবে। হাদিসে এসেছে-

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমাদের মধ্যে ওই ব্যক্তি উত্তম যে নিজে কুরআন শেখে এবং অন্যকে শেখায়।’ হাদিসে অন্যকে শেখানোর দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তি সাওয়াব পাবে। এভাবে যত মানুষকে কুরআন-হাদিস, ইসলামি জ্ঞানসহ দুনিয়া ও পরকালে কল্যাণে যেসব জ্ঞান শেখাবে, এর যথাযথ কল্যাণমূলক বাস্তবায়নে মৃত্যুর পরও আমলনামায় পৌঁছতে থাকবে সাওয়াব আর সাওয়াব।

– রেখে যাওয়া নেক সন্তান
দান-সহযোগিতার মধ্যে সেই খরচ বা দানই উত্তম, যা নিজ পরিবারের জন্য করা হয়। নিজের সন্তান-সন্তুতিকে যদি দানের প্রতি উৎসাহিত করা যায়, জ্ঞানার্জনের পর জনসেবায় জ্ঞানের বিতরণকারী বানানো যায় এবং বাবা-মা ও আত্মীয়স্বজনকে ভালোবাসার অনুভূতি ও উপলব্ধির দিকে ধাবিত করা যায়। এসব সন্তানই মৃত্যুর পর বাবা-মা ও নিকটাত্মীয়দের জন্য দুই হাত তুলে দোয়া করবে। এ দোয়া মানুষের কাজে আসবে।

 

প্রজন্মের পর প্রজন্ম এভাবে চলতে থাকলে নেক সন্তানের দোয়া থেকে বঞ্চিত হবে না কোনো নেককার মানুষ। এ কারণেই বাবা-মা ও নিকটাত্মীয়রা সচেতন হলে সন্তান-সন্তুতিও হয়ে ওঠে নেককার এবং সচেতন। হাদিসে পাকে এ নেক সন্তানের কথাই বলা হয়েছে। যারা আল্লাহর কাছে এভাবে প্রার্থনা করবে-
– رَبَّنَا اغْفِرْ لِي وَلِوَالِدَيَّ وَلِلْمُؤْمِنِينَ يَوْمَ يَقُومُ الْحِسَابُ
উচ্চারণ : ‘রাব্বানাগফিরলি ওয়ালেওয়ালেদাইয়্যা ওয়া লিল মুমিনিনা ইয়াওমা ইয়া কুমুল হিসাব।’ (সুরা ইবরাহিম : আয়াত ৪১)
অর্থ : ‘হে আমাদের পালনকর্তা! আমাকে, আমার বাবা-মাকে এবং সব মুমিনকে ক্ষমা করুন, যেদিন হিসাব কায়েম হবে।’

– رَّبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِي صَغِيرًا
উচ্চারণ : ‘রাব্বির হামহুমা কামা রাব্বাইয়ানি সাগিরা।’ (সুরা বনি ইসরাইল : আয়াত ২৪)
অর্থ : ‘হে আমাদের পালনকর্তা! তাদের উভয়ের প্রতি রহম করুন; যেমনিভাবে তারা আমাকে শৈশবকালে লালন-পালন করেছেন।’

 

সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, হাদিসের এ শিক্ষা ও নসিহত অনুযায়ী জীবন গঠন করা। মৃত্যুর পরও আমলনামায় সাওয়াব যোগ হওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণে দুনিয়াতেই কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা। আর তাতে মিলবে দুনিয়া ও পরকালের প্রকৃত সফলতা।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে হাদিসের ওপর আমল করার তাওফিক দান করুন। পরকালের চিরস্থায়ী জীবনের কল্যাণে সাওয়াব লাভের এ নসিহত ও শিক্ষা গ্রহণ করার তাওফিক দান করুন। নিজ নিজ সন্তানদের এ শিক্ষার আলোকে গড়ে তোলার তাওফিক দান করুন। আমিন।

Please Share This Post in Your Social Media

Comments are closed.




© All rights reserved © 2011-2020 www.swadhindesh.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com